বার্লিনের প্রার্থনাগৃহ হবে ত্রিবেণী সঙ্গম | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 15.06.2014
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

বার্লিনের প্রার্থনাগৃহ হবে ত্রিবেণী সঙ্গম

এটি গির্জা নয়, মসজিদ নয়, নয় সিনাগগ; বরং এটি হবে খ্রিষ্টান, মুসলমান আর ইহুদিদের মিলনস্থল৷ আরব থেকে পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া তিন ধর্মের অনুসারীদের এক ছাদের নীচে আনতে বার্লিনে গড়ে তোলা হচ্ছে এই প্রার্থনাগৃহ৷

default

এটা সেই প্রার্থনাগৃহের নকশা যার একই ‘ফ্লোরে' মুসলমান, খ্রিস্টান ও ইহুদিদের জন্য সমান জায়গা থাকবে

সব ঠিক থাকলে জার্মানির রাজধানী বার্লিনের প্রাণকেন্দ্রে সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে ২০১৮ সাল নাগাদ মাথা তুলে দাঁড়াবে এই ‘প্রার্থনা ও শিক্ষাগৃহ', যেমনটি বিশ্বের আর কোথাও নেই বলে উদ্যেক্তাদের দাবি৷

একজন যাজক, একজন ইমাম এবং একজন রাব্বি বেশ কয়েক বছর ধরে এ পরিকল্পনা এগিয়ে নিলেও ৪ কোটি ৪০ লাখ ইউরো বাজেটের এ উদ্যোগের জন্য অর্থ সংগ্রহ শুরু হয়েছে গত সপ্তাহে৷ উদ্যোক্তারা বলছেন, কেবল সর্বধর্মের সহাবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরাই তাঁদের উদ্দেশ্য নয়, বার্লিনের বহু সংস্কৃতির সম্মিলনের আবহও তারা এই প্রার্থনাগৃহে আনতে চান৷

Berlin Gebetshaus House of One christlich, jüdisch, muslimisch

যে স্থানে প্রার্থনাগৃহটি হবে সেখানে ইট নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন (বা থেকে) খ্রিস্টান যাজক গ্রেগর হোব্যার্গ, ইহুদি রাব্বি টোফিয়া বেন-শোরিন ও মুসলিম ইমাম কাদির সানচি

এ প্রকল্পের পরিচালনা পর্ষদের প্রোটেস্ট্যান্ট সদস্য রোনাল্ড স্টোল্টে বলেন, ‘‘আমাদের মনে হয়েছে, তিন ধর্মের মানুষের মধ্যেই শান্তিপূর্ণ সম্মিলনের জোরালো আকুতি রয়েছে৷''

আর যে স্থানটি এই প্রার্থনাগৃহ নির্মাণের জন্য বেছে নেয়া হয়েছে, তার পেছনেও রয়েছে ধর্মীয় ইতিহাস৷ মধ্যযুগে গড়া সেন্ট পিটারের চারটি গির্জার মধ্যে একটি নির্মাণ করা হয়েছিল বার্লিনের ওই জায়গাটিতেই৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১০০ মিটার উঁচু সেই গির্জা দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷ এরপর ১৯৬০-এর দশকে তখনকার পূর্ব জার্মানির কমিউনিস্ট প্রশাসন সেটি গুঁড়িয়ে দেয়৷

এরপর দীর্ঘদিন সেটি ব্যবহৃত হয় গাড়ি রাখার জায়গা হিসাবে৷ ২০০৭ সালে পুরাতত্ত্ববিদরা মাটি খুঁড়ে সেই গির্জার ভিত উন্মুক্ত করার পর জমিটি স্থানীয় প্রোটেস্ট্যান্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়৷

স্টোল্টে বলেন, ‘‘আরেকটা গির্জা বানানোর জন্য আমরা এ জমি নিইনি৷ আমরা এমন একটি স্থাপনা তৈরি করতে চাই যা আজকের বার্লিনের জীবন আর ধর্মবিশ্বাসের কথা বলবে৷''

Berlin Gebetshaus House of One christlich, jüdisch, muslimisch

প্রার্থনাগৃহের নকশা করেছেন স্থপতি উইলফ্রেড কুন

সর্বশেষ শুমারির তথ্য অনুযায়ী, বার্লিনের ১৯ শতাংশ অধিবাসী প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিষ্টান৷ ৮.১ শতাংশ মুসলিম এবং ০.৯ শতাংশ ইহুদি৷ অন্যদিকে ৬০ শতাংশ বার্লিনবাসী জানিয়েছেন যে, তাঁরা কোনো ধর্মমতে বিশ্বাসী নন৷

‘প্রার্থনা ও শিক্ষাগৃহ' প্রকল্পের সদস্য খ্রিষ্টান যাজক গ্রেগর হোব্যার্গ বলেন, ‘‘প্রকল্পের শুরু থেকেই মুসলিম ও ইহুদি সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ আমরা চাইনি যে খ্রিষ্টানরা একটি গির্জা বানাক এবং পরে অন্য দুই ধর্ম এসে তাতে যোগ দিক৷''

এ প্রকল্পের মুসলিম প্রতিনিধি তুর্কি বংশোদ্ভূত ইমাম কাদির সানচি জানান, তরুণ বয়সে জার্মানির পশ্চিমাংশে একই গির্জায় ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্টদের সহাবস্থান দেখে এরকম একটি প্রার্থনাগৃহের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন তিনি৷

‘‘আমি তখন ফ্রাংকফুর্টে লেখাপড়া করি৷ ডার্মস্টাডে একই ছাদের নীচে ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্টদের গির্জা দেখে আমি সেখানকার পাদরিকে বলেছিলাম – একদিন মুসলমানরাও যদি এর সঙ্গে মিলতে পারে, তাহলে তা হবে দারুণ৷ উনি আমাকে বলেছিলেন, ‘ধৈর্য্য ধর বাছা, এ পর্যন্ত আসতে আমাদেরও ৬০ বছর লেগেছে...'৷''

২০১১ সালে প্রায় ২০০ নকশার মধ্যে থেকে স্থপতি উইলফ্রেড কুনের করা একটি নকশা এই প্রার্থনগৃহের জন্য চূড়ান্ত করা হয়৷ তিনি বলেন, ধর্মতত্ত্বের সঙ্গে স্থাপত্যকলা মিলিয়ে এই নকশা করা ছিল তাঁর পেশাগত জীবনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ৷

সেই নকশা অনুযায়ী, তিন ধর্মের অনুসারীদের জন্য প্রার্থনাগৃহের একই ‘ফ্লোরে' সমান জায়গা থাকবে৷ প্রতিটি অংশ আবার এসে মিলবে একটি ফাঁকা স্থানে যেখানে সবার মেলামশা ও আলাপচারিতার সুযোগ ঘটবে৷

গ্রেগর হোব্যার্গ বলেন, ‘‘শুরুতে একটি ঘরেই তিন ধর্মের প্রার্থনার ব্যবস্থা নিয়ে ভাবা হয়েছিল৷ তবে শেষ পর্যন্ত তা বাতিল করা হয়৷ আমাদের মনে হয়েছে, তেমন ব্যবস্থা করলে লোকে এখানে আসতে নিরুৎসাহিত হবে৷ আমরা গোড়া বিশ্বাসীদেরও এখানে আনতে চাই৷ আমরা তাঁদের দেখাতে চাই যে আন্তঃধর্ম সম্মিলন শুধু সম্ভই নয়, গুরুত্বপূর্ণও বটে৷''

এ প্রকল্পের জন্য অর্থ সংগ্রহে অভিনব কিছু উদ্যোগ নিয়েছে পরিচালানা পর্ষদ৷ ইতোমধ্যে একটি ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে যেখানে উৎসাহীরা তাদের অনুদান দিতে পারবেন৷ এমনটি ১০ ইউরো দিয়ে একটি ইট কিনে নিয়েও এ প্রকল্পে শামিল হওয়া যাবে৷

জেকে/ডিজি (এএফপি, এপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন