1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘বাগেরহাটের কসাই’ সহ তিনজনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ

বাগেরহাটে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করেছে বাংলাদেশের মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল৷ তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা এবং বিচার শুরুর জন্য শীঘ্রই ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানানো হবে৷

default

১৯৭১ সালের ৮ এপ্রিল কুষ্টিয়া থেকে এই ছবিটি তোলা

অভিযুক্ত এই তিনজন হলেন শেখ সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টার, আব্দুল লতিফ তালুকদার এবং খান আকরাম হোসেন৷ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ গত ১০ই জুন এই তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে৷

বাংলাদেশের দক্ষিণের জেলা বাগেরহাটের কচুয়ায়, সেখানকার থানা পুলিশ গত ১১ই জুন পলাতক আসামি আব্দুল লতিফ তালুকদারকে গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে৷ গত ১৯শে জুন অপর পলাতক আসামি আকরাম হোসেন খাঁনকে রাজশাহী থেকে মোড়েলগঞ্জ থানা পুলিশ গ্রেপ্তারের পর ট্রাইব্যুনালে সোপর্দ করা হয়৷

Internationales Gericht in Dhaka Bangladesch ARCHIVBILD

তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা এবং বিচার শুরুর জন্য শীঘ্রই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানানো হবে

সর্বশেষ দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর, গত ২১শে জুলাই রাতে বাগেরহাট মডেল থানা পুলিশ বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা গ্রাম থেকে সিরাজ মাস্টারকে গ্রেপ্তার করে৷ গ্রেপ্তারের পর তাঁদের ট্রাইব্যুনালের ‘সেফহোম'-এ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়৷ তাঁরা তিনজনই একাত্তরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী রাজাকার বাহিনীর সদস্য হিসেবে কাজ করতেন৷ তাঁদের মধ্যে ‘বাগেরহাটের কসাই' বলে কুখ্যাত সিরাজ মাস্টার রাজাকার কমান্ডার ছিলেন৷

সিরাজ মাস্টার এবং তাঁর দুই সহযোগী আব্দুল লতিফ তালুকদার ও আকরাম হোসেন খাঁন মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাগেরহাটের কচুয়ায় শাঁখারিকাঠি বাজারে গণহত্যা, ধর্ষণ ও ঘর-বাড়িতে অগ্নিসংযোগসহ আটটি সুনির্দিষ্ট অপরাধে মানবতাবিরোধী মামলার আসামি৷ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কচুয়ার শাঁখারিকাঠি বাজারে গণহত্যার শিকার রঘুদত্তকাঠি গ্রামের শহিদ জিতেন্দ্রনাথ দাসের ছেলে নিমাই চন্দ্র দাস বাদী হয়ে ২০০৯ সালে কচুয়া থানায় এই তিনজনসহ ১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন৷

শাখারীকাঠি বাজারে একই দিনে ৪২ জনকে হত্যা করা হয়৷ এছাড়া রামপাল ও ডাকরায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও এই তিনজন জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ৷

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার তদন্ত দল দীর্ঘ তদন্ত শেষে তিনজনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে৷ সোমবার ধানমন্ডিতে স্থাপিত তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান জানান, এই তিন আসামির বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগে তদন্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছে৷ এর মধ্যে গণহত্যা, ধর্ষণ ও বাড়িতে অগ্নিসংযোসহ লুটতরাজের অভিযোগ আছে৷ ৯টি খণ্ডে মোট ৮৪৪ পৃষ্ঠার ‘ডকুমেন্ট' তৈরি করা হয়েছে৷ এছাড়া তাঁদের বিরুদ্ধে ৬৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণও করা হয়েছে৷ শিগগিরই এ তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশন বরাবর দাখিল করা হবে৷''

প্রসিকিউটর রানা দাসগুপ্ত ডয়চে ভেলেক বলেন, ‘‘তদন্ত প্রতিবেদন যাচাই বাছাই করে দেখার পর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হবে ট্রাইব্যুনালে৷ এরপ ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গ্রহণ করলে তাঁদের বিচার শুরু হবে৷''

উল্লেখ্য, সারা দেশে এ পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ৫৭৭টি মামলা হয়েছে৷ এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১১২, চট্টগ্রামে ৮৪, রাজশাহীতে ৬৬, খুলনায় ১৮৪, সিলেটে ৫০ এবং বরিশালে ৩০টি মামলা দায়ের করা হয়৷ এছাড়া ২০১০ সালের ২৫শে মার্চ ট্রাইব্যুনাল গঠন করার পর এ পর্যন্ত মোট ৯টি মামলায় ১০ জনকে দণ্ড দেয়া হয়েছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়