1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

বাক স্বাধীনতা খর্ব হবে, পুলিশ হবে বেপরোয়া

সংসদে পাস হওয়া সন্ত্রাস বিরোধী আইন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং আইনজ্ঞরা৷ তাঁরা বলেছেন, এই আইনে ব্যক্তি স্বাধীনতা যেমন খর্ব হবে, তেমনি সাধারণ মানুষ শিকার হবেন হয়রানির৷

এছাড়া, পুলিশকে যে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে তাতে পুলিশ আরো বেপরোয়া হয়ে উঠবে৷

সংশোধিত সন্ত্রাস বিরোধী আইনে ফেসবুক, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মন্তব্য, ছবি বা অন্য কোনো ধরনের উপাদান আলামত বা সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণের কথা বলা হয়েছে৷ বলা হয়েছে, ইমেল ও ইন্টারনেটসহ অনলাইনের তথ্য বা ছবি আলামত হিসেবে আমলে নেয়ার৷ চিঠি-পত্রও একইভাবে গ্রহণযোগ্য৷ এর মানে হলো, এসব বিষয়ে নজরদারি করবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা৷ সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক ডয়চে ভলেকে বলেন, নাগরিকদের ব্যক্তিগত পর্যায়ের যোগাযোগ তা যে মাধ্যমেই হোক না কেন, তার ওপর নজরদারি করা যায় না৷ যায় না তা প্রকাশ করা৷ এটা সংবিধানের মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন৷ তিনি বলেন, আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনো নাগরিকের ব্যক্তিগত বিষয় প্রকাশ করা হলে তার মাধ্যমে মানুষকে হয়রানি করা হবে৷ তার ওপর একে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারেরও আশঙ্কা আছে৷

Symbolbild Meinungsfreiheit

বাক স্বাধীনতা খর্ব হবার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা

ড. শাহদীন মালিক বলেন, এই আইনে ম্যাজিস্ট্রেটদের এক ধরনের পুলিশি ক্ষমতা দেয়া হয়েছে৷ সংবিধানে ম্যাজিস্ট্রেটদের বিচারিক ক্ষমতা দেয়া আছে৷ ম্যাজিস্ট্রেট বিচার বিবেচনা করে আদেশ দেবেন৷ কিন্তু নতুন আইনে তিনি পুলিশ পাঠিয়ে যে কাউকে ধরে আনতে পারবেন৷ এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়৷

ব্যারিস্টার আমীর উল ইসলাম বলেন, ২০০৯ সালে এই আইনটি প্রণয়ন করা হয়৷ এই আইনটি আধুনিক এবং পূর্ণাঙ্গ৷ নতুন করে সংশোধন আনায় তাই মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে৷ তিনি বলেন, মূল আইনেই নাশকতার ঘটনায় ছবি বা ভিডিও ফুটেজ আমলে নেয়ার সুযোগ আছে৷ কিন্তু নানা ঘটনায় তা প্রয়োগ করা হয়নি৷ এখন নতুন করে ফেসবুক, টুইটার যুক্ত করার পিছনে কোনো ভালো উদ্দেশ্য আছে বলে মনে হয় না৷

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. এম জহির ডয়চে ভেলেকে জানান, এই আইনে পুলিশ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে অহিত করেই মামলা রুজু করতে পারবে, তদন্ত শুরু করতে পারবে৷ এটা করা হয়েছে পুলিশের সুবিধার জন্য৷ পুলিশ এই আইনের আওতায় অনেক বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে৷ পুলিশ যে কাউকে ধরে চালান করে দিতে পারবে৷

তারা তিনজনই মনে করেন, এই আইনের ফলে নাগরিকদের ব্যক্তি এবং বাক স্বাধীনতা খর্ব হবে৷ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষ মনের ভাব প্রকাশ করে, বিভিন্ন বিষয়ে মন্তব্য করে৷ আর তা যদি আলামত হয়ে যায় তাহলে তো আর মানুষ কথা বলতে পারবেই না!

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়