1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

‘বাচ্চা ছেলের গল্প শুনে লাভ কী?’

সমকামীদের ম্যাগাজিন ‘রূপবান’ সম্পাদক জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু মাহবুব তনয় হত্যায় জড়িত পাঁচ জনকে চিহ্নিত করার দাবি করেছে পুলিশ৷ তবে জুলহাজ মান্নানের ভাই মিনহাজ মা্ন্নান মনে করেন, পুলিশের এসব কথা আসলে ‘বাচ্চা ছেলের গল্প’৷

Bangladesch Aktivisten Mord Dhaka Journalisten Homosexuellen Aktivisten Leichen werden abtransportiert (picture-alliance/dpa/S.Ramany)

নিহত মান্নান ও তনয়ের মৃতদেহ ফ্ল্যাট থেকে নামিয়ে আনা হচ্ছে (ফাইল ছবি)

গত বছরের ২৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় ঢাকার কলাবাগান এলাকায় বাড়িতে ঢুকে সমকামীদের অধিকার বিষয়ক ম্যাগাজিন ‘রূপবান’ সম্পাদক জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু মাহবুব তনয়কে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা৷ এলজিবিটি অধিকার কর্মী জুলহাজ সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনির আপন খালাতো ভাই এবং তিনি ইউএসএআইডিতে কর্মরত ছিলেন৷ আর মাহবুব তনয় ছিলেন নাট্যকর্মী৷ পাশাপাশি পিটিএ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে নাট্য প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন৷

অডিও শুনুন 00:34

‘‘আমরা তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি’’

এক বছর হয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িতদের এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ৷ মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলতে চাননি তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির ইন্সপেক্টর বাহাউদ্দিন ফারুকী৷ তবে ডিবি’র উপ-কমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা এরই মধ্যে দু'জনকে গ্রেপ্তার করেছি৷ তাদের একজন রশিদুন্নবী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে৷ আর তার জবানবন্দি ধরে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত পাঁচজনকে চিহ্নিত করেছি৷’’

তবে তাদের কাউকেই এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ৷ আর তারা কি দেশে, না দেশের বাইরে সে সম্পর্কেও নিশ্চিত হওয়া যায়নি৷ ডিবি'র উপ-কমিশনার বলেন, ‘‘আমরা তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি৷ গ্রেপ্তার না এই মামলার তদন্ত শেষ করা যাবে না৷ আশা করি, গ্রেপ্তার করতে পারব৷’’

জুলহাজ ও তনয় হত্যাকাণ্ডের পরের দিন আল-কায়েদার পক্ষ থেকে ‘আনসার আল ইসলাম-৫’-এর নামে এর দায় স্বীকার করা হয়৷ এই ঘটনার তদন্তে গোয়েন্দা পুলিশ গত বছরের ১৫ মে কুষ্টিয়া থেকে শরীফুল ইসলাম শিহাব নামে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করে৷ ১৭ অক্টোবর সায়েদাবাদ এলাকা থেকে রশিদুন্নবী ভুঁইয়া টিপু ওরফে রায়হান ওরফে রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়৷

তদন্ত সূত্র জানায়, দু'জনের মধ্যে রশিদুন্নবী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে৷ সে নিজে আরেক ব্লগার নাজিমুদ্দিন সামাদ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিলেও জুলহাজ-তনয় হত্যার সঙ্গে সরাসরি অংশ নেয়নি৷ তবে হত্যাকারীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছিল৷ আর গ্রেপ্তার হওয়া শিহাব অস্ত্রের যোগানদাতা ছিল বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা৷

তদন্ত সংস্থার দাবি, তাদের কাছ থেকেই জুলহাজ-তনয় হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত পাঁচ জনের নাম জানা গেছে৷ কিন্তু ওই পাঁচজন আটক না হওয়া পর্যন্ত তদন্তের নতুন আর কোনো অগ্রগতি আশা করা যায় না৷

অডিও শুনুন 01:43

‘‘রাস্তা থেকে দু'জন ধরলেই হয় না, প্রমাণ করতে হয়’’

নিহত জুলহাজ মান্নানের ভাই মিনহাজ মান্নান অবশ্য পুলিশের এই তদন্তে হতাশা প্রকাশ করেছেন৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা পুরোপুরি হতাশ৷ এখনো হত্যাকণ্ডে জড়িত কাউকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি৷ আমাদের তদন্তের কোনো অগ্রগতিও জানায়নি পুলিশ৷’’

পাঁচজন চিহ্নিত হওয়া প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ‘‘আমাদের বাচ্চা ছেলের গল্প বলে কী লাভ! এই গল্প শুনে আমাদের কী লাভ হবে৷ আমরা তো বাচ্চা না৷ রাস্তা থেকে দু'জন ধরলেই হয় না৷ প্রমাণ করতে হয়৷ এটা এত সহজ নয় যে, বলে দিলেই হলো৷ কারা জড়িত, কিভাবে জড়িত তা তো প্রমাণ করতে হবে৷ কাউকে এক বছরে ধরতেই পারলো না!’’

পুলিশের ধীর গতিতে তদন্তের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘এত জটিল বিষয়ে কথা বলে আমি কি আমার নিজের প্রাণ হারাব নাকি?’’

ভিডিও দেখুন 02:24

চেচনিয়ায় সমকামীদের নির্যাতন কেন্দ্র

এদিকে নানা পর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে, জুলহাজ-তনয় হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশে এলজিবিটি অধিকার সংক্রান্ত তৎপরতা থমকে গেছে৷ যারা সক্রিয় ছিলেন তাদের একাংশ দেশের বাইরে চলে গেছেন৷ যারা আছেন তারা এখন আর প্রকাশ্য কোনো তৎপরতা চালাচ্ছেন না৷

প্রিয় পাঠক, এই বিষয়ে আপনি কিছু বলতে চাইলে জানান নীচে মন্তব্যের ঘরে...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়