1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

বাতিল নয়, কোটা ব্যবস্থার সংস্কার প্রয়োজন

বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে, বিশেষ করে বিসিএস-এ কোটা ব্যবস্থা নিয়ে এখন তুমুল আলোচনা আর সমালোচনা৷ ৩৪তম বিসিএস-এর ফল প্রকাশের পর অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের কোটা বাতিলের আন্দোলনের কারণে বিষয়টি নজর কেড়েছে সবার৷

গত বৃহস্পতিবার থেকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস বা বিসিএস-এ চাকরিতে কোটা বাতিলের আন্দালন শুরু হয়েছে৷ আন্দোলনকারীরা ৩৪তম বিসিএস-এর প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল পুনর্মূল্যায়নের দাবিও করছেন৷ তাঁদের কথা, এতে মেধাবীরা বঞ্চিত হচ্ছেন৷ এদিকে শনিবার থেকে কোটা বহাল রাখার দাবিতেও পাল্টা আন্দোলন শুরু হয়েছে৷ এই আন্দোলন শুরু করেছে ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান' নামের একটি সংগঠন৷ ওদিকে কোটা বিরোধী আন্দোলন সহিংস রূপ পেয়েছে৷ সহিংতার অভিযোগে পুলিশ শনিবার ৩৪ জনকে আটকও করেছে৷

বিসিএস-এ ৫৫ ভাগ চাকরি কোটার ভিত্তিতে দেয়া হয় আর মেধার ভিত্তিতে দেয়া হয় ৪৫ ভাগ৷ এই কোটার মধ্যে ৩০ ভাগ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান-পোষ্যদের জন্য৷ আরো আছে নারী, জেলা, আদিবাসী ও প্রতিবন্ধী কোটা৷

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাবেক সচিব আলী ইমাম মজুমদার ডয়চে ভেলেকে বলেন, কোটা ব্যবস্থা ঐতিহাসিক এবং আর্থসামাজিক কারণেই এসেছে৷ শুধু বাংলাদেশে নয়, পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও রয়েছে এ ব্যবস্থা৷ এর মূল উদ্দেশ্য হলো অনগ্রসর শ্রেণিকে এগিয়ে আনা৷ কিন্তু বাংলাদেশে কোটা ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর, এ পর্যন্ত তার ফলাফল মূল্যায়ন করে দেখা হয়নি৷ তিনি বলেন, অনেক জেলায় এখন আর কোটার প্রয়োজন নেই৷ কারণ, তারা ইতিমধ্যে যথেষ্ঠ এগিয়েছে৷ তাই উচিত হবে যেসব জেলা এখনো অনগ্রসর, তাদের কোটা বহাল রেখে বাকি অপেক্ষাকৃত অগ্রসর জেলার কোটা বাতিল করা৷ তিনি জানান, বাংলাদেশে সরকারি তালিকাভূক্ত মুক্তিযোদ্ধা তিন লাখের বেশি নয়৷ আর তাঁদের পোষ্য ১৫ থেকে ১৬ লাখ৷ ১৬ কোটি মানুষের বিপরীতে এই সংখ্যা শতকরা ১ ভাগ৷ অথচ তাঁদের জন্য কোটা আছে ৩০ ভাগ, যা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়৷

তাই আলী ইমাম মজুদার মনে করেন, মোট কোটা কখনোই ২০ ভাগের বেশি হওয়া উচিত নয়৷ এর মধ্যে ৮০ ভাগ নিয়োগ হওয়া উচিত মেধার ভিত্তিতে, বিশেষ করে সিভিল সার্ভিসের ক্ষেত্রে মেধাকে প্রাধান্য দেয়া বেশি প্রয়োজন৷ অথচ এক্ষেত্রে মাত্র ৪৫ ভাগ নিয়োগ হয় মেধার ভিত্তিতে৷ এতে একদিকে যেমন মেধাবীরা বঞ্চিত হন, তেমনই প্রশাসনে মেধার সংকট দেখা দেয়৷

তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোটা বাতিল করা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়৷ বরং এর সংস্কার করার কথা বলেন তিনি৷ আলী ইমাম মজুদারের ভাষায়, একটি স্বাধীন কমিশন করে কোটার ফলাফল যাচাই করতে হবে৷ এরপর তার ভিত্তিতে নতুন করে কোটার বিন্যাস করতে হবে৷ যেখানে এখন আর কোটার প্রয়োজন নেই, সেই কোটা বাতিল করতে হবে৷ আর নতুন কোথাও কোটার প্রয়োজন দেখা দিলে সেখানে কোটা দিতে হবে৷ তবে এর সঙ্গে এটাও মনে রাখতে হবে যে, কোটা ব্যবস্থা অনন্তকাল ধরে চলতে পারে না৷

সংবিধানের ২৯ অনুচ্ছেদে সরকারি চাকরিতে সকল নাগারিকের যেমন সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে, তেমনি অনগ্রসর শ্রেণিকে বিশেষ সুবিধা দেয়ার কথাও আছে৷ তাই কোটা বাতিলের দাবিতে সহিংস আন্দোলন না করে সব পক্ষকে যৌক্তিক আচরণের অনুরোধ করেন আলী ইমাম মজুমদার৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়