বাংলাদেশ হাসপাতালের কমান্ডিং অফিসার ডা. সিতারা | মুক্তিযুদ্ধ | DW | 08.02.2012
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

মুক্তিযুদ্ধ

বাংলাদেশ হাসপাতালের কমান্ডিং অফিসার ডা. সিতারা

স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন সেনা কর্মকর্তা ও চিকিৎসক সিতারা রহমান৷ তাঁর বড়ভাই মেজর হায়দারও ছিলেন দুই নম্বর সেক্টরের ডেপুটি কমান্ডার৷ কিন্তু ১৯৭৫ সালে তিনি নির্মমভাবে খুন হন৷ এরপর সিতারা অ্যামেরিকায় চলে যান৷

আগরতলায় যাওয়ার পথে বালাটে গিয়ে কয়েকদিনের জন্য আটকা পড়েন বীরপ্রতীক ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা রহমান এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা৷ বালাটে থানায় সবার নাম তালিকাভুক্ত করার পর সেখানে তিন চারদিন অপেক্ষা করে মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রাকে করে রওয়ানা দেন৷ এসময়ের ঘটনা স্মরণ করে ডা. সিতারা বলেন, ‘‘আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের বহনকারী তিন-চারটি ট্রাকে করে প্রায় সারাদিন পথ চললাম৷ শিলঙ পৌঁছে সিলেটের এক ভদ্রলোকের বাসায় উঠি৷ সেখানে কয়েকদিন অপেক্ষা করে আমরা আসানসোল বিমানবন্দরে গেলাম৷ কিন্তু সেদিন আর কোন বিমান নেই৷ ফলে সেখান থেকে একদিন পর বিমানে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়৷ কিন্তু আমার কাছে থাকা পিস্তল নিয়ে বিপত্তি বাধে৷ পিস্তল সাথে নিয়ে তো আমাকে বিমানে যাত্রা করতে দেবে না৷ ভাইয়া ইতিমধ্যে অবশ্য ভারতীয় এক ব্রিগেডিয়ারের কাছ থেকে একটা চিরকুট লিখে নিয়ে এসেছিলেন৷ সেটাতে লেখা ছিল যে, ‘তাদের অভিযান গোপনীয়৷ তাই এ ব্যাপারে তাদের কোন জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে না৷' এ চিরকুট দেখার পর কাস্টমস এর লোকজন কিছুটা নরম হলো৷ কিন্তু বিমানে ওঠার আগে আমার কাছ থেকে পিস্তলটা নিয়ে নিল এবং বলল যে, এটা বৈমানিকের কাছে থাকবে৷ বিমান থেকে নামার সময় সেটা আমি নিতে পারবো৷ সেভাবেই আমরা যাত্রা করতে রাজি হলাম৷ এরপর আমরা আগরতলা গিয়ে পৌঁছলাম৷ সেখানে পৌঁছে দুই নম্বর সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফের সাথে সাক্ষাৎ হলো৷ তিনি আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার জন্য বিশ্রামগঞ্জে স্থাপিত হাসপাতালের বিভিন্ন বিষয় আমাকে জানালেন৷''

Dr Sitara Rahman Bir Protik und Freiheitskämpferin aus Bangladesch

আহত মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসা করছেন ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা রহমান এবং অন্যরা

বিশ্রামগঞ্জে স্থাপিত বাংলাদেশ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা শুরু করেন ডা. সিতারা রহমান৷ তাঁর সাথে যোগ দেন আরো বেশ কিছু সাহসী নারী৷ তবে বিজয় পর্যন্ত বাংলাদেশ হাসপাতালের সবকিছু দেখাশোনা ও পরিচালনার দায়িত্ব ছিল ডা. সিতারার উপর৷ এসময়ের কাজের কথা বলতে গিয়ে ডা. সিতারা বলেন, ‘‘কিছুদিন পরই সেখানে পরিদর্শনে আসেন জেনারেল এম এ জি ওসমানী৷ তিনি এসে আমার সাথে করমর্দন করে বললেন, হ্যালো, ক্যাপ্টেন সিতারা৷ কেমন আছেন? সেই থেকে আমি ক্যাপ্টেন হয়ে গেলাম৷ যাহোক, ৪০০ বিছানার হাসপাতাল গড়ে তোলা হয়েছিল৷ সেখানে ডা. জাফরুল্লাহ এবং ডা. মুবিন ছিলেন৷ এখন সাভারে যে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে সেটা বাংলাদেশ হাসপাতালেরই অংশবিশেষ৷ আমরা সেই হাসপাতালের জন্য বিভিন্ন মহল থেকে বহু সাহায্য পেয়েছি৷ আমার মনে আছে, আমি বহুবার আগরতলা গিয়েছি চিকিৎসকদের জন্য সরবরাহকৃত নমুনা ওষুধ সংগ্রহ করতে৷ ওষুধের দোকানগুলোতে ঘুরে ঘুরে ফিজিশিয়ান স্যাম্পল থাকলে সেগুলো নিয়ে আসতাম৷ তারপর হাসপাতালে যেতাম৷ হাসপাতাল থেকে কিছু অনুদান পেতাম৷ ডা. রায় চৌধুরী ছিলেন৷ তিনি আমাদের বেশ অনুদান দিয়েছেন৷''

Dr Sitara Rahman, 1971 während der Freiheitskämpfe in Bangladesch

১৯৭১ সালে ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা রহমান...

১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হয়৷ তবে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেখানে ফেলে দেশে ছুটে আসেননি ডা. সিতারা৷ ডিসেম্বরের পরে তিনি দেশে ফিরেন৷ সেসময়ও চল্লিশ থেকে পঁয়তাল্লিশ জন রোগী ছিলেন৷ তাদেরকেও কুমিল্লা নিয়ে আসা হয়৷ কুমিল্লা কলেজের ছাত্রীনিবাসে কয়েকদিন ছিলেন তাঁরা৷ এরপর ধীরে ধীরে ঢাকায় ইস্কাটনে স্থানান্তর করা হয় সবাইকে৷ কিন্তু এসময় রোগীদের ঢাকায় না এনে বরং লাখনৌ পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছিল৷ ডা. সিতারা তার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করেন৷ এ সম্পর্কে তিনি জানান, ‘‘আমরা কতো কষ্ট করে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের কুমিল্লা নিয়ে আসলাম৷ আর সেখানে শুনি ভারতের লাখনৌতে তাদের পাঠানো হবে৷ আমি সকালে রোগীদের যখন দেখতে গিয়েছি, তখন সবাই চিৎকার আর কান্নাকাটি করে আমাকে জানালো যে, আমরা লখনৌ যেতে চাই না৷ আমাদের স্বাধীন দেশে আমরা থাকতে চাই৷ তখন আমি কুমিল্লা সেনানিবাসের কর্মকর্তাদের সাথে বেশ ঝগড়া করেই রোগীদের লাখনৌ পাঠানোর পরিকল্পনা পাল্টাতে বাধ্য করি৷''

স্বাধীন বাংলাদেশে আবারো সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন ডা. সিতারা রহমান৷ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল ছিল তাঁর কর্মস্থল৷ এসময় সেনা কর্মকর্তা এবং মুক্তিযোদ্ধা ডা. আবিদুর রহমানের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন সিতারা৷ ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর বড়ভাই মেজর এ টি এম হায়দার বীরউত্তম নিহত হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চলে যান ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা রহমান৷

প্রতিবেদন: হোসাইন আব্দুল হাই

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও