1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

‘বাংলা’ হচ্ছে নারী ও শিশু পাচারে শীর্ষে থাকা পশ্চিমবঙ্গ?

নারী ও শিশু পাচারে পশ্চিমবঙ্গের স্থান সারা ভারতে প্রথম৷ এই হিসেব জাতীয় অপরাধ তথ্য-পরিসংখ্যান দপ্তরের, যা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সরকার ও এনজিওগুলো ভুল বলে দাবি করছে৷

পশ্চিমবঙ্গের নাম বদলে যে ‘‌বাংলা'‌ হবে, সেই প্রস্তাবটি বৃহস্পতিবার পাশ হয়ে গেল রাজ্য বিধানসভায়৷ নানা মহল থেকে এই নাম বদলের সমালোচনা হচ্ছে৷ বলা হচ্ছে, রাজ্যের অনেক গুরুতর সমস্যা রয়েছে, যেগুলোতে নজর দেওয়া দরকার৷ তা না করে একদিকে যেমন ঢালাও সৌন্দর্যায়ন চলছে, তেমনই রাজ্যের এই নতুন নামকরণের মতো অদরকারি কাজে মেতে থাকছে সরকার৷ যেমন গত সপ্তাহেই কেন্দ্রীয় সরকারের নারী ও শিশুকল্যাণ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী কৃষ্ণা রাজ সংসদে জানিয়েছেন, বাল্য বিবাহ এবং নারী ও শিশু পাচারে পশ্চিমবঙ্গ সারা দেশের সমস্ত রাজ্যের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে৷ এবং প্রতি বছরই নারী পাচারের সংখ্যাটা বাড়ছে৷ রাজ্যসভায় এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে কৃষ্ণা রাজ জানান, ২০১৫-১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ নারী ও শিশু পাচারে পয়লা নম্বরে ছিল৷ ২০১৫ সালে ২০৬৪ জন নারী পাচার হয়েছে৷ পরের বছর সেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫৫৯ জন৷ শিশু পাচার ২০১৫ সালে ছিল ১৭৯২ জন, ২০১৬ সালে সেটা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১১৩ জনে৷ নারী ও শিশু কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এই হিসেব দাখিল করেছেন ভারতের ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো'র তথ্য উদ্ধৃত করে৷

পশ্চিমবঙ্গ সরকার স্বাভাবিক কারণেই এই হিসেবে ক্ষুব্ধ৷ এবং রাজ্যে চিট ফান্ডের বাড়বাড়ন্ত থেকে শুরু করে আর্থিক দুরবস্থা, সবকিছুর দায়ই যেমন পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়, এক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি৷ রাজ্য সচিবালয়ের দাবি, আগের সরকারের আমলে নারী ও শিশু পাচারের ঘটনা ঘটলেও তা পুলিসের খাতায় নথিভুক্ত হতো না৷ কিন্তু তৃণমূল সরকারের আমলে সেটা নিয়মমাফিক হচ্ছে৷ তাই সংখ্যাটা বেশি মনে হচ্ছে৷ রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা নিজে অবশ্য এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি৷ তবে দলীয় সাংসদ কাকলী ঘোষ দস্তিদার দাবি করেছেন, কেন্দ্র সরকারের দেওয়া এই রিপোর্ট ভুল৷ রাজ্যে শিশু পাচারের দায়ে অভিযুক্ত খোদ বিজেপি নেতা-নেত্রীরা৷ তাই এখন ভুল পরিসংখ্যান দিয়ে অন্য দিকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা চলছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর এই তথ্য-পরিসংখ্যানকে ভুল না বললেও অন্য একটি অসঙ্গতির দিকে নির্দেশ করেছেন দূর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির দায়িত্বে থাকা ডাঃ স্মরজিৎ জানা৷ সোনাগাছির যৌনপল্লীতে বহু বছর ধরেই যৌনকর্মীদের অধিকার নিয়ে লড়ছে দূর্বার, যার মধ্যে এক বড় কাজ অনিচ্ছুক যৌনকর্মীদের উদ্ধার করা৷ অর্থাৎ জোর করে, ইচ্ছের বিরুদ্ধে, কিংবা ভুলিয়েভালিয়ে যৌনপেশায় আনা হয়েছে যে মেয়েদের, যারা পাচার হয়ে এসেছে, দূর্বার তাদের চিহ্নিত করে এবং হয় বাড়িতে ফেরত পাঠায়, অথবা বিকল্প কর্মসংস্থান করে৷ ডঃ জানার বক্তব্য, যারা যৌন পেশায় আসছে প্রতি বছর, তাদের সবাইকেই পাচার হওয়া মেয়ে হিসেবে দেখানো হয় ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্যে৷ কিন্তু অনেক মেয়েই স্বেচ্ছায়, জীবিকার তাগিদে যৌন পেশায় আসে৷

দূর্বারের নিজের কাছে এ সংক্রান্ত যা তথ্য আছে, তাতে দেখা যায় মেয়েরা তিন ধরনের কাজে মূলত শহরে আসে৷ গৃহ পরিচারিকার কাজ, নির্মাণ শ্রমিকের কাজ এবং যৌন পেশা৷ প্রথম দুটি কাজ যেহেতু পরিশ্রমসাপেক্ষ এবং সেই তুলনায় মজুরি যথেষ্ট নয়, অনেকে নিজেরাই অপেক্ষাকৃত কম শারীরিক পরিশ্রমের, কিন্তু বেশি উপার্জনের যৌন পেশা বেছে নেন৷ ডাঃ স্মরজিৎ জানার বক্তব্য, এটা একটা বাস্তব প্রবণতা, যাকে উপেক্ষা করা যায় না৷ বরং অগ্রাহ্য করা যায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের সংসদে দেওয়া ওই তথ্যকে, যা সমস্যার পুরোটা দেখছে না৷

এ ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গ পুলিসের গোয়েন্দা শাখা সিআইডি-র অ্যান্টি হিউম্যান ট্রাফিকিং সেল-এর ওসি অপর্ণা সরকারও ডয়চে ভেলেকে বললেন, যদিও সরকারিভাবে তিনি এ ব্যাপারে মতামত জানানোর যথাযথ কর্তৃপক্ষ নন, কিন্তু তাঁদেরও অভিজ্ঞতা অন্য৷ নারী পাচারের প্রশ্নে দূর্বারের বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে গেল তাঁর মন্তব্য৷ শিশু পাচারের ক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য ঠিক নয় বলে দাবি করলেন অপর্ণা সরকার৷ জানালেন, প্রচুর শিশুকে পুলিশ উদ্ধার করে, এখনও করছে, যাদের মূলত যৌনপেশায় নিয়ে আসার চেষ্টা হয়৷ আর ভিক্ষাবৃত্তির জন্য শিশু পাচারের ঘটনা গত তিন বছরে যে একটাও তাদের নজরে আসেনি, বা ধরা পড়েনি, সেটা বেশ জোর দিয়েই বললেন তিনি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়