1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

বার্লিনে প্রখ্যাত লেখক সালমান রুশদি

সালমান রুশদি-র আত্মজীবনীর নাম ‘‘জোসেফ আন্টন’’৷ আয়াতোল্লাহ খোমেনি-র ফতোয়ার পর রুশদির অনিশ্চয়তা, তাঁর অস্থির জীবনের কাহিনি যার উপজীব্য৷ বার্লিনের ‘লিটারাটুয়রফেস্ট’ বা সাহিত্যোৎসবে এসেছিলেন বিতর্কিত লেখক৷

‘‘জায়গাটা কি পুরোপুরি নিরাপদ? ফতোয়া তো এখনও জারি আছে, নয় কি?'' সাংবাদিক সম্মেলনে রুশদির আবির্ভাবের আগে প্রশ্ন করছিলেন এক সাংবাদিক৷ ১৯৮৯ সালে সেই ফতোয়া জারি হওয়ার পর রুশদিকে বারংবার পলায়ন, গোপন আশ্রয় বদল, পুলিশি সুরক্ষা, এমন নতুন এক পরিচয়ের বিভীষিকাময় জীবনযাপন করতে হয়৷ ‘‘জোসেফ আন্টন'' সেই জীবনের কাহিনি৷

দশ বছর ধরে সালমান রুশদি ‘জোসেফ আন্টন' পরিচয় নিয়ে বেঁচে ছিলেন৷ অথচ বার্লিনের সাহিত্যোৎসবে রুশদি সাংবাদিক সম্মেলন করলেন, পরে নিজের রচনা থেকে পড়লেন – এ সবই ঘটলো নামমাত্র নিরাপত্তার মধ্যে৷ না পুলিশ, না অতিথি-অভ্যাগতদের ব্যাগ সার্চ৷ সব সত্ত্বেও তিনি নিরাপদ বোধ করছেন কিনা, এ প্রশ্নের জবাবে ৬৬ বছর বয়সি রুশদি বললেন: ‘‘আপনার যদি নিরাপত্তার প্রয়োজন থাকে, তবে আপনি কিছু নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে পারেন৷''

Der britisch-indische Autor Salman Rushdie stellt seine Autobiografie in Berlin vor. Copyright: DW/H. Kiesel

আয়াতোল্লাহ খোমেনি-র ফতোয়ার পর রুশদির অনিশ্চয়তা, তাঁর অস্থির জীবনের কাহিনি নিয়ে লেখা বই বার্লিনের সাহিত্যোৎসবে

তিনি নিজে খুব ভালোই বোধ করছেন, জানালেন রুশদি৷ তবে তাঁকে প্রথম দু'টি প্রশ্নই শুনতে হয়েছে ‘‘নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদ'' সম্পর্কে, জানালেন রুশদি৷ এটা তাঁকে হতাশ করেছে৷ এবার তাঁকে সাহিত্য সংক্রান্ত কিছু প্রশ্ন করলে তিনি খুশি হবেন, ব্যঙ্গ করে বললেন রুশদি – একবারও ফতোয়ার উল্লেখ না করে৷

‘‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস'' সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য: চরম দুঃখের দিনেও তাঁর অন্তরের সেই ‘‘খুদে লেখক''-টি তাঁর কাঁধে চেপে বসে থেকেছে এবং (তাঁর) কানে কানে বলেছে: ‘লেখাটা বেশ ভালোই হয়েছে৷' লেখা বলতে ‘জোসেফ আন্টন'৷ লিখতে চার বছর সময় লেগেছে বলে জানান রুশদি৷ তাহলে কি তিনি কোনোদিনই ভাবেননি, স্যাটানিক ভার্সেস না লিখলেই ভালো হতো? ‘‘জানেন? গত বারো বছর ধরে আমাকে প্রতিদিন এই প্রশ্নটা শুনতে হয়েছে৷''

না, রুশদি তাঁর বিতর্কিত রচনা সম্পর্কে বলেন, তিনি বইটি সম্পর্কে গর্ববোধ করেন এবং তিনি যে ভাবে এই ‘‘অবিশ্বাস্য আক্রমণ'' সামলে উঠতে পেরেছেন, সে বিষয়ে গর্ববোধ করেন৷ কিন্তু আজ তাঁর বইটি সাধারণভাবে পড়া হচ্ছে, ব্যক্তিগতভাবে কিংবা পাঠক্রমের অঙ্গ হিসেবে৷ কিছু মানুষের বইটা ভালো লাগে, কিছুর লাগে না: কিন্তু সেটাই একটি বই-এর ‘‘সাধারণ জীবন''৷

‘‘অবশেষে বইটা একটা সাধারণ জীবনযাপন করতে পারছে, যা তা এতদিন পারেনি'' – যা হয়তো রুশদির নিজের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য

নির্বাচিত প্রতিবেদন