1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

বাংলাদেশে শ্রমিকদের অধিকারের কোনো নিশ্চয়তা নেই!

বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ কর্মক্ষেত্রের একটি বাংলাদেশ৷ বিশ্বের খারাপ কর্মক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত শীর্ষ দশটি দেশের মধ্যে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশ৷

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন (আইটিইউসি)-এর বার্ষিক জরিপে দেখা যায়, কর্মীবান্ধব নয় এমন শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে৷ বৈশ্বিক শ্রম অধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত ভিয়েনাভিত্তিক সংগঠনটির বার্ষিক প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে৷ এই ১০ দেশের তালিকায় আরো রয়েছে কলাম্বিয়া, মিশর, গুয়াতেমালা, কাজাখস্তান, ফিলিপাইন্স, কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত৷

তবে এই রিপোর্টের সঙ্গে একেবারেই একমত নন বাংলাদেশের পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ'র সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘এই রিপোর্টটা দেখার পর আমরা মেজাজটাই খুব খারাপ হয়ে গেছে৷ ট্রেড ইউনিয়ন নেই এমন অনেক দেশের নামই এখানে নেই৷

অডিও শুনুন 03:35

‘কোনো শ্রমিক গর্ভবতী হলে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়’

বাংলাদেশ গরিব দেশ হিসেবে ইচ্ছেমতো নাম দিয়ে দেয়া হয়৷ আমরা ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রেশন এখন অনলাইনে করে দিয়েছি৷ তারপরও কেউ যদি না করে, তাহলে আমরা কি নিজেরা গিয়ে করে দেব? বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এই ধরনের রিপোর্ট আগেও দেয়া হয়েছে, এখনও হচ্ছে৷ আমি বলব, শ্রমিক আমাদের, তাঁদের ভালো-মন্দ, সুবিধা-অসুবিধা দেখার দায়িত্বও আমাদের৷ বাইরের কারো এটা না দেখলেও চলবে৷''

‘আইটিইউসি গ্লোবাল রাইটস ইনডেক্স ২০১৭' শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রেড ইউনিয়ন কর্মীদের ওপর সরকার ও নিয়োগকর্তার চাপিয়ে দেওয়া অব্যাহত ভোগান্তির কারণে বাংলাদেশ রেটিংয়ে ৫ পেয়েছে, যার অর্থ হলো- শ্রমিকদের ‘অধিকারের কোনো নিশ্চয়তা নেই'৷ ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারও রেটিংয়ে ৫ পেয়েছে; নেপাল ও শ্রীলংকা ভালো অবস্থানে রয়েছে৷ এই দুটি দেশের রেটিং ৩, যার অর্থ ‘সেখানে নিয়মিত অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নেই'৷

অডিও শুনুন 01:54

‘এই রিপোর্টটা দেখার পর আমরা মেজাজটাই খুব খারাপ হয়ে গেছে’

আইটিইউসির মহাসচিব শারান বারো বলেন, ‘‘অনেক দেশেই কর্পোরেট স্বার্থের নিচে পড়ে আছে মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার৷'' পুলিশের বর্বরতা, গণগ্রেপ্তার ও বৈষম্যকে বাংলাদেশে শ্রমিক সংগঠনের ওপর নির্যাতনের প্রধান দিক হিসেবে গত ১৩ জুন প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে৷

এদিকে এই প্রতিবেদনকে শতভাগ সত্যি বলেছেন গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু৷ ডয়চে ভেলেকে এই শ্রমিক নেত্রী বলেন, ‘‘বাংলাদেশে শ্রমিকদের ন্যূনতম অধিকার নেই৷ এখানে কোনো কর্মঘণ্টা নেই৷ দিন-রাতের হিসাব নেই৷ কোনো শ্রমিক গর্ভবতী হলে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়৷ এক কথায়, মালিকরা এখানে শ্রমিকদের শোষণ করেন৷ ফলে ওই রিপোর্টে যেটা বলা হয়েছে, সেটা পুরোপুরি ঠিক৷ আমি এর সঙ্গে একমত৷''

আইটিইউসি বলছে, ‘‘২০১৭ সালের জানুয়ারির শুরুতে এক হাজার ৬০০ জনের বেশি শ্রমিক বরখাস্ত করেছে এবং ৬০০ শ্রমিক ও ট্রেড ইউনিয়ন নেতার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে৷''

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে পদ্ধতিগতভাবে এবং ব্যবহারিক পর্যায়ে ট্রেড ইউনিয়নবিরোধী বৈষম্য বিরাজমান রয়েছে৷ আইইউটিসি বলেছে, ৩০ শতাংশ শ্রমিকের সম্মতির বাধ্যবাধকতার কারণে বাংলাদেশের সাড়ে চার হাজার তৈরি পোশাক কারখানার মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ কারখানায় আংশিকভাবে নিবন্ধিত ইউনিয়ন আছে৷ প্রতিবেদনে বলা হয়, আগের বছরের মতোই বাংলাদেশের কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ এখনও কর্মীবান্ধব নয়৷

গত বছর আশুলিয়ায় গার্মেন্টস কর্মীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে বিষয়টি প্রতিবেদনে উঠে আসে৷ সেই সময় অন্তত ৩৫ জন শ্রমিক ইউনিয়ন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল৷ অভিযোগ গঠন হয়েছিল প্রায় এক হাজার কর্মীর বিরুদ্ধে৷ এই তালিকার শীর্ষস্থানে রয়েছে কাতার৷ এরপরই যথাক্রমে সংযুক্ত আরব আমীরাত, মিশর ও ফিলিপাইন্স৷ শীর্ষ দশে বাংলাদেশের পরে রয়েছে শুধু গুয়াতেমালা৷ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশেই কর্মীদের অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ৷ আইটিইউসির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বাংলাদেশের সাড়ে চার হাজার গার্মেন্টেসের মাত্র ১০ শতাংশেরই নিবন্ধিত কর্মী ইউনিয়ন রয়েছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়