1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

বাবা-মায়েদের জন্য আসতে পারে সুখবর

চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী দলের এক সদস্য জার্মানিতে সন্তানের বাবা-মায়েদের জন্য মাসিক একটা নির্দিষ্ট আয় নিশ্চিত করতে চান, তা সে বাবা-মায়ের নিজস্ব রোজগার যা-ই হোক না কেন৷

প্রতি মাসে বাচ্চাদের বাবা-মা’কে একটা থোক টাকা দেওয়া হবে যার পরিমাণ নির্দিষ্ট করা হয়নি৷ পরিমাণটা নির্ভর করবে বাচ্চাদের দেখাশোনার খরচ ও সেই সঙ্গে দম্পতির স্বাস্থ্য বিমার প্রিমিয়ামের উপর৷ ‘পরিবার চুক্তি’ হিসেবে এই থোক টাকাটা দেওয়া হবে বাচ্চার জন্ম থেকে তার প্রাইমারি স্কুলে যাওয়া অবধি  তা বাচ্চার বাবা-মা তাকে কিন্ডারগার্টেন অথবা ডে কেয়ার সেন্টারে পাঠান আর না-ই পাঠান৷

সিডিইউ বিধায়ক সিলভিয়া পান্টেল ও তাঁর দলের আর কিছু বিধায়ক মিলে এই ‘পরিবার চুক্তি’র উদ্যোগটি শুরু করেছেন৷ এই পন্থায় সন্তানদের কিন্ডারগার্টেন বা ডে কেয়ারে পাঠানো বা না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা পরিবারবর্গের হাতে থাকবে বলে তাঁদের ধারণা৷

জার্মানিতে বাবা-মায়েরা বর্তমানে সন্তানের জন্মের পর ১৪ মাস ধরে ‘এল্টার্নগেল্ড’ বা ‘বাবা-মায়ের মাসোহারা’ পেতে পারেন৷ এই বাবা-মায়ের মাসোহারা নির্ভর করে সন্তানের জন্মের সময় অভিভাবকদের বুনিয়াদি আয়ের উপর৷ বাভেরিয়ায় বাবা-মায়েরা যদি সন্তানকে কোনো সরকারি কিন্ডারগার্টেনে না পাঠান, তাহলে সন্তান স্কুলে না যাওয়া পর্যন্ত মাসে ১৫০ ইউরো করে ‘বেট্রয়ুংসগেল্ড’ বা ‘তত্ত্বাবধানের টাকা’ পেতে পারেন৷

পাঁচ সন্তানের জননী

সিলভিয়া পান্টেল নিজে পাঁচটি সন্তান মানুষ করেছেন৷ তিনি বলেন, তাঁর পরিকল্পনার ফলে বাবা-মায়েদের উপর সন্তান প্রতিপালন করার সঙ্গে সঙ্গে অর্থোপার্জন করার দায় ও চাপ কমবে৷ পান্টেল ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমি জানি, অনেকে আমাকে পাগল মনে করেন, কিন্তু আমরা কমবয়সি মহিলাদের কাছ থেকে বড় বেশি দাবি করছি; আমরা মানুষজনকে অসুস্থ করে তুলছি, আমাদের জন্য বহু পরিবার ভেঙে যাচ্ছে৷’’

জার্মানি প্রতিবছর প্রায় ৫০০ কোটি ইউরো ‘এল্টার্নগেল্ড’ বা বাবা-মায়ের মাসোহারা হিসেবে দিয়ে থাকে৷ তাঁর প্রস্তাবিত পদ্ধতির ফলে এই খরচ বাড়বে না, বলে পান্টেল মনে করেন, বিশেষ করে যদি কিন্ডারগার্টেন ও অন্যান্য সন্তান প্রতিপালন সহায়ক কর্মসূচি চালানোর খরচকে এর মধ্যে ধরা যায়৷ পান্টেলের ভাষ্যে, ‘‘বর্তমানে আমাদের যা পন্থা, তা অনুযায়ী আমরা বাচ্চাদের খুব কম বয়সে কিন্ডারগার্টেনে পাঠিয়ে দিই ও সেখানে বহুদিন রাখি, যা'তে তাদের বাবা-মায়েরা চাকরি খুঁজে পান, ক্যারিয়ার বানান, ভালো পেনশন পাবার মতো রোজগার করেন৷ এবং বাচ্চা হলে তার সব ঝুঁকিই সাধারণত মায়েদের ঘাড়ে গিয়ে পড়ে৷’’

জার্মানিতে জন্মের হার বিশ্বের সর্বনিম্নগুলির মধ্যে৷ জন্মহার বাড়ানোর যাবতীয় সরকারি প্রচেষ্টা মোটামুটি ব্যর্থ হয়েছে, যদিও আপাতত অভিবাসীদের কারণে জন্মহার কিছুটা বেড়েছে৷ ‘‘তরুণ, শিক্ষিত মহিলাদের আপাতত বলা হচ্ছে, শ্রমবাজারে তোমার শিক্ষার মূল্য অনেক, কাজেই তোমার কাজ করা উচিৎ৷ কিন্তু আমরা যদি চাই যে, আমাদের জনসংখ্যা ঠিকমতো বাড়ুক, তাহলে আমাদের সেই সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে - ভালোভাবে, শুধু সন্তানের জন্ম দিয়ে তাকে (কিন্ডারগার্টেন বা ডে কেয়ারে) ছেড়ে দিয়ে এসে নয়৷’’

প্রতিবেদন: বেন নাইট/এসি

সম্পাদনা: আশীষ চক্রবর্ত্তী

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়