1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

আলাপ

বাংলাদেশে সমস্যা রাষ্ট্রধর্ম নয়, মানসিকতা

বাংলাদেশের কোনো রাষ্ট্রধর্ম থাকা উচিত কিনা, তা নিয়ে বিতর্ক চলছে দীর্ঘদিন ধরেই৷ কেউ কেউ মনে করছেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার মূল কারণ রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম৷ সত্যিই কি তাই?

স্বৈরশাসক হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ ক্ষমতায় থাকার সময় ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ‘ইসলাম' যোগ করা হয়৷ সে বছরই সংবিধানের এই পরিবর্তনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়৷ সেই রিটের সুরাহা এখনো হয়নি৷ তবে শীঘ্রই হয়ত আদালত এই বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত জানাবেন৷

তবে আমার লেখার মূল বিষয় সেই রিট নয়৷ ২৭ বছর আগে করা রিটের আইনজীবী অ্যাডভোকেট একেএম জগলুল হায়দার আফ্রিকের একটি মন্তব্য আমাকে বেশি ভাবিয়েছে৷ ডয়চে ভেলেকে গত তিন মার্চ তিনি জানিয়েছেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার মূল কারণ রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম

প্রতিবেশী দেশের সংখ্যালঘুরা কেমন আছেন?

বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারতের কোনো রাষ্ট্রধর্ম নেই৷ দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ হিন্দু৷ বাকি ২০ শতাংশ সংখ্যালঘু, যাদের মধ্যে ১৪ দশমিক দুই শতাংশ মুসলমান৷ রাষ্ট্রধর্মহীন দেশটিতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা গতবছর আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে ১৭ শতাংশ৷ সরকারি হিসেবে, ২০১৫ সালে সাম্প্রদায়িক অস্থিরতার ৭৫১টি ঘটনায় কমপক্ষে ৯৭ জন প্রাণ হারিয়েছে, আহত ২,২৬৪

গরুর মাংস খেয়েছেন, এমন সন্দেহে গতবছর সেদেশে একজন মুসলমানকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে৷ আর পুলিশ সেই হত্যাকণ্ডের তদন্ত করতে গিয়ে তিনি সত্যিই গরুর মাংস খেয়েছিলেন কিনা সেটা বের করাকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছে! সেই ঘটনার পর মাঝেমাঝেই শোনা যাচ্ছে, মুসলমান গরু ব্যবসায়ীদের হত্যার খবর৷

ভারতে এমন এক সময় সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা বাড়ছে যখন দেশটিতে ক্ষমতায় আছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)৷ আর দেশটির প্রধানমন্ত্রী এখন নরেন্দ্র মোদী, গুজরাট দাঙ্গার সময় সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সন্দেহজনক৷ সেই দাঙ্গার পর দীর্ঘদিন তাঁর ইউরোপ, অ্যামেরিকা ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা ছিল৷ লক্ষ্যণীয় হচ্ছে, ধর্মনিরপেক্ষ একটি দেশের মানুষ তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নিয়েছেন৷ যদিও এটা কারো অজানা নয় যে, ২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গায় নিহত হয়েছিল কমপক্ষে ১২০০ মানুষ, যাদের অধিকাংশই ছিল মুসলমান৷

