1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

বার্লিনের হুমবল্ট ইউনিভার্সিটি

বার্লিনের হুমবল্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮১০ সালে৷ অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষে বেশ কিছু জার্মান পণ্ডিত সিদ্ধান্ত নেন এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ার, যেখানে শিক্ষা এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণা আর আলোচনার সুযোগ থাকবে৷

default

হুমবল্ট ইউনিভার্সিটি

বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার কথা ভাবেন ভিলহেল্ম ফন হুমবল্ট৷

এরপর ১৮১০ সালের অক্টোবর মাসে মাত্র চারটি অনুষদ নিয়ে যাত্রা শুরু করে হুমবল্ট বিশ্ববিদ্যালয়৷ এগুলি হচ্ছে আইন, চিকিৎসাবিদ্যা, দর্শন এবং ধর্মতত্ত্ব৷ ১৮৩১ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব়য়্যাল লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগার৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি বাহিনী ইহুদী অধ্যাপক এবং গবেষকদের লেখা প্রতিটি বই পুড়িয়ে ফেলে৷ ১৯৩৩ সালের দশই মে ঘটে এ ঘটনা৷

বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে প্রায় ৩৫ হাজার ছাত্র-ছাত্রী৷ এর মধ্যে ১৫ শতাংশেরও বেশি বিদেশি৷ জার্মানির অন্যতম জনপ্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে হুমবল্ট বিশ্ববিদ্যালয় একটি৷ গত ২০ বছরে এই জনপ্রিয়তা আরো বেড়েছে৷ এর মূল কারণ হল, রাজধানী বার্লিন শহরে বিশ্ববিদ্যালয়টি অবস্থিত৷ রাজনৈতিক অঙ্গনের সব টাটকা খবর দ্রুত এসে পৌঁছয় বিশ্ববিদ্যালয়ে৷ এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২৯

Studenten lernen in einer Bibliothek an der Humboldt-Universitaet in Berlin

লাইব্রেরিতে চলছে পড়াশোনা

জন গবেষক নোবেল পুরস্কার জিতেছেন৷

আবেদন পত্র জমা দেওয়া

হুমবল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে সবমিলিয়ে ১১টি অনুষদ৷ এই অনুষদগুলোর অধীনে রয়েছে প্রায় ২৫৮টি বিভিন্ন বিষয়৷ এই বিষয়গুলো নিয়ে গ্র্যাজুয়েশন এবং মাস্টার্স করার সুযোগ দিচ্ছে হুমবল্ট ইউনিভার্সিটি৷ বছরে দু'বার ভর্তির জন্য আবেদন পত্র জমা নেওয়া হয়৷ গ্রীষ্মকালীন সেমেস্টারের জন্য আবেদন পত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ প্রতি বছর ১৫ই জানুয়ারি এবং শীতকালীন সেমেস্টারের জন্য আবেদন পত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ প্রতি বছর ১৫ই জুলাই৷

ভারতের ছাত্রী নিত্য বিশ্বনাথ৷ তিনি হুমবল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছেন৷ তিনি তিনবছর জার্মানিতে থাকবেন৷ তিনি ডিএএডি থেকে বৃত্তি পেয়েছেন পিএইচডি সম্পন্ন করার জন্য৷ বৃত্তি পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বললেন,‘‘ আমি ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমার আবেদন পত্র পাঠাই৷ আমর সব প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র পাঠাই নতুন দিল্লিতে৷ গত বছর নভেম্বর মাসে টেলিফোনে আমার ইন্টারভিয়্যু নেওয়া হয়৷ এরপরই আমাকে পিএইচডি-র জন্য বেছে নেওয়া হয়৷''

জার্মান ভাষাজ্ঞান

হুমবল্ট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির জন্য যা যা প্রয়োজন, তা হল নিজ দেশের সর্বোচ্চ ডিগ্রী অর্জন করা৷ এবং পরীক্ষার ফলাফল অত্যন্ত ভাল হতে হবে৷ এই বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সের বেশ কিছু বিষয় ইংরেজিতে পড়ানো হয়৷ তবে ভর্তির জন্য জার্মান ভাষা জানার প্রয়োজন রয়েছে৷ ভর্তির জন্য ভাষাজ্ঞানের যে পরীক্ষাটি পাশ করতে হবে, সেই পরীক্ষার নাম ‘বে আইন্স' বা বি ওয়ান৷ এই পরীক্ষা বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ঢাকাস্থ গ্যোটে ইন্সটিটিউট বা ভারতের কোনো

Humboldt-Universität zu Berlin Bibliothek

মাক্স-মুলার ভবনে আপনারা যোগাযোগ করতে পারেন৷

এছাড়া যে সব বিষয় জার্মান ভাষায় পড়ানো হয়, সে বিষয় নিয়ে গ্র্যাজুয়েশন বা মাস্টার্স করতে হলে জার্মান ভাষায় বেশ ভাল দক্ষতা থাকা প্রয়োজন৷ তার জন্য যে পরীক্ষায় পাশ করতে হবে তার নাম ‘ডেএসহা' বা ‘ডিএইচএস'৷ আগেই বলে দিচ্ছি, পরীক্ষাটি বেশ কঠিন৷ তবে বেশ কয়েকবার পরীক্ষাটি দেওয়ার অনুমতি বিশ্ববিদ্যালয় দেবে৷

আরো বেশ কয়েকটি জার্মান ভাষায় পরীক্ষা রয়েছে, সেগুলোর সার্টিফিকেট দেখালে ডিএইচএস না দিলেও চলবে৷ সেগুলো হল ‘ডয়চেস স্প্রাখডিপ্লোম', ‘সেন্ট্রালে ওবারস্টুফেনপ্রুফুং', ‘ক্লাইনেস ডয়চেস স্প্রাখডিপ্লোম' এবং ‘টেস্ট ডাফ'৷ এই পরীক্ষাগুলো ডিএইচএস থেকে অপেক্ষাকৃত সহজ৷

যেসব ছাত্র-ছাত্রী জার্মানিতে গবেষণার জন্য আসতে চায় তাদের জন্য নিত্যর পরামর্শ দিলেন, ‘‘ যে সব বিষয় জটিল বা যে সব নিয়ে কাজ করা হয়নি এমন বিষয়গুলো নিয়ে জার্মানি কাজ করতে আগ্রহী৷এরপর সেই বিশ্ববিদ্যালয় বা অধ্যাপক খুঁজে বের করতে হবে যে এই বিষয় নিয়ে কাজ করতে চায় বা করছে৷ এরপর যত দ্রুত সম্ভব সেই অধ্যাপকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে৷ বৃত্তির জন্য ডিএএডি-র সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে৷ এছাড়া রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন স্কলারশিপ৷''

বৃত্তি না পেলে ?

বৃত্তি ছাড়া কেউ যদি আসতে চান, তাহলে তাদের জানাচ্ছি প্রতি মাসে খরচ পড়বে প্রায় ৬০০ ইউরোর মত৷ কোন কোন ক্ষেত্রে জার্মান দূতাবাসকে অন্তত এক বছরের খরচ দেখাতে হয়, তা না হলে ভিসা দিতে অস্বীকার করতে পারে দূতাবাস৷

বেশ কিছু জার্মান প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা বিদেশি ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তি দিয়ে থাকে৷ এসব সংস্থার মধ্যে ডিএএডি উল্লেখযোগ্য৷ এছাড়া বৃত্তি সংক্রান্ত তথ্য পেতে ঢাকাস্থ গ্যোটে ইন্সটিটিউট বা ভারতের কোনো মাক্স-মুলার ভবনে যোগাযোগ করা যেতে পারে৷

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়