1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘বাঘের পিঠে চড়লে যা হয়, মমতার অবস্থাও তাই’

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জঙ্গিদের প্রতি নমনীয় নয় বলেই মনে করেন ব্লগার, প্রাবন্ধিক গর্গ চট্টোপাধ্যায়৷ তবে তাঁর আশেপাশের মানুষদের মধ্যে রয়েছে সমস্যা৷ ডয়চে ভেলেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি৷

Mamata Banerjee Ministerpräsidentin West Bengal

ফাইল ফটো

বর্ধমান বিস্ফোরণকে কেন্দ্র করে এখন তোপের মুখে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটারে তাঁর কর্মকাণ্ডের সমালোচনায় সরব অনেকে৷ মমতা এবং তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনেক৷ তবে সেগুলোর কি আদৌ কোনো ভিত্তি আছে? ডয়চে ভেলের সঙ্গে এই নিয়ে কথা বলেছেন কলকাতার ব্লগার গর্গ চট্টোপাধ্যায়৷

ডয়চে ভেলে: গত ২ অক্টোবর বর্ধমানে বিস্ফোরণের ঘটনার পর, টুইটারে বেশ দ্রুতই অনেকে তৃণমূল কংগ্রেস এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙুল তুলেছেন৷ বলা হচ্ছে, মমতা নাকি জঙ্গিদের প্রতি নমনীয় মনোভাব প্রদর্শন করছেন৷ আর সে কারণেই এমন পরিস্থিতি৷ বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন?

গর্গ চট্টোপাধ্যায়: মমতা বন্দোপাধ্যায় জঙ্গিদের প্রতি সজ্ঞানে নমনীয়, এমন প্রচার ভুল৷ তবে বেশ কিছু এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাথে যুক্ত হয়েছেন এমন কিছু মানুষ, যারা পশ্চিমবঙ্গে জঙ্গি ও জামাতি কার্যকলাপ নিয়ে নমনীয় তো বটেই, হয়ত গোপনে মদতও দিচ্ছেন এমন মানবতা-বিরোধী কর্মকাণ্ডে৷ রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার জন্য তৃণমূল নেত্রী এদের গিলতেও পারছেন না, আবার উগ্রাতেও পারছেন না – বাঘের পিঠে চড়লে যা হয়৷

বর্তমান সরকার জঙ্গিবাদ ও জামাতি রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেয়, এই প্রচারণা এমন ধার পেয়েছে, তার কিছু কারণ আছে৷ অনেকেই হয়ত জানেন না যে কলকাতার বুকে লক্ষাধিক মানুষের মিছিল করেছে পশ্চিমবঙ্গের জামাতপন্থি মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবিতে, যুদ্ধাপরাধী বিচার প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে৷ অথচ মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের স্বপক্ষে কলকাতায় মিছিল আটকে দিয়েছে সরকারের পুলিশ (রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী হলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়)৷ এই গোষ্ঠীগুলিকে তোষণ করে এবং হাসান ইমরান-এর মতো জামাত-ঘনিষ্ট বলে খ্যাত ব্যক্তিদের দলে উচ্চ আসন দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের ভোটকে নিজেদের কাছে রাখতে চাইছে৷ এর মাধ্যমে শুধু পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ মুসলমানকে অপমান করা হচ্ছে তাই নয়, সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের মধ্যেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করা হচ্ছে৷

পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর সম্পর্ক নিয়ে টুইটারে বেশ তোলপাড় দেখা যাচ্ছে৷ বাস্তবে বিষয়টি কতটা সত্য বলে আপনি মনে করেন?

যে কোনো রাজনৈতিক নেতৃত্বের মতোই মমতা বন্দোপাধ্যায় রাজনৈতিক ক্ষমতা ধরে থাকার প্রচেষ্টায় নিজের সকল কার্যকলাপকে নির্ধারণ করেন৷ এই প্রক্রিয়ার ফলে পশ্চিমবাংলার নানা জেলায়, বিশেষত উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় বেশ কিছু সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন গোষ্ঠী তাদের স্বার্থস্বিদ্ধি করতে তৃণমূলের ‘ছাতা'-কে ব্যবহার করছে৷ নিজ স্বার্থে, এলাকায়ে ভোট করাতে, যে লোকবল ও অন্যান্য জিনিস প্রয়োজন, সে স্বার্থে তৃণমূল দল-ও এদের আশকারা দিয়েছে৷ সীমান্তের ওধারে সাতক্ষীরা – জামাতের বড় ঘাঁটি৷ অনেকক্ষেত্রেই সীমান্তের পূর্ব দিকে জামাতি নাশকতার পর তাদের আশ্রয় হয় পশ্চিমে – সহানুভূতি-সম্পন্ন গোষ্ঠির সাহায্যে৷ এই গোষ্ঠীগুলির সাথে তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের যোগাযোগই আসলে মমতা বন্দোপাধ্যায়র দিকে আঙুল ওঠার প্রধান কারণ৷

এছাড়াও আছে সাম্প্রতিক সারদা কেলেঙ্কারিতে তৃণমূলের অনেক শীর্ষ ব্যক্তির নাম চলে আশা – এবং এ কথা প্রকাশ যে সারদা কেলেঙ্কারির বেশ কিছু লুটের টাকা তৃণমূলের জামাত-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মাধ্যমে ওপারে পাচার হয়ে গিয়েও থাকতে পারে৷ তৃণমূল এরই অংশ এদের কেউ কেউ – যদিও মমতা বন্দোপাধ্যায় ব্যক্তিগত ভাবে ওপারের জামাতের নেতা-কর্মীদের আশ্রয় দেবার ব্যাপার তদারকি করছেন, এটা আমার মনে হয় না৷ তবে এমন আশ্রয়ের অনুকুল পরিবেশ আজ পশ্চিমবঙ্গে বিরাজ করছে৷

Garga Chatterjee

ব্লগার গর্গ চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বের নানা দেশে বিভিন্ন সময় অনলাইন আন্দোলনের সঙ্গে রাজপথের আন্দোলনের যোগসূত্র দেখা গেছে৷ পশ্চিমবঙ্গে এখন তৃণমূল বিরোধী যে প্রচারণা টুইটারে দেখা যাচ্ছে, সেটা কি রাজপথে স্থানান্তর হতে পারে?

সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের প্ররোচনায় সরকারের পুলিশ হিংস্রভাবে ছাত্রছাত্রীদের পেটালো ও ছাত্রীদের শ্লীলতাহানি করলো, তার প্রতিবাদে ইংরেজিতে #হোককলরব হ্যাশট্যাগ দিয়ে আন্দোলন ছড়ায় টুইটার, ফেসবুক এবং রাজপথে৷ এই আন্দোলন তৃণমূল বিরোধী চরিত্র নিয়েছে, কারণ তৃণমূল আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের হেয় করে, পুলিশি বর্বরতাকেই অকুণ্ঠ সমর্থন করেছে৷ তবে বর্ধমান বিস্ফোরণকে কেন্দ্র করে এমন আন্দোলনের রাজপথে ব্যাপকভাবে দানা বাধা শক্ত৷ কারণ কলকাতাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে বর্ধমানের একটি গ্রাম কলকাতার চেতনায় দাগ কাটে না, শহরের অধিকাংশ মানুষের পল্লী বাংলা নিয়ে চেতনা, সহমর্মিতা কিছুই নেই৷

গত দু'দিনে ইংরেজিতে #তৃণমূলজিহাদ, #জিহাদিদিদি এবং #টিএমসি হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে কয়েক হাজার টুইট প্রকাশ হয়েছে মূলত পশ্চিমবঙ্গ থেকে৷ তাহলে কি টুইটারের ব্যবহার পশ্চিমবঙ্গে ফেসবুকের তুলনায় আরো শক্তিশালী হচ্ছে?

ফেসবুকের ব্যবহার পশ্চিমবঙ্গ এখনো ব্যাপক৷ এক্ষুনি সেই তুলনায় টুইটার অ্যাক্টিভিস্টরা সংখ্যায় নগন্য৷ তাছাড়া বাংলাদেশের সাথে পশ্চিমবঙ্গের একটা বড় তফাৎ হলো যে, সীমান্তের পূর্ব দিকে বাংলা ভাষা ও হরফকে কেন্দ্র করে স্বাধীন মতপ্রকাশের যে বলিষ্ঠ সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে ব্লগ, ফেসবুক ইত্যাদিতে, তা সীমান্তের পশ্চিমে প্রায় অনুপস্থিত৷ এদিকে বাঁশেরকেল্লাও নেই, প্রজন্ম চত্বরও নেই – আছে দিল্লীকেন্দ্রিক সংস্কৃতির অনুসারী দেখিয়ে দেওয়া পথে হয় নরেন্দ্র মোদীর গুণকীর্তন বা দিল্লীর চ্যানেল-গুলির দৈনিক হেডলাইন নিয়ে বিতর্ক৷

পশ্চিমবঙ্গের নিজস্বতা, তার জেলায় জেলায় যে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রবাহ, তা নিয়ে কলকাতাস্থিত অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা খুব চিন্তিত নন৷ এটা দুঃখজনক৷

রাজনৈতিক বিষয়ে প্রাবন্ধিক এবং ব্লগার গর্গ চট্টোপাধ্যায় ঢাকা, কলকাতা, করাচি, চেন্নাই ও মুম্বই-এর কিছু কাগজে নিয়মিত লেখেন৷ তাঁর ব্লগের নাম হাজারদুয়ারী৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি শেষে এমআইটিতে গবেষক হিসেবে কাজ করার পর এখন কলকাতায় অধ্যাপনা করছেন গর্গ৷ টুইটারে তাঁকে অনুসরণ করতে ক্লিক করুন এখানে