জার্মানিতে সংখ্যালঘুরা যা পান না

যে দেশটিতে বসে এই লেখা লিখছি, জার্মানি, সেটিরও কোনো রাষ্ট্রধর্ম নেই৷ তবে ক্ষমতায় থাকা দলটি রক্ষণশীল, নাম খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রী দল (সিডিইউ)৷ দলটি সময়ের সাথে সাথে নিজেদের বদলালেও সমকামীদের বিয়েতে আজও সায় দেয়নি৷ তবে এমন ভাবার কারণ নেই, জার্মানিতে সংখ্যালঘুরা বুঝি খুব কষ্টে আছে৷ মোটেই নয়, বরং মোট জনসংখ্যার চার দশমিক দুই শতাংশ সংখ্যালঘুরা অনেক সুযোগ সুবিধাই পান৷ যা পান না তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় উৎসবের দিনগুলাতে জার্মানিতে ছুটি থাকে না, থাকে খ্রিষ্টানদের উৎসবের দিনগুলোতে৷ জার্মানির মসজিদে মাইকে আযান দেয়ার নিয়ম নেই, তবে গির্জায় নিয়মিত বিরতিতে ঘণ্টা পেটাতে বাধা নেই৷ কোরবানির পশু জবাই দেয়ার নিয়ম নেই৷ সংখ্যালঘুদের ধর্ম মেনে বিয়ে করলে, সেই বিয়ের কোনো আইনি বৈধতা নেই৷ লেখা বাহুল্য, রাষ্ট্রধর্মহীন দেশটিতে সংখ্যালঘুরা এ সব মেনে নিয়েই দিব্যি ভালো আছেন৷

বাংলাদেশ যা পেরেছে, পারেনি

বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ‘ইসলাম' যেমন আছে, তেমনি এটাও পরিষ্কার উল্লেখ আছে যে দেশটিতে সব ধর্মের মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা সমান৷ ফলে রাষ্ট্রধর্ম থাকা না থাকাটা একটি আপেক্ষিক ব্যাপার৷ এটা থাকায় সমাজের একটি ধর্মান্ধ অংশ আত্মতুষ্টিতে ভোগে, কিন্তু আইনের বিচারে সেটা তাদের কোনো বাড়তি সুবিধা দেয় না৷

আরাফাতুল ইসলামের ছবি

আরাফাতুল ইসলাম, ডয়চে ভেলে

বরং জার্মানি এবং ভারতের মতো রাষ্ট্রধর্মহীন দেশ সংখ্যালঘুদের যা দিতে পারেনি, বাংলাদেশ তার অনেকটাই পেরেছে৷ মোটের উপর, রাষ্ট্রধর্ম থাকা বাংলাদেশে কোনো ধর্মভিত্তিক দল স্বাধীনতার পর আজ অবধি এককভাবে ক্ষমতায় আসতে পারেনি৷ ভবিষ্যতে পারবে এমন কোনো ইঙ্গিতও নেই৷ তাই রাষ্ট্রধর্ম থাকার কারণে মূলত সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন হচ্ছে, এটা আমার কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না৷ বরং আমি মনে করি, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের মূল কারণ দু'টি৷

প্রথমত, রাজনৈতিক৷ সংখ্যালঘুদের বড় একটি অংশ বর্তমানে ক্ষমতায় থাক দলটির সমর্থক হিসেবে পরিচিত৷ কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, এই দল ক্ষমতায় থাকলেও সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের শিকার হন, না থাকলেও হন৷ গত কয়েকবছরে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার পরিসংখ্যান ঘাটলে দেখতে পাওয়া যায়, একাধিক ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের সক্রিয় সদস্যদের পরিষ্কার অংশগ্রহণ রয়েছে৷ সংখ্যালঘুদের নিয়ে রাজনীতি বন্ধ করা গেলে তাদের উপর নির্যাতন কমবে বলে আমার বিশ্বাস৷

দ্বিতীয়ত, সম্পদ লুট৷ সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠদের একটি অংশ সুযোগ পেলে সংখ্যালঘুদের সম্পদ লুটে নেয়ার চেষ্টা করেন৷ এ জন্য তারা এমন একটা অবস্থা তৈরি করে, যাতে সংখ্যালঘুরা ভিটামাটি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন৷ যদিও বাংলাদেশের আইন এটা রোধে যথেষ্ট শক্তিশালী, কিন্তু সমস্যা হচ্ছে মানসিকতায়৷ আইন প্রয়োগের মানসিকতায় ঘাটতি প্রকট৷ আর এই ঘাটতি কমিয়ে আনা গেলে সংখ্যালঘুরা বর্তমান আইনি কাঠামোতেই পর্যাপ্ত সুরক্ষা পাবেন বলে আমার বিশ্বাস৷

বন্ধু, আপনি কি লেখকের সঙ্গে একমত? জানান নীচে, মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়