1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

বার্লিনের প্রার্থনাগৃহ হবে ত্রিবেণী সঙ্গম

এটি গির্জা নয়, মসজিদ নয়, নয় সিনাগগ; বরং এটি হবে খ্রিষ্টান, মুসলমান আর ইহুদিদের মিলনস্থল৷ আরব থেকে পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া তিন ধর্মের অনুসারীদের এক ছাদের নীচে আনতে বার্লিনে গড়ে তোলা হচ্ছে এই প্রার্থনাগৃহ৷

default

এটা সেই প্রার্থনাগৃহের নকশা যার একই ‘ফ্লোরে' মুসলমান, খ্রিস্টান ও ইহুদিদের জন্য সমান জায়গা থাকবে

সব ঠিক থাকলে জার্মানির রাজধানী বার্লিনের প্রাণকেন্দ্রে সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে ২০১৮ সাল নাগাদ মাথা তুলে দাঁড়াবে এই ‘প্রার্থনা ও শিক্ষাগৃহ', যেমনটি বিশ্বের আর কোথাও নেই বলে উদ্যেক্তাদের দাবি৷

একজন যাজক, একজন ইমাম এবং একজন রাব্বি বেশ কয়েক বছর ধরে এ পরিকল্পনা এগিয়ে নিলেও ৪ কোটি ৪০ লাখ ইউরো বাজেটের এ উদ্যোগের জন্য অর্থ সংগ্রহ শুরু হয়েছে গত সপ্তাহে৷ উদ্যোক্তারা বলছেন, কেবল সর্বধর্মের সহাবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরাই তাঁদের উদ্দেশ্য নয়, বার্লিনের বহু সংস্কৃতির সম্মিলনের আবহও তারা এই প্রার্থনাগৃহে আনতে চান৷

Berlin Gebetshaus House of One christlich, jüdisch, muslimisch

যে স্থানে প্রার্থনাগৃহটি হবে সেখানে ইট নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন (বা থেকে) খ্রিস্টান যাজক গ্রেগর হোব্যার্গ, ইহুদি রাব্বি টোফিয়া বেন-শোরিন ও মুসলিম ইমাম কাদির সানচি

এ প্রকল্পের পরিচালনা পর্ষদের প্রোটেস্ট্যান্ট সদস্য রোনাল্ড স্টোল্টে বলেন, ‘‘আমাদের মনে হয়েছে, তিন ধর্মের মানুষের মধ্যেই শান্তিপূর্ণ সম্মিলনের জোরালো আকুতি রয়েছে৷''

আর যে স্থানটি এই প্রার্থনাগৃহ নির্মাণের জন্য বেছে নেয়া হয়েছে, তার পেছনেও রয়েছে ধর্মীয় ইতিহাস৷ মধ্যযুগে গড়া সেন্ট পিটারের চারটি গির্জার মধ্যে একটি নির্মাণ করা হয়েছিল বার্লিনের ওই জায়গাটিতেই৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১০০ মিটার উঁচু সেই গির্জা দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷ এরপর ১৯৬০-এর দশকে তখনকার পূর্ব জার্মানির কমিউনিস্ট প্রশাসন সেটি গুঁড়িয়ে দেয়৷

এরপর দীর্ঘদিন সেটি ব্যবহৃত হয় গাড়ি রাখার জায়গা হিসাবে৷ ২০০৭ সালে পুরাতত্ত্ববিদরা মাটি খুঁড়ে সেই গির্জার ভিত উন্মুক্ত করার পর জমিটি স্থানীয় প্রোটেস্ট্যান্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়৷

স্টোল্টে বলেন, ‘‘আরেকটা গির্জা বানানোর জন্য আমরা এ জমি নিইনি৷ আমরা এমন একটি স্থাপনা তৈরি করতে চাই যা আজকের বার্লিনের জীবন আর ধর্মবিশ্বাসের কথা বলবে৷''

Berlin Gebetshaus House of One christlich, jüdisch, muslimisch

প্রার্থনাগৃহের নকশা করেছেন স্থপতি উইলফ্রেড কুন

সর্বশেষ শুমারির তথ্য অনুযায়ী, বার্লিনের ১৯ শতাংশ অধিবাসী প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিষ্টান৷ ৮.১ শতাংশ মুসলিম এবং ০.৯ শতাংশ ইহুদি৷ অন্যদিকে ৬০ শতাংশ বার্লিনবাসী জানিয়েছেন যে, তাঁরা কোনো ধর্মমতে বিশ্বাসী নন৷

‘প্রার্থনা ও শিক্ষাগৃহ' প্রকল্পের সদস্য খ্রিষ্টান যাজক গ্রেগর হোব্যার্গ বলেন, ‘‘প্রকল্পের শুরু থেকেই মুসলিম ও ইহুদি সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ আমরা চাইনি যে খ্রিষ্টানরা একটি গির্জা বানাক এবং পরে অন্য দুই ধর্ম এসে তাতে যোগ দিক৷''

এ প্রকল্পের মুসলিম প্রতিনিধি তুর্কি বংশোদ্ভূত ইমাম কাদির সানচি জানান, তরুণ বয়সে জার্মানির পশ্চিমাংশে একই গির্জায় ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্টদের সহাবস্থান দেখে এরকম একটি প্রার্থনাগৃহের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন তিনি৷

‘‘আমি তখন ফ্রাংকফুর্টে লেখাপড়া করি৷ ডার্মস্টাডে একই ছাদের নীচে ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্টদের গির্জা দেখে আমি সেখানকার পাদরিকে বলেছিলাম – একদিন মুসলমানরাও যদি এর সঙ্গে মিলতে পারে, তাহলে তা হবে দারুণ৷ উনি আমাকে বলেছিলেন, ‘ধৈর্য্য ধর বাছা, এ পর্যন্ত আসতে আমাদেরও ৬০ বছর লেগেছে...'৷''

২০১১ সালে প্রায় ২০০ নকশার মধ্যে থেকে স্থপতি উইলফ্রেড কুনের করা একটি নকশা এই প্রার্থনগৃহের জন্য চূড়ান্ত করা হয়৷ তিনি বলেন, ধর্মতত্ত্বের সঙ্গে স্থাপত্যকলা মিলিয়ে এই নকশা করা ছিল তাঁর পেশাগত জীবনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ৷

সেই নকশা অনুযায়ী, তিন ধর্মের অনুসারীদের জন্য প্রার্থনাগৃহের একই ‘ফ্লোরে' সমান জায়গা থাকবে৷ প্রতিটি অংশ আবার এসে মিলবে একটি ফাঁকা স্থানে যেখানে সবার মেলামশা ও আলাপচারিতার সুযোগ ঘটবে৷

গ্রেগর হোব্যার্গ বলেন, ‘‘শুরুতে একটি ঘরেই তিন ধর্মের প্রার্থনার ব্যবস্থা নিয়ে ভাবা হয়েছিল৷ তবে শেষ পর্যন্ত তা বাতিল করা হয়৷ আমাদের মনে হয়েছে, তেমন ব্যবস্থা করলে লোকে এখানে আসতে নিরুৎসাহিত হবে৷ আমরা গোড়া বিশ্বাসীদেরও এখানে আনতে চাই৷ আমরা তাঁদের দেখাতে চাই যে আন্তঃধর্ম সম্মিলন শুধু সম্ভই নয়, গুরুত্বপূর্ণও বটে৷''

এ প্রকল্পের জন্য অর্থ সংগ্রহে অভিনব কিছু উদ্যোগ নিয়েছে পরিচালানা পর্ষদ৷ ইতোমধ্যে একটি ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে যেখানে উৎসাহীরা তাদের অনুদান দিতে পারবেন৷ এমনটি ১০ ইউরো দিয়ে একটি ইট কিনে নিয়েও এ প্রকল্পে শামিল হওয়া যাবে৷

জেকে/ডিজি (এএফপি, এপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন