1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

বার্লিনের শরণার্থী শিবিরের কাজ আজও শেষ হয়নি

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ‘ঠাণ্ডা লড়াই’-এর সূচনায় খোলা হয়েছিল মারিয়েনফেল্ডে শরণার্থী শিবির৷ সেযাবৎ লক্ষ লক্ষ মানুষকে সাময়িকভাবে আশ্রয় দেবার পরও, নতুন যুগের শরণার্থীদের এখনো সেখানে আসা বন্ধ হয়নি৷

১৯৫৮, সাল, মারিয়েনফেল্ডে, পূর্ব জার্মানি, উদ্বাস্তু, মারিয়েনফেল্ডে, শরণার্থী, শিবির, বার্লিন, বিশ্বযুদ্ধ, Germany, Berlin, Asylum, Political, Social, Life, Europe,

মারিয়েনফেল্ডে শরণার্থী শিবির

বার্লিনের মারিয়েনফেল্ডে এলাকায় দশটি উঁচু উঁচু বাড়ি, তা'তে ছোট ছোট সাধারণ ফ্ল্যাট - অবশ্য সমৃদ্ধ দেশ জার্মানির হিসাবে৷ জল, বিদ্যুৎ, সেন্ট্রাল হিটিং, সব কিছুরই ব্যবস্থা আছে৷ তথাকথিত ঠাণ্ডা লড়াই'এর যুগে কম্যুনিস্ট পূর্ব ইউরোপ থেকে যে সব মানুষরা পালিয়ে আসতেন, তাঁদের চোখে এই মারিয়েনফেল্ডেই হয়তো অত্যাধুনিক, বিলাসবহুল আবাসন বলে মনে হতো৷ এবং আজও মারিয়েনফেল্ডেকে সেই চক্ষে দেখার মতো মানুষ আছেন, যদিও তাঁরা আর পূর্ব ইউরোপ থেকে আসেন না৷

Notaufnahmelager Marienfelde Berlin 1958

১৯৫৮ সালে মারিয়েনফেল্ডেতে পূর্ব জার্মানি থেকে আগত উদ্বাস্তুদের সারি

এখন এই শান্তি, স্বাধীনতা, স্বচ্ছলতাকামী মানুষগুলি আসেন কসোভো, চেচনিয়া, আফগানিস্তান, সোমালিয়া ইত্যাদি দেশ থেকে৷ অনেক ক্ষেত্রেই স্বামী-স্ত্রী, সঙ্গে একাধিক শিশুসন্তান৷ কোনো ক্ষেত্রে আবার মাত্র ২০ বছর বয়সের এক কি একাধিক তরুণ, হয়তো সোমালিয়া থেকে পালিয়ে এসেছে৷ - মারিয়েনফেল্ডে ছাড়াও বার্লিনে একাধিক শরণার্থী হোস্টেল আছে৷ তাদের কোনো একটিতে এদের স্থান হয়ে যায়৷ তখন হয়তো তারা রাজনৈতিক আশ্রয় পাবে কি পাবে না, তার বিচার চলেছে৷ এবং বহু ক্ষেত্রেই মাস তিনেকের মধ্যেই জানা যায় যে, তারা রাজনৈতিক আশ্রয় পাবে না, তাদের ‘স্বদেশে' ফেরত যেতে হবে৷ যেমন সার্বিয়া থেকে আগত অধিকাংশ জিপসিদের৷

উদ্বাস্তু হিসেবে স্বীকৃতির প্রক্রিয়া চলাকালীন শরণার্থীদের কাজ করে অর্থোপার্জন করার অধিকার নেই৷ তবে সরকারের অনুমোদিত নানা রিলিফ কার্যে তারা অংশ নিতে পারে৷ সব সত্ত্বেও, কেউই যুদ্ধ-বিগ্রহ, বৈষম্য এবং অভাব-অনটনের বিভীষিকায় আর প্রত্যাবর্তন করতে চায় না৷ অথচ জার্মানি অভিমুখে উদ্বাস্তুর স্রোত কিন্তু আগের মতো নেই৷ তাই সরকারি কর্মকর্তারা ২২,০০০ বর্গমিটারের মারিয়েনফেল্ডে শরণার্থী শিবিরটিকে বন্ধ করে দেওয়ার কথাই ভাবছিলেন৷

কিন্তু গত ডিসেম্বর থেকে রাজনৈতিক প্রার্থীদের একটা বড় ঢেউ আবার বার্লিনে এসে পৌঁছতে শুরু করেছে - বিশেষ করে আফগানিস্তান, সোমালিয়া, ইরাক এবং ইরান থেকে৷ কাজেই কর্তৃপক্ষ আবার মারিয়েনফেল্ডে খুলতে বাধ্য হয়েছেন৷ ২০১০-এ বার্লিনে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের সংখ্যা ছিল প্রায় ২,০০০৷ সেই সংখ্যা নাকি ২০১১-তে আরো অনেক বাড়বে৷

আর মারিয়েনফেল্ডে দেখবে শান্তি, স্বাধীনতা, স্বচ্ছলতার সন্ধানে মানুষের নিরুদ্দেশযাত্রা কোনোদিন বন্ধ হয়নি, এবং হয়তো কোনোদিন বন্ধ হবে না৷

প্রতিবেদন: অরুণ শঙ্কর চৌধুরী

সম্পাদনা: হোসাইন আব্দুল হাই