1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘বাংলা অভিধানে ‘মীরজাফর'-এর পাশাপাশি গোলাম আযম!'

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধী জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযম মারা গেছেন৷ ৯০ বছর কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাজা ভোগের মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান৷

১৯৬৯ সালে গোলাম আযম যখন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের আমির হন, বাংলার মানুষের স্বাধিকারের আন্দোলন তখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে৷ একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে শান্তি কমিটি, রাজাকার ও আলবদর বাহিনী গঠনে নেতৃত্ব দেন গোলাম আযম৷ এসব আধা সামরিক বাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে পাকিস্তানি সেনারা বাংলাদেশে ব্যাপক হত্যা ও নির্যাতন চালায়৷

গোলাম আযমের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই অনেক মন্তব্য করেছেন৷ টুইটারে সেলিম সামাদ দৈনিক পত্রিকা ডেইলি স্টারের সংবাদটি শেয়ার করেছেন৷

আন্তর্জাতিক বেশিরভাগ গণমাধ্যমেই সংবাদটি স্থান পেয়েছে৷ গার্ডিয়ানেও গুরুত্ব নিয়ে ছাপা হয়েছে খবরটি৷

সামহয়্যার ইন ব্লগে মঞ্জুর চৌধুরী লিখেছেন ২৩ শে অক্টোবর যাতে বাংলাদেশিরা পরাজয় দিবস হিসেবে পালন করেন৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘

যেখানে একটি সামান্য পিঁপড়া মারার অপরাধে একজন নবীকেও আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হয়, সেখানে তিরিশ লক্ষ মানুষ মারা হয়েছে! তিরিশ লক্ষ! নারী ধর্ষণ এবং লুটপাটের হিসেবতো আছেই৷ এই লোকটা কী ভাবে স্বাধীনতার তেতাল্লিশ বছর পর সবাইকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রাকৃতিক নিয়মে মরার সৌভাগ্য লাভ করে?

আমি নিশ্চিত এই ঘটনায় পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধাগণ, শহীদ জননী-বীরাঙ্গনাগণ সবাই অভিমানে চোখের জল ফেলছেন৷ বুকের ভিতর আর্তনাদ চেপে রাখার চেষ্টা করছেন৷ ষোলই ডিসেম্বর যদি আমাদের বিজয় দিবস হয়ে থাকে, তবে এখন থেকে তেইশে অক্টোবরকে আমাদের ‘পরাজয় দিবস' হিসেবে পালন করা উচিত৷ মাননীয় স্পিকার, আমরা আমাদের সবচেয়ে বড় যুদ্ধাপরাধীর বিচার করতে পারিনি৷ আমরা খুবই অক্ষম জাতি! জনাব গোলাম আযমের স্বাভাবিক মৃত্যুতে আমরা ভীষণভাবে শোকাভিভূত৷''

সেতু আশরাফুল হক একই ব্লগে লিখেছেন, ‘‘

ফসকে গেল রাজাকারের পালের গোদা৷ আমাদের আনন্দিত হবার কিছু নেই, বরং আফসোস হচ্ছে যে শেষ পর্যন্ত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফাঁসির রায় কার্যকর করা গেল না৷ ‘মীরজাফর'-এর পাশাপাশি ‘গোলাম আযম' একই অর্থ বহন করবে বাংলা অভিধানে৷

ব্লগার রেজা ঘটক লিখেছেন রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধায় বেশ আরাম আয়েসেই ছিলেন গোলাম আযম৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘

মৃত্যুর আগে জনগণের ট্যাক্সের পয়সায় এই নরজীবাণুকে রাষ্ট্রীয় লোকবল দিয়ে খাবার, চিকিৎসা, বিশ্রামের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হয়েছিল৷ শেষ ইচ্ছা নিয়েও এই কুখ্যাত শকুনের একটা আবদার৷ সুতরাং গোলাম আযমের লাশ কোথায় দাফন করা হবে, সেই প্রশ্নে বরং জাতি এখন একটা মোক্ষম গণভোটে যেতে পারে৷ আমি শতভাগ নিশ্চিত গণভোটের রায়ে এই কুখ্যাত নরঘাতকের লাশ কেউ বাংলার মাটিতে কবর দেওয়ার পক্ষে যাবে না৷ এই লাশ পাকিস্তানে পাঠানো হোক৷ ''

অপু তানভীর অনেকগুলো দৈনিক পত্রিকার গোলাম আযমের মৃত্যু সংবাদ তুলে দিয়ে লিখেছেন,

‘‘আফসোস যে রাজাকারের নামের আগে রাজাকার শব্দ টা লিখতে এযুগের নির্ভীক সাংবাদিকদের লজ্জা লাগে৷''

ইপন শামসুল ফেসবুকে গোলাম আযমের কিছু উক্তি তুলে ধরেছেন৷ এখানে কয়েকটি উক্তি দেয়া হলো৷

১. ‘‘পাকিস্তান যদি না থাকে তাহলে জামাত কর্মীদের দুনিয়ায় বেঁচে থেকে লাভ নেই'' - গোলাম আযম - দৈনিক সংগ্রাম, ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

২. ‘‘কালেমার ঝাণ্ডা উঁচু রাখার জন্য রাজাকারদের কাজ করে যেতে হবে৷''- গোলাম আযম -দৈনিক সংগ্রাম, ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭১

৩. ‘‘তথাকথিত বাংলাদেশের আন্দোলনের ভুয়া স্লোগানে কান না দিয়ে পাকিস্তানকে নতুনভাবে গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি৷'' - গোলাম আযম -দৈনিক পাকিস্তান, ১৭ অক্টোবর ১৯৭১

৪. কোনো ভালো মুসলমানই তথাকথিত বাংলাদেশের আন্দোলনের সমর্থক হতে পারে না৷ রাজাকাররা খুব ভালো কাজ করছে৷ – গোলাম আযম -দৈনিক সংগ্রাম, ২ অক্টোবর ১৯৭১

অভিনু কিবরিয়া ইসলাম ফেসবুক পাতায় লিখেছেন, ‘‘

ক্ষমা করুন বীর শহীদেরা৷ আপনাদের উত্তরসুরি, এদেশের সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা আজো নেই, অথচ, রাজাকার শিরোমণি গোলাম আযম দেশ স্বাধীন হবার পর বেঁচে রইলো ৪৩ বছর, তার স্বাভাবিক মৃত্যু নিশ্চিত হলো৷ আমাদের ট্যাক্সের টাকায় শেষ দু'বছরে তার খাওয়া-দাওয়া, চিকিৎসা হলো, এতটাই মানবতাবাদী, সহনশীল আমরা৷''

রাগিব হাসান লিখেছেন, ‘‘

পুরো একটি জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতার দায়ে মাত্র এক বছর হাসপাতালের নরম বেডে আরামে কাটাতে হয়েছে তাকে, কুকীর্তির তুলনায় এ এক হালকা শাস্তি মাত্র৷ বাঙালি জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে ইতিহাসে দুইজন তাদের মৃত্যুর পরেও হয়ে থাকবে চিরঘৃণিত ... মীর জাফর আলী খান, আর গোলাম আযম৷''

সংকলন: অমৃতা পারভেজ

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

নির্বাচিত প্রতিবেদন