1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

বাতিল কারখানায় সংগীত উৎসব

বিশ্বায়নের এই যুগে জার্মানিতে অনেক বড় বড় কারখানা বাতিল হয়ে গেছে৷ কিন্তু ঐতিহাসিক কারণে এর অনেকগুলি ইউনেস্কো স্বীকৃত সৌধে রূপান্তরিত হয়েছে৷

আগে যেখানে ব্লাস্ট ফারনেস-এর আগুন জ্বলতো, এখন সেখানে ডিজে দর্শকদের মাতাচ্ছেন৷ চলছে ‘ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক' উৎসব৷ সম্প্রতি ইউরোপের সেরা ফেস্টিভাল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে এই আয়োজন৷ ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত জার্মানির সারলান্ড রাজ্যের এক ইস্পাত কারখানায় চলে এই উৎসব৷ সমবেত দর্শকদের কেউ বলেন, আদর্শ লোকেশন৷ কেউ আবার বলেন, ধাতু, ইস্পাত – শক্ত সব জিনিস৷ মানুষকে কেমন যেন আচ্ছন্ন করে দেয়৷

এই উৎসবের অন্যতম জনপ্রিয় ডিজে-র নাম ইয়াকব ডিলসনার, লোকে তাঁকে ‘ভাংকেলমুট' বলেই চেনে৷ ২০১২ সালে তাঁর হিট রিমিক্স ‘ওয়ান ডে' জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও সুইজারল্যান্ডের চার্টের শীর্ষে পৌঁছে গিয়েছিল৷ ডিলসনার বলেন, ‘‘আমাকে বলতেই হবে, গোটা স্থাপত্য ও শিল্পের এই পরিবেশ সত্যি রোমাঞ্চকর৷ টেকনো পার্টির জন্য পুরোপুরি উপযুক্ত৷ কারণ টেকনো মানেই তো যন্ত্রের সংগীত৷ তাই যেখানে এককালে মানুষ কাজ করেছে, সেখানে তা মানায় বটে৷''

প্রায় একশো বছর ধরে শ্রমিকরা এই সব যন্ত্রপাতির সাহায্যে লোহা ও ইস্পাত তৈরি করেছেন৷ ১৯৮৬ সালে ফ্যোলকিংঙেন লোহার কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল৷ ১৯৯৪ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান দেয়৷ ভারী শিল্পের প্রথম যুগের এত বড় কোনো লোহার কারখানা গোটা বিশ্বে আর নেই, যা এখনো সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে৷

ফ্যোলকিংঙেন-এর এই ঐতিহ্যস্থলের প্রধান মাইনরাড গ্রেভেনিশ৷ তিনি শুধু প্রায় ৬ লাখ বর্গমিটার প্লান্টটির সংরক্ষণ করেই সন্তুষ্ট নন৷ তিনি এখানে আরও সাংস্কৃতিক ছোঁয়া চান৷ যেমন এখন চলছে এক ‘স্ট্রিট আর্ট' প্রদর্শনী৷ তিনি বলেন, ‘‘আমরা নিজেদের এই পপ সংস্কৃতির সন্তান বা উত্তরসূরী মনে করি৷ কারণ ভারী শিল্প, উৎপাদন – এসবের প্রতি আকর্ষণও তো পপ আর্ট-এর অঙ্গ৷ আর পপ সংস্কৃতির মাধ্যমেই ভারী শিল্পের এই জায়গাটি প্রথম বারের মতো সংস্কৃতির স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে৷''

আগে শ্রমিকদের জন্য এটা ছিল কঠিন জায়গা৷ কোক ওভেনে ১,২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উত্তাপে কয়লা জ্বালানো হতো৷ গত শতাব্দীর ষাটের দশকে ফ্যোলকিংঙেন-এর কারখানায় ১৭,০০০ পর্যন্ত শ্রমিক কাজ করেছেন৷

তবে রুয়র এলাকাই ছিল জার্মানির সবচেয়ে বিখ্যাত শিল্পাঞ্চল৷ তারপর বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় থেকে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ইস্পাত ও কয়লা প্রস্তুতকারকরা বাজারে ভিড় জমাতে শুরু করলো৷ তখন একের পর এক কারখানা বন্ধ হতে লাগলো৷

রুয়র এলাকায় এই নিয়ে তৃতীয় বার ‘এক্সট্রা শিফট' নামের সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ পুরানো কারখানা ও খনি এলাকায় প্রায় ২ লাখ মানুষ এসেছেন৷ এক দর্শক জানালেন, ‘‘তরুণ বয়সে আমি নিজে একাধিক পিট ও কোক ওভেনে কাজ করেছি৷ এখন সংস্কৃতি দেখতে ‘এক্সট্রা শিফট' উৎসবে যাই৷ সেখানে আমি আমার নিজের অতীতের একটা অংশ দেখতে পাই৷ বেশ ভালো লাগে৷''

উৎসবের একটি অনুষ্ঠান বসে হাটিঙেন-এর কারখানায়৷ অভিনেতারা সে সময়কার যন্ত্রপাতি নিয়ে শব্দের জাল বোনেন৷ প্রেরণার উৎসই হোক অথবা মঞ্চ – গত কয়েক দশকে শিল্প কারখানাগুলি অনেক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে৷ অভিনেতা উভে স্মিডার বলেন, ‘‘চলচ্চিত্রে দেখা যায়, শ্রমিকরা কীভাবে প্রচণ্ড গরম, নোংরা পরিবেশের মধ্যে কাজ করতেন, ঘামতেন৷ তার মধ্যেও ছিল একটি সাউন্ড বা শব্দ৷ এই শব্দ কানে নিয়েই তাঁরা বাসায় ফিরতেন, বিছানায় নিয়ে যেতেন, সকালে উঠতেন৷ এটাই ছিল তাঁদের জীবন৷''

এককালের শিল্প কারখানা সংস্কৃতি কেন্দ্র ও স্মৃতিশোধে রূপান্তরিত হচ্ছে৷ গোটা বিশ্বেই এমন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে৷ শুধু ব্রিটেনেই ৬টি প্লান্ট ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে৷ জার্মানিতে সংখ্যাটা ৪৷ বছরে একবার টেকনো-ফ্যানরা জায়গাটির দখল নেয়৷ শিল্পের ভগ্নস্তূপ তখন নতুন রূপে জেগে ওঠে৷

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়