1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

বাইশ বছর পর গুজরাটে চ্যালেঞ্জের মুখে বিজেপি

এক কথায় বললে স্বপ্নভঙ্গের পালা শুরু হয়েছে গুজরাটে৷ রাহুল গান্ধীর ‘‌হাত ‌ধরেছেন’ হার্দিক প্যাটেল, অল্পেশ ঠাকোর ও জিগনেশ মেওয়ানি৷ মুসলিম ভোট তো ছিলই, এবার যুক্ত হয়েছে পাতিদার, তপশিলি এবং আদিবাসী ভোট৷ আশঙ্কা বিজেপি-‌তে৷

বাইশ বছর পর বিজেপি'‌র বিদায়-‌ঘন্টা কি সত্যিই বাজবে? শাসক দলের কেউই‌ এমনটা ভাবেননি৷ যদিও গুজরাটে এখন তেমনই পরিস্থিতি৷ সাধারণ মানুষের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে৷ শাসকের আসনে থেকে প্যাটেলদের আধিপত্য প্রায় শেষ৷ নরেন্দ্র মোদীর দল আবার মেরুকরণের পথে হাঁটতে শুরু করেছে৷ এরই মধ্যে পাতিদার নেতা হার্দিক প্যাটেল, তপশিলি জাতি-‌উপজাতি নেতা অল্পেশ ঠাকোর এবং আদাবাসী নেতা জিগ্নেশ মেওয়ানিরা কংগ্রেসের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে বিজেপিকে হঠানোর যুদ্ধে নেমেছেন৷ গোটা রাজ্য চষে বেড়িয়ে যা বোঝা গেল, একমাত্র মধ্য ও দক্ষিন গুজরাট ছাড়া আর কোথাও বিজেপি‌র আধিপত্য তেমন নেই৷ কিন্তু, উত্তর ও পশ্চিম গুজরাটে বহু বছর পর আবারও ফিরে আসছে কংগ্রেসের সমর্থন৷ একদিকে মোদী যখন ‘‌বিকাশ’ (‌উন্নয়ন)‌‌ ছেড়ে মেরুকরণের ওপর জোর দিচ্ছেন, তখন উল্টোদিকে কংগ্রেস সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধীও নরম হিন্দুত্বের রাস্তা ধরেছেন৷ ফলে আদিবাসী ভোট কংগ্রেসমুখী হচ্ছে৷

অডিও শুনুন 02:41

‘রাজ্যে নেতৃত্বের অভাবে ভুগছে ভারতীয় জনতা পার্টি’

আগামী ৯ ও ১৪ ডিসেম্বর দু-‌দফায় ভোটগ্রহণ হতে চলেছে৷ ফলাফল জানা যাবে ১৮ তারিখ৷ তার আগে দু-‌পক্ষের সেয়ানে-‌সেয়ানে লড়াই বেশ জমে উঠেছে৷

প্রবীন সাংবাদিক দেবারুণ রায়ের মতে, ‘‌‘‌পরপর তিনটি নির্বাচন এবং তার আগের কয়েক বছর মিলিয়ে মোট ২২ বছর গুজরাট শাসন করছে বিজেপি৷ স্বভাবতই সরকার-‌বিরোধী ভোটের প্রভাব থাকবে৷ কিন্তু, আসল সমস্যাটা হলো মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রধানমন্ত্রী হয়ে দিল্লি চলে যাওয়া৷ তারপরেই রাজ্যে নেতৃত্বের অভাবে ভুগছে ভারতীয় জনতা পার্টি৷ এবার যা পরিস্থিতি তাতে মোদীর সব হিসেব ওলটপালট করে দিলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই৷ মোদী, অমিত শাহদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে কংগ্রেস তথা রাহুল গান্ধী৷’’

মোদীকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেওয়া রাহুল গান্ধীর ‘‌থ্রি অ্যাঙরি ইয়ংম্যান’-‌এর মধ্যে হার্দিক প্যাটেলের ওপর বেশি ভরসা করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা, যদিও তিনি এই নির্বাচনে প্রার্থী হননি৷ বয়স মাত্র ২৪৷ ভারতীয় জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার নূন্যতম বয়স ২৫৷ তবে, ছোকরা হলেও গোটা রাজ্যের হিসেব বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেখছে ছেলেটি৷ আমেদাবাদ থেকে ৬১ কিলোমিটার দূরে বীরামগামে ‘‌ঝালাওয়াড়ি কড়বা প্যাটেল সমাজ’-‌এ দু-‌কামরার ঘরে বাস৷ বাবা ভারত প্যাটেলের জলপাম্পের ব্যবসা ছিল৷ বরাবর বিজেপির সমর্থক৷ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আনন্দিবেন প্যাটেল বহুবার বাড়িতে এসেছেন৷ কিন্তু, ছোট থেকেই সমাজ বদলের স্বপ্ন দেখা হার্দিক এবার সরকার বদলের প্রতিজ্ঞা করেছেন৷ একইভাবে আরেক যুবক জিগনেশ এবার লড়ছেন বড়গাম কেন্দ্র থেকে৷ কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন তিনি৷ জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত৷

আজ থেকে ছয় বছর আগে বড় কোনো নেতা‌র সুপারিশ না থাকায় ফিরিয়ে দিয়েছিলেন এআইসিসি-‌র নেতারা৷ দেখা করেননি রাহুল গান্ধী৷ কষ্ট পেয়েছিলেন সামাজিক আন্দোলনের যুক্ত যুবকটি৷ তবে, কংগ্রেস নেতাদের বলে এসেছিলেন, ‘‘‌একদিন নিজের ক্ষমতায় রাহুলের সঙ্গে দেখা করব৷’’ যুবকটির নাম অল্পেশ ঠাকোর৷ বছর বিয়াল্লিশের ছিপছিপে চেহারার অল্পেশ এখন কংগ্রেস সহ-‌সভাপতি রাহুলের নয়নের মণি৷ সেইসঙ্গে বিজেপি‌র ভয়ের কারণও বটে৷ তাঁর ওপর অগাধ আস্থা কংগ্রেসের হবু সভাপতির৷ সদ্য কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন অল্পেশ৷

রাজ্যের ১১টি আসনে টিকিট আদায় করেছেন ‌অল্পেশ৷ প্রচারে নিজের সংগঠনকেই এগিয়ে রাখছেন রাধনপুর কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী৷ গুজরাটে সমাজ আন্দোলনের ইতিহাসে জায়গা করে নেওয়া এই নেতা একসঙ্গে দুটি সংগঠনের জনক৷ একটি ‘‌গুজরাট ক্ষত্রিয় ঠাকোর সেনা’ এবং অন্যটি ‘‌ওবিসি-‌এসসি-‌এসটি একতা মঞ্চ’৷ এক কথায়, গোটা রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণির মানুষের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছেন তিনি৷ সামাজিক আন্দোলন থেকে উঠে আসা অল্পেশের কথায়, ‌‘‘‌কয়েকবছর আগে গুজরাটে শুধুমাত্র মদ খেয়ে প্রতিবছর ১০-‌১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছিল৷ আইন থাকলেও সরকার ও পুলিশি যোগসাজশের জেরে মৃত্যুমিছিল থামছিল না৷ আমার আন্দোলনের জেরে এখন তা প্রয় বন্ধ হয়েছে৷’’ আরও বললেন, ‘‌‘‌ক্ষমতার লোভে নয়, সমাজ বদলানোর স্বপ্নে রাজননীতিতে আসার আগ্রহ ছিল৷ ২০১১ সালে দিল্লি গিয়েছিলাম৷ রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম৷ পারিনি৷ আমাকে বলা হয়েছিল, ‘‌আগে বড় কোনও নেতার সুপারিশ নিয়ে এসো'‌৷ আজ রাহুল গান্ধী আমার ওপর সবচেয়ে বেশি ভরসা করছেন৷ এটাই তো আমার জয়৷’’

প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা খোডাভাই ঠাকোরের ছেলে অল্পেশ৷ দেখা হলো অল্পেশের বাবা খোডাভাইয়ের সঙ্গে৷ ১৯৮০ থেকে আমেদাবাদ জেলা পরিষদের সদস্য তিনি৷ ২০০০ সালে জেলাপরিষদের চেয়ারম্যান এবং পিডব্লুডি-‌র চেয়ারম্যান ছিলেন৷ তাঁর বাবা মেরুজি ঠাকোর ছিলেন গ্রামের সরপঞ্চ৷

সামাজিক কর্মী হিসেবে উত্তর ও মধ্য গুজরাটে বেআইনি মদের রমরমার বিরুদ্ধে আন্দোলন দিয়ে যাত্রা শুরু করে খুব অল্প সময়েই জননেতায় পরিণত হয়েছেন অল্পেশ৷ প্রতিবেশীরা জানালেন, ‘‌২০১০ সালে দুই নিকট আত্মীয় মদের নেশায় ডুবে মারা যান৷ তারপর থেকেই মদের বিরুদ্ধে আন্দেলন শুরু করেন অল্পেশ৷ মদের নেশায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হতো ঠাকোর সমাজ৷ তাই গড়ে তোলেন ঠাকোর সেনা৷

এদিকে, দু-‌দশক ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা কংগ্রেস এবার অল্পেশের বিষয়ে অনেক বেশি আশাবাদী৷ গুজরাটে অনগ্রসর শ্রেণির ভোটারের হার প্রায় ৫০ শতাংশ৷ এরমধ্যে ২০-‌২২ শতাংশ ভোটার ঠাকোর৷ অল্পেশের দাবি, তিনি কংগ্রেসকে ১১২ থেকে ১২৫টি আসন পাইয়ে দিতে সক্ষম৷ কিন্তু, এই দাবি কতটা সত্যি হবে তা জানা যাবে ১৮ ডিসেম্বর৷

যদিও আমেদাবাদের প্রভাবশালী বিজেপি নেতা ইয়ামল ব্যাস বেশ জোর গলায় বললেন, ‘‘‌অল্পেশ ঠাকোরের কথায় অনগ্রসর শ্রেণির ভোটাররা কংগ্রেসকে মোটেও ভোট দেবে না৷ তাছাড়া অল্পেশের শুধুমাত্র উত্তর ও মধ্য গুজরাটে দাপট আছে৷ বাকি এলাকায় ওঁর কথা কে শুনবে!‌’’

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়