1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

বার্লিনে চেহারা শনাক্ত করবে ক্যামেরা!

আগস্ট থেকে বার্লিনের এক ট্রেন স্টেশনে শুরু হচ্ছে বিশেষ ক্যামেরা দিয়ে চেহারা সনাক্ত করার পরীক্ষা৷ কিন্তু এ নিয়ে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক৷ পরীক্ষা সফল হলে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা কি হুমকির মুখে পড়বে?

কে কাকে দেখবে?

বিশেষ এই নজরদারি ক্যামেরা কেমন কাজ করে, জানতে প্রাথমিকভাবে বেছে নেয়া হয়েছে বার্লিনের স্যুডক্রয়েৎস ট্রেন স্টেশনকে৷ জার্মান রেল সংস্থা ডয়চে বানের সাথে মিলে যৌথভাবে এই পরীক্ষা চালাবে জার্মান ফেডারেল পুলিশ, ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়৷

প্রায় ২৫০ স্বেচ্ছাসেবক এই কাজের জন্য নাম লিখিয়েছেন৷ ক্যামেরা যাতে চেহারার সাথে মেলাতে পারে, সেজন্য প্রত্যেকের নাম ও দুই কপি করে ছবি জমা করা হয়েছে একটি ডেটাবেসে৷

কীভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি?

প্রাথমিক পরীক্ষার জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রবেশমুখ এবং সিঁড়ি দিয়ে কারা আসা-যাওয়া করে দেখার অন্য তিনটি ক্যামেরা বসানো হয়েছে৷ একটি কম্পিউটার এই তিন ক্যামেরা থেকে পাওয়া ফুটেজের সাথে ডেটাবেসে থাকা ছবির চেহারা মিলিয়ে দেখবে৷ স্বেচ্ছাসেবকরা এই নির্দিষ্ট এলাকা দিয়েই যাওয়া আসা করবেন৷ সবাইকে একটি করে ট্রান্সমিটার দেয়া হয়েছে, যাতে তারা যখন প্ল্যাটফর্মে আসেন, তখনই ক্যামেরা মনিটরিং শুরু করতে পারে৷

এই প্রযুক্তির পরীক্ষা কেন দরকার?

সন্ত্রাস ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ হিসেবেই এই বিশেষ ক্যামেরা, বলছে পুলিশ৷ তারা বলছে, এই নতুন প্রযুক্তি অপরাধ ও বিপজ্জনক পরিস্থিতি আগেই শনাক্ত ও প্রতিরোধ করতে সহায়তা করবে৷ চলচ্চিত্রে অনেক আগে থেকেই এই প্রযুক্তির মাধ্যমে অপরাধী খুঁজে বের করার গল্প দেখানো হলেও, বাস্তব জগতে এই প্রযুক্তি কখনও চালু হয়নি৷

তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এই প্রযুক্তির ভুল হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে বেশি বিচলিত৷ তাদের মতে প্রতি ১০ লাখে একটি ভুল হওয়ার সম্ভাবনা এতে থেকেই যায়৷ শহরজুড়ে প্রতিদিন গণপরিবহণে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ যাতায়াত করে৷ ফলে প্রতিদিন অন্তত তিনজন ব্যক্তি ভুলভাবে শনাক্ত হওয়ার আশংকা করছেন তারা৷

তথ্যের গোপনীয়তা কি থাকছে?

ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তার সমর্থকরা বলছেন, চেহারা শনাক্ত করার এই প্রযুক্তি বেআইনি৷ জার্মানির ফেডারেল ডেটা প্রোটেকশন কমিশনার আন্দ্রে ফসহফ এই প্রযুক্তির প্রাথমিক ব্যবহার মেনে নিলেও এর ‘মৌলিক বিষয়ে আপত্তির' কথাও বলছেন তিনি৷ তিনি বলেন, ‘‘যদি সত্যিকার অর্থেই এই ব্যবস্থা চালু হয় তাহলে মৌলিক অধিকারের ওপর একটি বড় হস্তক্ষেপ হবে এটি৷''

‘‘যে কোনো স্থানে পরিচয় গোপন করে চলাফেরা করার অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে এতে, ''বলছিলেন সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট পার্টির ইন্টারনেট ও ডেটা প্রোটেকশন বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টোফার লাউর৷ ‘‘সে তুলনায় এর থেকে যে সুবিধা পাওয়া যাবে, তার পরিমাণ প্রায় শূন্যের কোঠায়৷''

পরীক্ষার পরের ধাপ কী?

কর্তৃপক্ষ বোঝার চেষ্টা করছে, ক্যামেরা এবং কম্পিউটার কতটা নির্ভুলভাবে মানুষের চেহারা শনাক্ত করার ক্ষমতা রাখে৷ পরবর্তী ব্যবহার অনেকটাই নির্ভর করছে কতটা সফল হবে এই প্রযুক্তি৷

বার্লিনের বিভিন্ন স্টেশনে এরই মধ্যে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার সংখ্যা বাড়াচ্ছে ডয়চে বান৷ দেশজুড়ে প্রায় ৬ হাজার ক্যামেরা ৮০ শতাংশ যাত্রীকে পর্যবেক্ষণ করে৷ ক্যামেরার নেটওয়ার্ক শহরতলীতে ছড়িয়ে দিতে কয়েক মিলিয়ন ইউরো বাজেট প্রয়োজন৷ রেলস্টেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন সাবওয়ে এবং বাসস্ট্যান্ডেও এরই মধ্যে কাজ করছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা৷

প্রযুক্তির অপব্যবহারের সুযোগ

যেসব ব্যক্তি ‘বিপজ্জনক বা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে', তাদের ‘চিহ্নিত ও তালিকাবদ্ধ' করাই এই প্রযুক্তির কাজ, দাবি জার্মান কর্তৃপক্ষের৷ তবে এর অন্য ব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না৷ স্টেশন, ট্রেন ও এর আশেপাশে যারা গ্র্যাফিতি শিল্পী আছেন, তাদের আটকাতেও এই প্রযুক্তি কাজে লাগাতেই পারে ডয়চে বান৷

শুধুমাত্র ডেটাবেসে সংরক্ষিত ছবির সাথেই ফুটেজ মিলিয়ে দেখতে পারে এই প্রযুক্তি৷ এখন শুধু স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর পরীক্ষা চালনো হলেও, পরবর্তীতে সন্দেহভাজনদের ওপর চালানো হবে এ নজরদারি৷

কিন্তু চাইলেই কোনো দেশের সরকার এই ডেটাবেসে যে কোনো তথ্য মজুদ করতে পারবেন৷ এর ফলে ইন্টারনেট এবং ব্যক্তিগত জীবনের ওপর অন্যান্য হস্তক্ষেপেরপাশাপাশি যোগ হতে পারে নতুন ধরনের নজরদারি৷

মাক্সিমিলিয়ানে কশচিক/এডিকে

নির্বাচিত প্রতিবেদন