1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

বাগানের শোভা বাড়ায় বড় বনসাই

বনসাই গাছ বললে টবের মধ্যে কোনো বড় গাছের ক্ষুদ্র সংস্করণের কথাই মনে হয়৷ জাপানের এই আশ্চর্য বিদ্যা আজ গোটা বিশ্বেই ছড়িয়ে পড়েছে৷ জার্মানির এক বিশেষজ্ঞ বড় আকারের বনসাই নিয়ে দারুণ ব্যবসা করছেন৷

জার্মানির উত্তরে একটি নার্সারির গাছগুলো দেখলে বোঝা যাবে, বহু বছর ধরে গাছগুলো কেটে-ছেঁটে এই আকারে আনা হয়েছে৷ এগুলো সবই ‘ইউনিক', এমন দ্বিতীয়টি পাওয়া যাবে না৷ দামও সেই অনুপাতে৷

গাছের দালালি

রিয়েল এস্টেট এজেন্টরা যেমন বাড়ির দালালি করেন, কাটারিনা ফন এয়ারেন তেমন গাছের দালালি করেন৷ নার্সারিতে এসে গাছ বাছেন, তাঁর খদ্দেররা ঠিক যেমনটি চান: হয়তো কোনো ল্যান্ডস্কেপ আর্কিটেক্ট, যিনি এক বড়লোকের বাগানের জন্য গাছ খুঁজছেন৷ ধরা যাক একটি লার্জ বনসাই পাইনগাছ, ত্রিশ বছরের পুরনো; দাম: পনেরো হাজার ইউরো৷ তাঁর খদ্দেরদের জন্য গাছ খুঁজতে কাটারিনা গোটা ইউরোপের নার্সারিগুলো চষে বেড়ান৷

গাছের দালালির ব্যাপারটা এসেছে মার্কিন মুলুক থেকে৷ কাটারিনা ফন এয়ারেন-ই সেটাকে জার্মানিতে আনেন৷ তাঁর খদ্দেররা সব খুঁটিনাটি জানতে চান৷ তিনি বলেন, ‘‘খদ্দেরকে ছবিগুলো মেল করে পাঠানো হবে, ঠিক আমরা যা বেছেছি৷ সেজন্য বিভিন্ন দিক থেকে ছবি তোলা হচ্ছে৷ খদ্দেরের ‘ওকে' পাবার পর আমরা গাছটা খুঁড়ে বার করার নির্দেশ দিই আর লরি আনাই, যাতে গাছটা তোলা হবে৷''

স্থাপত্যের অঙ্গ বনসাই

হামবুর্গের কাছে এই প্রাইভেট বাগানটির জন্য কাটারিনা গাছগুলো বেছেছেন৷ অর্ডার দিয়েছেন কিন্তু এক ল্যান্ডস্কেপ আর্কিটেক্ট ক্লাউডিয়া শাফ৷ কাটারিনা ফন এয়ারেন-এর গাছ চেনার ক্ষমতার উপর বিশ্বাস রাখেন ক্লাউডিয়া৷ গাছের দালালি করে কাটারিনা প্রথম বছরেই দশ লাখ ইউরোর ব্যবসা করেছেন৷ ক্লাউডিয়া বলেন, ‘‘সত্যি কথা বলতে কি, বহুবারই আমার অবস্থা ছিল যে, মাথায় একটা দারুণ আইডিয়া এসেছে, কিন্তু সেটাকে কীভাবে বাস্তবে রূপায়ন করতে হবে, তা আমার জানা নেই৷''

চাইনিজ ডগউড গাছ কাটারিনার খুব প্রিয়৷ তাঁর কাছে এখন এতো অর্ডার আছে যে, তিনি নতুন লোক রাখার কথা ভাবছেন৷ কেননা বিত্তশালীরা ক্রমেই একটা সুন্দর বাগান সৃষ্টি করাটাকে পুঁজি বিনিয়োগের নতুন পন্থা হিসেবে দেখছেন৷ কাটারিনা বলেন, ‘‘গাড়ি বা বাড়ি, একবার তৈরি হয়ে যাওয়ার পর তার দাম কমে৷ কিন্তু বাগানের ক্ষেত্রে ঘটে তার ঠিক উল্টো৷ ঠিকমতো দেখাশোনা করলে বাগানটা সত্যিই ধীরে ধীরে আরো বেশি অভিব্যক্তপূর্ণ, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য-যুক্ত হয়ে ওঠে৷''

সাইপ্রেস গাছগুলো হল ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের গাছ৷ নার্সারিতে সাইপ্রেসের আকারের গাছ তৈরি করা হয় উত্তরের ঠাণ্ডা দেশগুলোর মানুষদের জন্য৷

বাগানটা সাজাচ্ছেন ক্লাউডিয়া শাফ৷ গাছগুলো বেছেছেন কাটারিনা ফন এয়ারেন: একটি পাইন ও একটি জুনিপার, দুটোই লার্জ বনসাই৷ তিনি বলেন, ‘‘এ গাছের দাম আছে বৈকি৷ গাছটা প্রায় পঞ্চাশ বছরের পুরনো; গাছটাকে বার বার ছেঁটে, নতুন করে লাগিয়ে, তার গুঁড়িতে তেল মাখিয়ে, যত্ন করতে হয়েছে৷ কাজেই ও গাছের দাম এখন বিশ হাজার ইউরো৷''

হেমন্তের শুরু পর্যন্ত কাটারিনা ফন এয়ারেন নার্সারিগুলোতে সুন্দর সুন্দর গাছের খোঁজে থাকবেন৷ তারপর গাছগুলোকে তাদের নতুন মালিকের নতুন বাগানে লাগানো হবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক