1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

বাংলাদেশ সরকারের ৫ বছরের মেয়াদ নিয়ে সংশয় জার্মানির

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার পাঁচ বছর টিকে থাকবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে জার্মান অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা বিষয়ক সংসদীয় কমিটি৷ চার দিনের সফর শেষে মঙ্গলবার বিকেলে তাঁরা ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান৷

default

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যদি দ্রুত সংলাপের ডাক দিয়েছে জার্মানি

সাভারের রানা প্লাজা ধসের পর এই প্রথম জার্মানির সাংসদদের কোনো দল ঢাকায় এল৷ ডাগমার জি ভ্যোর্ল-এর নেতৃত্বে সাত সদস্যের জার্মান সংসদীয় প্রতিনিধি দল ঢাকা আসে গত শনিবার৷ তাঁদের ঢাকা সফরে মূল উদ্দেশ্য হলো রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশের পোশাক খাতে কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে তা সরেজমিন দেখা৷ এ জন্য তাঁরা সাভারে রানা প্লাজা পরিদর্শন এবং সিআরপি-তে চিকিত্‍সাধীনদের সঙ্গে দেখা করে কথা বলেছেন৷ দেখা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে৷

সংবাদ সম্মেলনে ডাগমার জি ভ্যোর্ল বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতকে এখন শ্রমিকদের নিরাপত্তা, অধিকার এবং স্বাস্থ্যের দিক বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক মান অর্জন করতে হবে৷ পোশাক কারখানা হতে হবে আধুনিক এবং আইএলও-র নির্দেশিত মান বজায় রাখতে হবে৷ তিনি মনে করিয়ে দেন যে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাকের ১৭ ভাগ যায় জার্মানিতে৷ আর জার্মানি বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার৷ বাংলাদেশ এরই মধ্যে অনেক কাজ করেছে পোশাক খাতের উন্নয়নে৷ কিন্তু আরো অনেক কাজ বাকি৷ আর এই কাজে জার্মানি বাংলাদেশের পাশে থাকবে৷

Bangladesch Gedenken Textilfabrik Katastrophe

সাভারে রানা প্লাজার ঘটনা জার্মানিতেও প্রবল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে

জার্মান অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা বিষয়ক সংসদীয় কমিটির নেতা বলেন, ‘‘গত ৫ই জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনে অল্প সংখ্যক ভোটারের ভোটে বর্তমান সরকার নির্বাচিত হয়েছে, যা নিয়ে জার্মান সংসদ উদ্বিগ্ন৷ বিপুল সংখ্যক ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন৷ তারপরও দেশে আবার স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে তা প্রশংসা পাবার যোগ্য৷'' তবে তিনি বলেন, ‘‘রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যদি দ্রুত সংলাপ শুরু না হয়, তাহলে এই সরকার তার পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে কি না তা নিয়ে আমরা সন্দেহ করি৷'' তাই তিনি যত দ্রুত সম্ভব একটি কার্যকর সংলাপ শুরুর তাগিদ দেন ৷

মধ্যবর্তী কোনো নির্বাচন তারা চান কিনা – এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশে আগাম বা মধ্যবর্তী কোনো নির্বাচন হবে কিনা, তা বাংলাদেশ সরকার এবং জনগণের বিষয়৷ তাঁরাই সিদ্ধান্ত নেবেন৷ তবে আমরা রাজনৈতিক সমঝোতা চাই৷'' একই প্রশ্নের জবাবে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জার্মান রাষ্ট্রদূত আলব্রেশট কনৎসে বলেন, ‘‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়েছে এ নিয়ে আমাদের উদ্বেগ নেই৷ আমাদের উদ্বেগ রাজনৈতিক দলগুলো সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে একমত হতে পারেনি তা নিয়ে৷''

এদিকে সকালে জার্মান সংসদীয় প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করে৷ সাক্ষাতকালে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়নে অতীতের মতো জার্মান সরকার, জনগণ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সহায়তা কামনা করেন৷ আহ্বান জানান বাংলাদেশে আরো বেশি বিনিয়োগের৷

আর জার্মান সংসদীয় প্রতিনিধি দলের নেতা জানান, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে উন্নীত হওয়ার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, সে লক্ষ্য অর্জনে জার্মানি সহায়তা করবে৷ সহস্রাব্দের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশের উল্লেখ করার মতো সাফল্যের প্রশংসাও করেন জার্মান প্রতিনিধি দলের সদস্যরা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়