বাড়ির আঙিনায় থিয়েটার | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 25.01.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

বাড়ির আঙিনায় থিয়েটার

ছোট বড় থিয়েটারের কোনো কমতি নেই জার্মানিতে৷ অনেক স্কুলেও ওয়ার্কশপ করে ছাত্রদের উৎসাহিত করা হচ্ছে থিয়েটারের প্রতি৷ তবে থিয়েটারকে যে বাড়ির ভেতরেও নিয়ে আসা যায়, সেটাই দেখাচ্ছে বনের এক থিয়েটার গ্রুপ৷

default

জার্মানির বায়ার্নে একটি থিয়েটার গ্রুপ

থিয়েটার দেখতে ভালবাসেন অনেকে৷ তবে তা যদি হয় সবুজঘেরা বাগানে কিংবা চিমনির ধারে আরাম চেয়ারে বসে তাহলে তো কথাই নেই৷ বন শহরের ‘থিয়েটার অ্যাট হোম' গ্রুপটি এইরকমই এক উদ্যোগ নিয়েছে৷ তারা কারো বাগানে বা বসার ঘরে কিংবা স্কুল-কলেজের হল রুমে থিয়েটারের আয়োজন করে৷

এরকমই একটি থিয়েটারের অংশ বিশেষ - ভাম্পায়ার ড্রাকুলাকে মনে হচ্ছে বেশ অল্পবয়সি, অনেকটা মেয়েলি কণ্ঠ৷

Jahresrückblick Flash-Galerie Deutschland 2010 Gesichter Oberammergau Passionsspiele Jesus Flash

‘থিয়েটার অ্যাট হোম' শুধু মানুষের আগ্রহের ওপরই টিকে আছে

কাপড় রাখার স্ট্যান্ড থেকে একটা কালো শাল নিয়ে কাঁধে জড়ালেন তিনি৷ বিভীষিকাময় এই নাটকটি মঞ্চস্থ হচ্ছে কোলনের এক হোটেলের সম্মেলনকক্ষে৷ আসবাবপত্রের মধ্যে দেখা যাচ্ছে একটি চেয়ার একটি টেবিল ও কাপড়ের স্ট্যান্ড, যার ওপর রয়েছে দুটো হ্যাট, কয়েকটি পোশাক ও উলের কম্বল৷ আর রয়েছে আলো ফেলার জন্য দুটো প্রোজেক্টর৷ রক্তচোষা ভাম্পায়ারের নাটকে ড্রাকুলার সবগুলো চরিত্রেই রূপ দিচ্ছেন দুজন মহিলা শিল্পী৷ প্রফেসর ফান হেলসিং, সহজ সরল তরুণী লুসি, ড্রাকুলা – এসব চরিত্রেই পোশাক বদলে বদলে অভিনয় করছেন আনে শেরলিস ও এফা ক্লাইস৷ মুহূর্তের মধ্যে বদলে ফেলছেন তাঁরা কণ্ঠস্বরও৷

দর্শকদের মধ্যে অধিকাংশই পঞ্চাশোত্তীর্ণ৷ সত্তর বছর পূর্তি উপলক্ষে এক মহিলা আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তাঁর বন্ধুবান্ধবকে থিয়েটার দেখার অভিনব এই আয়োজনে৷ আমন্ত্রণকারী মহিলা বলেন, ‘‘আমি অবাক হয়ে যাই, কীভাবে অনবরত চরিত্রের পরিবর্তন হচ্ছে৷ উৎসাহ-উদ্দীপনার কোনো অভাব নেই এখানে৷ এটা আমাদের জন্য এক বিশেষ অভিজ্ঞতা৷

Pina Bausch Flash-Galerie

থিয়েটার জগতে জার্মানির দুই বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব ভিম ভেন্ডার্স এবং পিনা বাউশ

আমাদের নাটক দেখতে বাইরে যেতে হয়না, থিয়েটারই আমাদের কাছে চলে আসে৷ এই প্রাণবন্ত নাটকটি আমার ও আমার অতিথিদের খুব ভাল লেগেছে৷''

দর্শকদের মধ্য থেকেও শোনা যায় উচ্ছ্বাসভরা মন্তব্য৷ ‘‘দুই জন এতগুলি চরিত্রে অবলীলায় অভিনয় করেছেন, এত বড় বড় বাক্য মুখস্থ করেছেন, অভিব্যক্তির পরিবর্তন করেছেন, এসব দেখে আমি একেবারে মুগ্ধ৷''

থিয়েটারের এই গ্রুপটির সঙ্গে রয়েছে আরো দুজন শিল্পী৷ বিভিন্ন জায়গায় যেমন পানশালায়, হোটেলে বা কারো বসার ঘরে চিমনির ধারে কিংবা বাগানে গাছগাছালির নীচে অভিনয়ের কলাকৌশল দেখান গ্রুপটি৷

‘থিয়েটার অ্যাট হোম' শুধুমাত্র মানুষের আগ্রহের ওপর নির্ভর করে টিকে আছে৷ তাই বেঁচে থাকার জন্য শিল্পীদের অন্যান্য জায়গায়, যেমন টেলিভিশন ও বিভিন্ন মঞ্চেও মাঝে মাঝে অভিনয় করতে হয়৷ থিয়েটারের প্রতিটি শোর জন্য পাওয়া যায় ৬০০ ইউরো৷ এই টাকাটা সবার মধ্যে ভাগ হয় এবং একটা অংশ যায় অন্যান্য খরচাপাতির জন্য৷

Flash-Galerie Kunstorte Ruhr 2010

ছোট বড় থিয়েটারের কোনো কমতি নেই জার্মানিতে

মঞ্চসজ্জা ও পোশাক আশাকের জন্য খরচ রয়েছে৷ অনেক সময় বন্ধু বান্ধবরাও সেলাই করে দেন নাটকের পোশাক পরিচ্ছদ৷

আনে শেরলিস ও এফা ক্রাইস অভিনয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন৷ প্রচলিত থিয়েটারে অভিনয়ের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁদের৷ ২০০৯ সালে গড়ে তোলেন তাঁরা ‘থিয়েটার অ্যাট হোম'৷ শিল্পীদের সঙ্গে কথা বললে বোঝা যায়, থিয়েটারের প্রতি ভালবাসা কতটা গভীর তাঁদের৷ আনে বলেন, ‘‘দর্শকদের একেবারে কাছাকাছি পাওয়া যায়৷ আমাদের অভিনয় তাঁদের কীরকম লাগছে, নাটকের হাসি-কান্নায় তাঁরা অংশ নিচ্ছেন কিনা, নাকি একঘেয়ে লাগছে তা বোঝা যায়৷ প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয়েরই প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়৷ আমাদের অনেক ধরনের বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ রয়েছে৷ কোনো নির্দিষ্ট চরিত্রে আবদ্ধ থাকতে হয়না৷ ভাল-মন্দ এমনকি পুরুষ চরিত্রেও অভিনয় করতে হয় আমাদের৷ পুরোপুরি একাত্ম হয়ে যেতে হয় চরিত্রের সঙ্গে৷''

আনে শেরলিস বিভিন্ন বিখ্যাত উপন্যাস ও নাটক থেকে চিত্রনাট্য লেখেন নিজেই৷ যেমন ‘ড্রাকুলা', ‘ডাঃ জেকিল এবং মিঃ হাইড' ইত্যাদির গল্প ও সংলাপ নিজের মনের মত করে সাজান তিনি৷ ক্রিসমাসের রূপকথা নিয়ে ছোটদের জন্যও নাটক লেখেন তিনি৷ এ সব কাজে তাঁর তিন থেকে আট সপ্তাহের মত সময় লেগে যায়৷

Der Entertainer und Schauspieler Harald Schmidt spielt in einer Probe für das Hamlet-Musical Der Prinz von Dänemark

অনেক সময় বন্ধু বান্ধবরাও সেলাই করে দেন নাটকের পোশাক পরিচ্ছদ

এজন্য বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন৷ কেননা গল্প ও চরিত্রগুলি এমন হতে হয়, যা দর্শকরা চিনতে পারেন৷ এ প্রসঙ্গে আনে শেরলিস বলেন, ‘‘বিশেষ করে এক চরিত্র থেকে আরেক চরিত্রে যাওয়াটা প্রথম দিকে বেশ শক্ত মনে হত৷ ড্রাকুলা নাটকে আমি একটা কৌশল উদ্ভাবন করেছি৷ আর তা হল শারীরিক অঙ্গ ভঙ্গির পরিবর্তন৷ মুখের ‘হাঁ' টা বড় করলেই হয়ে যাই আমি ড্রাকুলা৷'' আনে শেরলিস ও গতানুগতিক থিয়েটারে ফিরে যাওয়ার কথা এখন ভাবতেই পারেননা৷ ‘থিয়েটার অ্যাট হোম' এ কাজ করে আনন্দ পান তিনি৷ এখানে স্বাধীনভাবে সৃজনশীল কাজ করার সুযোগ থাকে, সহশিল্পীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে৷ তাই তো আবেগভরে বলেন আনে, ‘‘আমি ১৪ বছর বয়সেই এই রকম এক পেশার কথা কল্পনা করেছিলাম৷ এরকম একটা পেশা আমার হবে, যেটা আমি ভালবাসি, আমার সেই রকম সহকর্মী থাকবে, যাদের দেখলে মন প্রফুল্ল হয়ে উঠবে৷'' এই পেশায় বিত্তবান হওয়া যায়না কিন্তু হওয়া যায় সুখী৷ বলেন আনে শেরলিস৷ তাঁর আশা, ভবিষ্যতে আরো অনেকের বাড়ির দ্বার খুলবে তাঁদের থিয়েটারের জন্য৷

প্রতিবেদন: রায়হানা বেগম

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

সংশ্লিষ্ট বিষয়