1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

বার্লিনের আকাশ সেতু – পড়েছিল বোমার বদলে চকলেট

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ‘লুফ্ট ব্র্যুকে’ বা আকাশ সেতু ছিল বড় সাফল্য৷ বিজয়ী ও বিজিত – অ্যামেরিকান ও জার্মানদের কাছাকাছি এনে দিয়েছিল এই প্রয়াস৷ পাইলট হ্যালভরসেনের কথায়, ‘‘এক সময়ের শত্রু পরিণত হয়েছিল বন্ধুতে৷’’

বার্লিন, ১৯৪৮ সালের গ্রীষ্মকাল৷ ২৭ বছর বয়সি তরুণ অ্যামেরিকান পাইলট গেইল এস হ্যালভরসেন তৎকালীন পশ্চিম বার্লিনের বিমানবন্দর টেম্পেলহোফের রানওয়ের ওপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন৷ কাঁটা তারের বেড়ার পেছনে ৩০টি বাচ্চা দাঁড়িয়ে অনুরোধ করছিলো ‘গিমে চকলেট'৷ পাইলট গেইল হ্যালভরসেনের মনে এখনও ভেসে ওঠে সেই দৃশ্য৷ কিন্তু তাঁর পকেটে তো মাত্র দুটি ‘চুয়িং গাম'৷ ৩০ জন বাচ্চাকে কীভাবে দেওয়া যায়? টুকরাগুলিকে চার ভাগ করে কয়েকজনের মধ্যে ভাগ করে দিলেন৷ বাচ্চারা কিন্তু কাড়াকাড়ি করল না৷ ভাগাভাগি করে নিল ওগুলি৷ ‘‘এমনকি কেউ কেউ চকলেটের মোড়কের গন্ধ শুঁকতে লাগলো৷ আর তখনই আমার মনে হলো, আমার আরো কিছু করা উচিত'', বলেন আজকের ৯২ বছরের পাইলট গেইল হ্যালভরসেন৷

Bildergalerie 65. Jahrestag Luftbrücke Berlin

বার্লিন অবরোধ উঠিয়ে নেওয়া পর্যন্ত ২২ টন টফি, চকলেটও নানা রকমের মিষ্টি নিক্ষেপ করা হয় বার্লিনের পশ্চিমাংশে

বিভক্ত বার্লিনের অবস্থা ছিল সঙ্গিন

সেই সময় বিভক্ত বার্লিনের অবস্থা ছিল সঙ্গিন৷ তদানীন্তন পশ্চিম বার্লিনেও ‘ডি মার্ক', মানে ডয়চে মার্ক প্রবর্তন করায় পশ্চিমা মিত্রশক্তির ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সোভিয়েত ইউনিয়ন৷ বার্লিনের পশ্চিমাংশকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে মূল ভূখণ্ড থেকে৷ সেখান থেকে কোনো ট্রাক, ট্রেন বা জাহাজকে পশ্চিম বার্লিনে ঢুকতে হবে না, এই ছিল নির্দেশ৷ পশ্চিম বার্লিন পরিণত হয় অবরুদ্ধ এক নগরীতে৷ শহরটির ২০ লক্ষেরও বেশি মানুষকে জীবনধারনের মৌলিক চাহিদা, খাদ্য, পানীয়, কয়লা ইত্যাদি থেকে বঞ্চিত করে রাখার পরিকল্পনা করা হয়৷

কিন্তু পশ্চিমা মিত্রশক্তি বার্লিনবাসীদের অসহায় অবস্থায় ফেলে রাখতে চায়নি৷ অবরোধের দু'দিন পর থেকেই শুরু হয় সেই সময়ের পশ্চিম জার্মান ভূখণ্ড থেকে আকাশ পথে সাহায্য পাঠানো৷ গড়ে তোলা হয় এক ধরনের ‘লুফ্ট ব্র্যুকে' বা আকাশ-সেতু৷ প্রতিদিন শয়ে শয়ে ব্রিটিশ ও অ্যামেরিকান বিমান ও হেলিকপ্টার বার্লিনের আকাশে উড়তে থাকে৷ সরবরাহ করতে থাকে খাদ্য, পানীয়, ওষুধ-পত্র, কয়লা ইত্যাদি জরুরি সামগ্রী৷ ওপর থেকেও ফেলতে থাকে৷ বার্লিনবাসীরা যাকে ভালোবেসে নাম দিয়েছিল কিসমিস-বোমা৷ ইতিহাসেও এই নামে উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে এই ধরনের সাহায্য অভিযান৷

অংশ নেন পাইলট গেইল হ্যালভরসেনও

এতে অংশ নিয়েছিলেন পাইলট গেইল হ্যালভরসেনও৷ ১৯৪৯ সালে মে মাসে বার্লিন অবরোধ তুলে নেওয়া পর্যন্ত কতবার যে তিনি প্লেন চালিয়েছেন তা গুনে বলা যাবে না৷ বার্লিনের বাচ্চাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রেখেছিলেন গেইল৷ পরদিন গিয়েছিলেন চকলেট নিয়ে৷ এরপর এই কাজটা নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছিল৷ আগেই বলা ছিল, মাটির কাছাকাছি এলেই প্লেনটা কাঁপাতে থাকবেন তিনি৷ তাই বাচ্চারা তাঁর প্লেন দেখলেই চিনতে পারতো৷ ছোট একটা ফাক দিয়ে চকলেটগুলি নীচে নিক্ষেপ করতেন গেইল৷ বাচ্চারা আনন্দ উল্লাসে ঝাঁপিয়ে পড়তো চকলেটগুলির ওপর৷

Bildergalerie 65. Jahrestag Luftbrücke Berlin

১৯৪৯ সালে মে মাসে বার্লিন অবরোধ তুলে নেওয়া পর্যন্ত কতবার যে হ্যালভরসেন প্লেন চালিয়েছেন তা গুনে বলা যাবে না

কিছুদিন পর মিডিয়া এই খবর পেয়ে গেল৷ এক রিপোর্টার আর্টিকেল ও প্লেনের ছবি তুলে চিন্তায় ফেলে দিয়েছিলেন গেইলকে৷ কমান্ডার তাঁকে ডেকে পাঠান৷ ভয়ে ভয়ে তাঁর কাছে যান গেইল৷ এক বিস্ময় অপেক্ষা করছিল তাঁর জন্য৷ বস প্রশংসা করে বলেছিলেন, ‘ভালো আইডিয়া'৷ এইপর তাঁর এই তত্পরতার কথা ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে৷ অ্যামেরিকার বাচ্চারাও চকলেটের জন্য পয়সা জমাতে শুরু করে৷ অন্যান্য পাইলটরাও যোগ দেন এই কাজে৷ বার্লিন অবরোধ উঠিয়ে নেওয়া পর্যন্ত ২২ টন টফি, চকলেটও নানা রকমের মিষ্টি নিক্ষেপ করা হয় বার্লিনের পশ্চিমাংশে৷

কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করা

ট্রাউটে গ্রিয়েরের বয়স তখন ১৪৷ একটা চকলেটও পাননি তিনি৷ ট্রাউটে জানান, ‘‘গেইল হ্যালভরসেন যখন চকলেট ছুড়তেন, তখন সব বাচ্চারা দৌড়ে যেত৷ আমি একটু পেছনে পড়ে যেতাম৷ ছেলেরা যেভাবে ধাক্কাধাক্কি করত৷ তাদের সঙ্গে পেরে উঠতাম না৷ তবে এজন্য আমার মনে কষ্ট নেই৷ বরং সেই সব পাইলটদের কাছে আমি গভীর কৃতজ্ঞ৷ কত কষ্টই না তাঁরা আমাদের জন্য করেছেন৷''

‘‘প্রথম প্রথম আমরা দিন রাত উড়েছি'', জানান গেইল৷ তবে বলা বাহুল্য, আকাশ সেতু কম বিপজ্জনক ছিল না৷ কমপক্ষে ৭৮ জন মানুষ মারা গিয়েছিলেন এই অভিযানে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন