1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘বাদী আগে জামাত করত, এখন আওয়ামী লীগ'

মিনায় পদদলিত হয়ে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারানোর পর আক্ষেপ করে ফেসবুকে কিছু কথা লিখেছিলেন সাতক্ষীরার মোহন কুমার মন্ডল৷ এক আওয়ামী লীগ নেতা তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে মামলা ঠুকে দেন৷ এখন জেলে স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের মাশুল গুনছেন মন্ডল৷

ফেসবুক মোহন মন্ডল ঠিক কী লিখেছিলেন, তা এখন যাচাই সম্ভব নয়৷ পোস্টটি তাঁর প্রোফাইলে এখন আর দেখা যাচ্ছে না৷ তবে ফেসবুকে অনেকে সেটার ‘স্ক্রিনশট' প্রকাশ করেছেন৷ ব্লগার শাম্মী হক তাঁর প্রোফাইলে পোস্টটি সরাসরি তুলে দিয়েছেন৷ মন্ডলের বরাতে তিনি লিখেছেন, ‘‘শয়তানকে পাথর মারার জন্য এত মানুষের লাশ, লাশের স্তূপ করা দেখে মনে হচ্ছিল লতিফ সিদ্দিকী ভাই সঠিক বলেছিলেন৷ তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ কাস্টমারদের সাথে ভালো ব্যবহার করেনি৷ দু'টি দরজা বন্ধ করে দিলে সেটি সাথে সাথে হাজিদের জানালো হলো না কেন? কিন্তু একটা কথা মাথায় ঢোকে না৷ শয়তানকে পাথর মারার জন্য লক্ষ লক্ষ খরচ করে মিনায় যেতে হবে কেন? আপনার আমার বাড়ির পাশের শয়তানকে একটা পাথর মারুন না!''

আলোচিত মন্ডল সাতক্ষীরায় একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত৷ বাংলাদেশের স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, তাঁকে এবং তাঁর সহকর্মী শওকত হোসেনকে স্থানীয় কিছু মানুষ ধরে নিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে৷ স্থানীয় আওয়ামী লীগ সভাপতি তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ (২) ধারায় মামলা করেছেন মন্ডলদের বিরুদ্ধে৷ অভিযোগ, ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে ‘মুসলীম ধর্মীয় অনুভূতিতে' আঘাত হেনেছেন তিনি৷

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অনেকেই মন্ডলদের গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়েছেন, চেয়েছেন অবিলম্বে মুক্তি৷ ব্লগার আরিফ জেবতিক এ সংক্রান্ত এক নিউজের লিংকের সঙ্গে যোগ লিখেছেন, ‘‘বাদী আগে জামাত করত, বর্তমানে আওয়ামী লীগের উপজেলা সভাপতি৷ শুনে প্রীত হলুম৷''

সাংবাদিক প্রভাষ আমিন মোহন কুমার মন্ডলের মুক্তি দাবি করে লিখেছেন, ‘‘সব লেখাতেই কারো না কারো অনুভূতি আঘাতপ্রাপ্ত হয়৷ তাই চাইলে সকল ফেসবুক ব্যবহারকারীদের গ্রেপ্তার করতে পারে সরকার৷ আমি মোহন কুমার মন্ডলের স্ট্যাটাসটি ভালো করে পড়ে দেখেছি, কোনো নিষ্ঠাবান মুসলমানের অনুভূতিতে আঘাত লাগার মতো কিছু এখানে নেই৷''

সংকলন: আরাফাতুল ইসলাম

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন