1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

বাংলা ব্লগে মুক্তিযুদ্ধের জমজমাট উপস্থিতি

বাংলাদেশের বর্তমান প্রজন্ম সম্পর্কে বেশ আশাবাদী মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডাররা৷ যেমন কে এম সফিউল্লাহ গর্বের সঙ্গেই বলেন, নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধটাকে সম্মানের সাথে দেখে৷ তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ ক’রে আছে৷

বর্তমান প্রজন্মের ইন্টারনেট লেখনীতে মুক্তিযুদ্ধ অন্যতম বিষয়

ডয়চে ভেলের সেরা বাংলা ব্লগ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ব্লগার আলী মাহমেদ একাত্তরের বেশ কয়েকজন বীর সেনাকে নিয়ে লিখেছেন

এই বর্তমান প্রজন্মের সঙ্গে ইন্টারনেটের সখ্য কিন্তু বেশ গাঢ়৷ ফেসবুক, টুইটার কিংবা বাংলা ব্লগিং- সর্বত্রই তরুণদের স্বচ্ছন্দ বিচরণ৷ স্বভাবতই, মুক্তিযুদ্ধের বিষয়টিও তাই দেখা যায় বর্তমান প্রজন্মের ইন্টারনেট লেখনীতে৷ ব্লগার অমি রহমান পিয়াল নিরলসভাবে লিখে চলছেন স্বাধীনতার গল্প, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের কথা, আর অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের ষড়যন্ত্রের কথাও৷ অমি'র এসব লেখা মাঝেমাঝেই ইন্টারনেট আঙিনায় ঝড় তোলে৷

মুক্তিযুদ্ধের সংজ্ঞা

ব্লগ সাইট সচলায়তনে ব্লগার ষষ্ঠ পাণ্ডব মুক্তিযুদ্ধের সংজ্ঞা নিয়ে বিশদ লিখেছেন৷ বিভিন্ন ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে একটু ভিন্নভাবে তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন৷

বিনা টিকিটে ট্রেনে চড়া

মুক্তিযুদ্ধের সময়কার অনেক স্মৃতিও উঠে এসেছে ব্লগারদের পাতায়৷ মুক্তমনায় নৃপেন্দ্র সরকার লিখেছেন '৭১ এর স্মৃতি৷ সেসময় পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশিরা টিকিট ছাড়াই ট্রেনে চড়তে পারতো৷ সেই বিনা টিকিটে চড়ার করুণ অভিজ্ঞতা চমৎকারভাবে ব্লগে ফুটিয়ে তুলেছেন সরকার৷

যোগ হচ্ছে অজানা তথ্য


এভাবে বাংলা ব্লগ সাইটগুলো মুক্তিযুদ্ধের তথ্যে দিনে দিনে সমৃদ্ধ হচ্ছে৷ শুধু তাই নয়, সাধারণের অজানা অনেক তথ্যের, অনেক যোদ্ধার খোঁজ দিচ্ছে ব্লগাররা৷ ব্লগার আলী মাহমেদ এমনই একজন, যিনি একাত্তরের কয়েকজন বীর সেনাকে নিয়ে লিখেছেন৷ এই সেনারা স্বীকৃত সংবাদমাধ্যমে তেমন জায়গা পায়নি৷

Screenshot www.amarblog.com/

বর্তমান প্রজন্মের ইন্টারনেট লেখনীতে মুক্তিযুদ্ধ অন্যতম বিষয়

তারপরও তাদের গল্প অনলাইন পাঠকের মনে শিহরণ জাগায়৷ আলী মাহমেদ বলেন, ব্লগস্ফেয়ারে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এখন প্রচুর লেখালেখি হচ্ছে৷ তবে হতাশাব্যাঞ্জক একটা সময়ও ছিল৷ বিশেষ করে ২০০৫ সালের দিকে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখালেখি করছে এমন মানুষের সংখ্যা হাতে গোনা যেত৷ এর কারণও আছে৷ সেসময় ব্লগস্ফেয়ারে তথ্যের ঘাটতিও ছিল৷

ডয়চে ভেলের সেরা বাংলা ব্লগ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী এই ব্লগার মনে করেন, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক লেখালেখি সারা বছর ধরেই চলা উচিত৷ নির্দিষ্ট কোন মাস বা দিনকেন্দ্রিক নয়, মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছে হৃদপিণ্ডের মতো৷ সারা বছরই এটা নিয়ে আপনি মাথা ঘামাবেন, গবেষণা করবেন, চর্চা করবেন এমনটাই হওয়া উচিত৷

ছবি ব্লগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মিরাজুর রহমান৷ মুক্তিযুদ্ধের ছবি নিয়ে ২০০৭ সালে একটি ব্লগ পোস্ট করেন তিনি৷ যুদ্ধের গুটিকয়েক ছবি ছিল সেই পোস্টে৷ তরুণ প্রজন্ম এই লেখাটিকে অত্যন্ত পছন্দ করেছিল৷গুগলের কল্যাণে এখনো সেখানে ঢুঁ মারে পাঠকরা৷ এভাবেই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক লেখালেখি ইন্টারনেট জগতে চিরস্থায়ী এক জায়গা করে নিচ্ছে৷

উল্লেখ্য, বর্তমানে বিভিন্ন বাংলা ব্লগ সাইটে নিবন্ধিত ব্লগারের সংখ্যা লক্ষাধিক৷ তাছাড়া বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যাও বাড়ছে সমানতালে৷ তাই, ভবিষ্যতে ব্লগিংই মুক্তিযুদ্ধের তথ্যভাণ্ডারকে আরো সমৃদ্ধ করবে, এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷

প্রতিবেদন: আরাফাতুল ইসলাম

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক