1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

বার্লিনালে: একটি চলচ্চিত্র ও ‘রাজনৈতিক’ উৎসব

চলছে বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব ‘বার্লিনালে’৷ উৎসব শুরুর আগে প্রধান আয়োজক ডিটার কসলিক ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে আলোচনা করতে না চাইলেও সেটি হচ্ছে৷ তিনিও যোগ দিয়েছেন এতে৷ আসলে উৎসবের রন্ধ্রেই আছে ‘রাজনীতি’৷

বার্লিনালের পরিচালক কসলিক বলেছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়মিত বিশ্ব গণমাধ্যমের শিরোনাম হচ্ছেন৷ তাই তিনি চান না বার্লিনালেতেও তিনি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠুন৷ কিন্তু সেটি সম্ভব হয়নি৷ ৯ তারিখে উৎসবের উদ্বোধনী হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত কয়েকজনের বক্তব্যেই ট্রাম্পের নাম এসেছে৷ যেমন মার্কিন অভিনেতা রিচার্ড গিয়ার৷ বার্লিনালেতে তাঁর নতুন মুভি ‘দ্য ডিনার'-এর ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয়েছে৷ সেজন্য তিনি বার্লিনে এসেছিলেন৷ এসেই তিনি ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারির সমালোচনা করেন৷ গিয়ার বলেন, ‘‘সবচেয়ে ভয়াবহ যে কাজটি ট্রাম্প করেছেন সেটা হচ্ছে ‘শরণার্থী' আর ‘সন্ত্রাসী’ শব্দ দু'টির অর্থ তিনি এক করে দিয়েছেন৷ যুক্তরাষ্ট্রে এখন এই দুই শব্দের মানে এক৷ মার্কিন নাগরিকদের একটি বড় অংশ এখন এরকমই মনে করছে৷’’

Berlinale The Dinner Photocall Richard Gere (Reuters/A. Schmidt)

মার্কিন অভিনেতা রিচার্ড গিয়ার

বার্লিনালের পরিচালক ডিটার কসলিক-ও ট্রাম্প নিয়ে মন্তব্য করেছেন৷ ডয়চে ভেলের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি ট্রাম্পকে ইতিহাসের ‘মোস্ট ওভাররেটেড’ প্রেসিডেন্ট হিসাবে উল্লেখ করেন৷ বার্লিনালের গত বছরের প্রধান জুরি মেরিল স্ট্রিপকে নিয়ে করা ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কসলিক এই মন্তব্য করেন৷ ট্রাম্প সম্প্রতি মেরিল স্ট্রিপকে হলিউডের ‘মোস্ট ওভাররেটেড’ অভিনেত্রী বলে আখ্যায়িত করেছিলেন৷

এদিকে রবিবার রাতে বার্লিনালেতে অংশ নিতে রোমানিয়া থেকে আসা প্রতিনিধিরা দুর্নীতি সংক্রান্ত কেলেংকারিতে জর্জরিত তাদের দেশের সরকারের পদত্যাগ চেয়ে উৎসবের রেড কার্পেটে হাজির হয়েছিলেন৷ তাদের এই দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে টুইট করেছেন বার্লিনালে কর্তৃপক্ষ৷

বার্লিনালের ইতিহাস বলছে অন্য সব চলচ্চিত্র উৎসবের চেয়ে এই উৎসবেই রাজনীতি নিয়ে বেশি আলোচনা হয়৷ উৎসবে আসা তারকারাও এতে অংশ নেন৷ উৎসবের সেরা পুরস্কার পাওয়ার ক্ষেত্রেও রাজনীতি সংশ্লিষ্ট মুভির প্রাধান্য দেখা যায়৷ শৈল্পিকভাবে নির্মিত সিনেমার চেয়ে কোনো মুভির বিষয়বস্তু বার্লিনালেতে বেশি প্রাধান্য পায়৷

এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি৷ বার্লিনালের উদ্বোধনীতে দেখানো ‘জ্যাঙ্গো’ মুভিতে নাৎসি আমলে একজন মিউজিশিয়ানের জীবন কেমন ছিল সেটি উপস্থাপিত হয়েছে৷ ফ্রেঞ্চ পরিচালক এতিয়েন কোমারের এই ছবিতে বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত জিপসি ও জ্যাজ গিটারিস্ট জ্যাঙ্গো রাইনহার্ড্টের জীবনের কয়েকটি বছর তুলে ধরা হয়েছে৷ ঐ বছরগুলো নাৎসিদের নিয়ন্ত্রণে ছিল প্যারিস৷ ফরাসি নাগরিক হলেও জ্যাঙ্গো ছিলেন আসলে ‘সিনটি’ জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত৷ এই গোষ্ঠীর মানুষদের উপর নির্যাতন চালিয়েছিল নাৎসিরা৷ তবে জনপ্রিয় হওয়ার কারণে সেই নিপীড়নের হাত থেকে বেঁচে ছিলেন জ্যাঙ্গো৷ কিন্তু একসময় নাৎসিরা তাঁকে জার্মানি সফরে যেতে বললে তিনি কঠিন এক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন৷

এছাড়া ২০১৫ সালে ইউক্রেনের চলচ্চিত্রনির্মাতা ওলেহ সেনসফকে সন্ত্রাসবাদের পরিকল্পনার দায়ে রাশিয়ার অভিযুক্ত করা নিয়ে ‘দ্য স্টেট অফ রাশিয়া ভার্সেস ওলেহ সেনসফ’ নামে একটি তথ্যচিত্র দেখানো হচ্ছে উৎসবে৷ সেনসফকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে৷ তবে এই রায় নিয়ে বিতর্ক রয়েছে৷

খেতাব জেতায় ‘রাজনীতি'

বার্লিনালেতে সেরা ছবি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে রাজনীতি ও সামাজিক ইস্যুভিত্তিক সিনেমাগুলো বেশি প্রাধান্য পায়৷ ২০০১ সালে ডিটার কসলিক বার্লিনালের পরিচালকের দায়িত্ব নেয়ার পর এই বিষয়টি আরও বেশি করে ঘটেছে৷ যেমন ২০০৩ সালে উৎসবের সেরা পুরস্কার ‘গোল্ডেন বেয়ার’ জেতে ‘ইন দিস ওয়ার্ল্ড’ নামের একটি মুভি৷ যুদ্ধ বিদ্ধস্ত দেশ ছেড়ে পালানো তিন আফগান নাগরিকের জীবন নিয়ে এটি তৈরি হয়েছিল৷ যে সময় এই ঘোষণা আসে সেই সময় বার্লিনে প্রায় চার লক্ষ মানুষ ইরাক দখলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছিল৷ এরপর ২০০৬ সালের গোল্ডেন বেয়ার জেতে সারায়েভোতে যুদ্ধের ট্রমা নিয়ে নির্মিত ছবি ‘গিরবাভিৎসা’৷ ২০১৫ সালের সেরা মুভি ছিল ‘ট্যাক্সি’৷ পরিচালক জাফর পানাহি ইরানে গোপনে এই ছবির শ্যুটিং করেছিলেন৷ কারণ সেখানে তাঁর কাজ করার অনুমতি ছিল না৷ আর গতবছরের সেরা মুভি ‘ফায়ার অ্যাট সি’ সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে আসা শরণার্থীদের কাহিনি নিয়ে নির্মিত৷

শরণার্থীদের নিয়ে কর্মসূচি

২০১৫ সালে জার্মানিতে অনেক শরণার্থী আসার কারণে গত বছর বার্লিনালেতে শরণার্থী ইস্যুটি বেশ আলোচিত ছিল৷ এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি৷ এবারও শরণার্থীদের জন্য বেশ কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বার্লিনালে কর্তৃপক্ষ৷ যেমন ২০ জন শরণার্থীকে উৎসবের বিভিন্ন কাজে ‘ট্রেইনি’ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে৷ এছাড়া শরণার্থীদের জন্য বিনামূল্যে সিনেমা দেখার ব্যবস্থাও করা হয়েছে৷ ফলে একজন শরণার্থী একজন জার্মান স্বেচ্ছাসেবকের সঙ্গে উৎসবের ছবি দেখার সুযোগ পাচ্ছেন৷

শরণার্থীদের নিয়ে তৈরি শর্ট ফিল্ম, তথ্যচিত্র ইত্যাদিও দেখানো হচ্ছে উৎসবে৷ যেমন আকি কাওরিসমাকি নির্মিত ‘দ্য আদার সাইড অফ হোপ’-এ ফিনল্যান্ডে একজন সিরীয় শরণার্থীর জীবন দেখানো হয়েছে৷ এছাড়া জার্মান কমেডি মুভি ‘ওয়েলকাম টু জার্মানি’তে এক জার্মান পরিবারের এক নাইজেরীয় শরণার্থীকে গ্রহণ করা এবং তার ফলে সৃষ্ট হওয়া সমস্যা ও আশা নিয়ে ছবিটি তৈরি হয়েছে৷

সেরা ছবির জন্য মনোনীত

এবার ১৮টি ছবি সেরার জন্য লড়ছে৷ ‘বেসিক ইনস্টিংক্ট’ খ্যাত পরিচালক পাউল ভ্যারুভেনের নেতৃত্বাধীন একটি জুরি দল ‘গোল্ডেন বেয়ার’ খেতাবের জন্য সেরা ছবি বাছাই করবেন৷ ১৮ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় এই মুভির নাম জানা যাবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়