1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

মতামত

‘বাংলাদেশে সাংবাদিকদের লেখার স্বাধীনতা নেই'

‘প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ খুঁজে বের করলেও তা ছাপানো হয় না' – অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা না বাড়ার কারণ হিসেবে এ কথাই ডয়চে ভেলের ফেসবুক পাতায় জানিয়েছেন একজন পাঠক বন্ধু৷

আকাশ ইকবাল লিখেছেন, ‘‘অনুসন্ধানী সাংবাদিক গড়ে না উঠার আরো একটি বড় কারণ হচ্ছে সাংবাদিকদের লেখার স্বাধীনতা নেই৷ সাংবাদিকরা কষ্ট করে, নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ খুঁজে বের করে৷ কিন্তু সেই সংবাদ ছাপানো হয় না৷ পত্রিকার মালিকরা কিংবা সম্পাদকরা পত্রিকা বন্ধ হয়ে যাবার ভয়ে কিংবা অফিসে হামলা বা তাদের উপর আক্রমণের ভয়ে সংবাদ ছাপানো হয় না৷''

তিনি বিস্তারিতভাবে আরো জানান, ‘‘আমরা জানি সাংবাদিকতা একটা মহৎ পেশা৷ যা এক সময় ছিল, এখনো আছে৷ আমারো ছোটবেলা থেকে খুব ইচ্ছা বড় হয়ে একদিন সৎ, আদর্শবান সাংবাদিক হবো৷ তাই স্কুল লাইফ থেকে স্থানীয় পত্রিকার সাথে জড়িত হলাম৷ গত পাঁচ বছর ধরে স্থানীয় পত্রিকা ও জাতীয় পত্রিকার সাথে কাজ করায় মফঃস্বলে যা দেখলাম, তাতে বুঝতে পারলাম যে সাংবাদিকতা এখন আর সেই মহৎ পেশা নাই৷ এখন সাংবাদিকতা একটা ব্যবসা৷ উদাহরণ হিসাবে বলতে পারি গত বছরের একটা ঘটনা৷ চট্টগ্রামের একটা পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করতে পত্রিকার অফিসকে একেক জন পাঁচ থেকে সাত লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঘুস দিয়েছে৷ এর মধ্যে আরো অনেক যোগ্য সংবাদকর্মী আবেদন করেছে৷ পরবর্তীতে দেখলাম যোগ্য সংবাদকর্মী বাদ পড়ে অযোগ্য সংবাদ র্মী চাকুরিটা পেল৷ আর সেই অযোগ্য সংবাদ কর্মী সাত লাখ টাকা ইনভেস্ট করেছে৷ এর কিছুদিন পর শুনলাম সেই লোক চাঁদা তুলছে৷ টাকার বিনিময়ে সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য বানিয়ে খবর লিখছে৷ আবার দেখা যাচ্ছে, সাংবাদিকরা বিভিন্ন দলের সাথে জড়িত৷ রাজনৈতিক দলের সদস্য কিংবা নেতা৷ এতে নিজ দলের পক্ষে লিখে বিরোধী দলকে শাশানো হয়৷ যেখানে সাংবাদিককে হতে হয় নিরপেক্ষ৷ এটা তো গেল মফঃস্বল এলাকার কথা৷''

পাঠক আকাশ ইকবাল নিজের লেখা-লেখির অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে  লিখেছেন, ‘‘শহরের সাংবাদিকতার তো আরো করুণ অবস্থা৷ মফঃস্বল এলাকায় সাংবাদিকতার সাথে জড়িত থাকায় দেখতে পারছি, সাত বছর আগে যখন আমি স্থানীয় পত্রিকার সাথে যুক্ত হলাম, তখন পুরো উপজেলায় তরুণ সংবাদ কর্মী হিসাবে আমি আর আমার এক বন্ধু ছিলাম৷ কিন্তু এখন তরুণ সংবাদ কর্মী হয়ে উঠেছে প্রায় ৫০ জন৷ সিনিয়র সাংবাদিকদের সংখ্যা বাদ দিলাম৷''

তাঁর কথায়, ‘‘আমার উপজেলা থেকে অনেক সংবাদ কর্মী শহরেও গিয়েছে৷ উপজেলা প্রতিনিধি থেকে স্টাফ রিপোর্টার হিসাবে অফিসেও গিয়েছে৷ কিন্তু অনুসন্ধানী সাংবাদিক হিসাবে তেমন দেখিনি৷ একজনকে দেখেছি মাত্র৷ যদিও তিনি এখন সাংবাদিকতার সাথে জড়িত নাই৷ ব্যবসা করে৷ স্থানীয় পত্রিকায় কাজ করাতে সাংবাদিকতার বিষয়ে অনেক জেনেছি আর শিখেছি৷ অনুসন্ধান করে সংবাদ খুঁজে বের করলেও ক্ষমতা আর টাকার ধমকে সেই সংবাদ ছাপানো হয় না৷''

সংকলন: নুরুননাহার সাত্তার

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন