1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

বাংলাদেশে শক্তির জানান দিল জেএমবি

দীর্ঘ বিরতির পর জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহেদীন বাংলাদেশ বা জেএমবি আবারো তাদের শক্তির জানান দিয়েছে ময়মনসিংহে প্রিজন ভ্যানে হামলা ও পুলিশ হত্যা করে ৩ জঙ্গিকে ছিনিয়ে নিয়ে৷

ময়মনসিংহের ত্রিশালে জেএমবি-র ৩ জঙ্গি সালাহউদ্দিন ওরফে সালেহীন (৩৮), হাফেজ মাহমুদ ওরফে রাকিব হাসান (৩৫) ও জাহিদুল ইসলাম ওরফে মিজান ওরফে বোমা মিজানকে (৩৫) রবিবার প্রিজন ভ্যানে কমান্ডো স্টাইলে হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নেয় তার সহযোগীরা৷ তাদের হামলায় একজন পুলিশ সদস্য নিহত হন৷ তাদের মধ্যে হাফেজ মাহমুদ ওরফে রাবিক হাসান মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত৷ বাকি দু'জন বিভিন্ন মামলায় কারদণ্ডপ্রাপ্ত৷ তাদের গাজীপুরের কাসিমপুর কারাগার থেকে নতুন মামলায় হাজিরার জন্য ময়মনসিংহ নেয়া হচ্ছিল৷

২০০৫ সালের ১৭ই আগস্ট দেশের ৬৩ জেলায় একযোগে ৫০০ বোমা ফাটিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেয় জেএমবি৷ এরপর ঝালকাঠিতে বিচারক হত্যার মধ্য দিয়ে তারা তাদের নৃশংসতার প্রমাণ রাখে৷ এরপর জেএমবি-কে নিষিদ্ধ করে সরকার৷ ২০০৭ সালে জেএমবি-র প্রধান শায়খ আব্দুর রহমান ও বাংলাভাইসহ শীর্ষ ৬ জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর হয়৷ এরপর জেএমবির দায়িত্ব নেন সাইদুর রহমান৷ তাঁকে ২০১০ সালে গ্রেফতার করা হয়৷ এই সময়ে জেএমবি-র প্রায় ২ হাজার নেতা-কর্মী গ্রেফতার হন৷ আর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মনে করে জেএমবি প্রায় নিঃশেষ হয়ে গেছে৷

গত সপ্তাহে আল কায়েদার হুমকির পর ব়্যাবের উপ-মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘ধারাবাহিক অভিযানের ফলে বাংলাদেশে জঙ্গি তত্‍পরতা এখন আর তেমন নেই৷ আর জেএমবি ছত্রভঙ্গ হয়ে গেছে৷'' কিন্তু জেএমবি-র এই অপারেশনের পর তা ভুল প্রমাণিত হল৷

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহেদুল আনাম খান (অব.) ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘জঙ্গিদের নির্মূল করা কঠিন৷ কারণ তার ‘আদর্শিকভাবে' উদ্বুদ্ধ৷ আর তাদের নেতৃত্ব কখনো শূণ্য থাকেনা৷ কারণ সব সময়ই তাদের পরবর্তী নেতৃত্ব ঠিক করা থাকে৷ আর চাপে পড়লে তারা কৌশল পরিবর্তন করে৷ তাই তারা শেষ হয়ে গেছে এই ভেবে হাত-পা গুটিয়ে থাকার মত বোকামি আর হয়না৷''

কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাই করেছে৷ জেএমবি-র মজলিসে শূরার সদস্য এবং দুর্ধর্ষ এই ৩ জঙ্গিকে প্রিজন ভ্যানের চালকসহ মাত্র ৪ জন পুলিশের পাহারায় গাজীপুর থেকে ময়মনসিংহ পাঠিয়েছিল৷ ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান তা স্বীকার করে বলেছেন, জঙ্গিদের সাধারণ আসামির মতো পাঠানো ঠিক হয়নি৷

তবে ময়মনসিংহের ঘটনার পর পুলিশের টনক নড়েছে৷ যে সব কারাগারে জঙ্গিরা আটক আছে, সে সব কারাগারের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে৷ পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার শিথিলতাকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করে বলেছেন, ‘পুরো ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে'৷

এদিকে ৩ জঙ্গির একজন হাফেজ মাহমুদ ওরফে রাকিব হাসানকে ফের আটক করা সম্ভব হলেও সোমবার ভোররাতে তিনি টাঙ্গাইলের সখীপুরে ‘বন্দুক যুদ্ধে' নিহত হয়েছেন৷ আটকের পর তাকে নিয়ে বাকি দু'জনের সন্ধানে বের হলে তিনি বন্দুক যুদ্ধে নিহত হন বলে পুলিশের দাবি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন