1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

আলাপ

বাংলাদেশে যেভাবে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব...

অনেকেই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনাই দেখছেন না৷ আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি যদি ‘শুভবুদ্ধির' পরিচয় দেয়, তাহলেই কিন্তু বাংলাদেশে খুব সুন্দর একটি নির্বাচন আয়োজন সম্ভব৷ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়াও সম্ভব৷

ইন্দোনেশিয়ায় নির্বাচন

প্রতীকী ছবি

এরশাদকে ক্ষমতায় রেখে কোনো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় জেনেই ‘নির্বাচনকালীন সরকার' হিসেবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল৷ আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি চেয়েছিল বলেই তা সম্ভব হয়েছিল৷ আবার আওয়ামী লীগ আর বিএনপি সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে হলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্চাচন আয়োজনের রীতি অনুসরণ করে যেতে চায়নি বলেই এখন এই অবস্থা৷

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে যতটা সম্ভব ‘সুষ্ঠু' নির্বাচন চলতে থাকুক, বিএনপি যদি তা-ই চাইতো তাহলে তারা কখনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করত না৷ আবার আওয়ামী লীগও যদি ভালো দৃষ্টান্ত রেখে শুধু তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট ফাঁক-ফোকড়গুলো বন্ধ করে, পুরো ব্যবস্থাটিকে আরো কার্যকর করতে চাইতো, তাহলে আদালতের রায় কার্যকর করার অজুহাতে একেবারে টুটি চেপে ধরত না৷

ভুলে গেলে চলবে না যে, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখনই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়৷ নির্বাচনকে সামনে রেখে হঠাৎ বিচারপতিদের অবসরের বয়স বাড়িয়ে বিএনপিই কিন্তু আওয়ামী লীগকে এ কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছিল যে, নিজেদের লোককে তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান করার জন্য বিএনপি অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে৷ আওয়ামী লীগ তখন পরিষ্কার বলেছিল, তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাখা হলেও বিচারপতির বয়স বাড়িয়ে বিএনপি যে পথে এগোচ্ছে তাতে আসলে কাগজে-কলমেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকবে, কার্যত নির্বাচনটি হবে দলীয় বাতাবরণে, ফলে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে না৷

তখন প্রবল বিরোধিতার মুখেও ভালো কোনো বিকল্পে না গিয়ে ‘নির্দলীয়' ব্যক্তির পরিবর্তে বিএনপির লোক ড. ইয়াজউদ্দিন আহমেদকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করা হয়েছিল৷ আইনের ফাঁক বের করে, নিরূপায় হয়ে যাবার অজুহাত দেখিয়ে ড. ইয়াজউদ্দিনকে বসিয়েও কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি৷ তাঁর সরকারে যোগ দিয়েও ড. আকবর আলি খান, লে.জে. হাসান মশহুদ চৌধুরী, সি. এম. শফি সামী ও সুলতানা কামাল কাজ করতে পারেননি৷ চারজনই পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন৷ তারপর অবশ্য নতুন চারজন উপদেষ্টা নেয়া হয়েছিল৷ নির্বাচনের ঘোষণাও এসেছিল৷ তবুও অচলাবস্থা কাটেনি৷ এক পর্যায়ে সকল উপদেষ্টাই পদত্যাগ করেছিলেন এবং রাষ্ট্রপতিকে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে হয়েছিল৷

১০ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই সময়ের কথা এখনো নিশ্চয়ই সবার মনে আছে৷ এটাও নিশ্চয়ই মনে আছে যে, ড. ইয়াজউদ্দিনকে আওয়ামী লীগ মেনে না নিয়ে আন্দোলন শুরু করায় কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং কী পরিস্থিতিতে জরুরি অবস্থা এসেছিল৷ জরুরি অবস্থার মাঝেই আবার এসেছিল ‘সেনাসমর্থিত' তত্ত্বাবধায়ক সরকার৷ নির্বাচনটা যদি অন্তত এক বছরের মধ্যে হতো, গণতন্ত্রের অমসৃণ পথটা এতদিনে হয়ত আরেকটু মসৃণ হতো, আওয়ামী লীগ হয়ত টুটি চেপে ধরার সুযোগটা এত সহজে কাজে লাগাতে পারত না৷

কিন্তু তা আর হলো না৷ ফখরুদ্দীন আহমেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার দু'বছর ক্ষমতায় থেকে গেল৷ তারপর যে নির্বাচন হলো তাতে জয়ী হয়েই আওয়ামী লীগ সময়, সুযোগ মতো তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে বিলুপ্ত করল৷

১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা৷ ২০০৪ সালে এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করা হয়৷ আদালত তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বৈধ বলে রায় দিয়েছিল৷ ঐ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়৷ ২০১১ সালে, অর্থাৎ আওয়ামী লীগের শাসনামলে আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সর্ম্পকিত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে৷ তবে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করলেও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বলেছিল, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আরও দু'টি সংসদ নির্বাচন হতে পারে৷

আওয়ামী লীগ কিন্তু ‘বাতিল' মানলেও ‘আরো দু'টি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে' – এই অংশটুকু মানেনি৷ আদালত বলেছিল, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় যে দুর্বলতাগুলো ধরা পড়েছে, সেগুলো সংসদে ‘সংশোধন' করে নিতে৷ আওয়ামী লীগ সংশোধন করেনি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপ করেছে৷ সেদিন বিরোধী দলে থাকা সত্ত্বেও বিএনপি এবং জামায়াত সংসদে না গিয়ে বাইরে থেকে শুধু বিবৃতি দিয়েছে৷

গণতন্ত্র আর সুষ্ঠু নির্বাচন প্রসঙ্গে আসলে শুধু ভাষণ-বিবৃতিই দিয়ে চলেছে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি৷ দল দু'টি ভাষণ-বিবৃতিতে যতটা আন্তরিক, গণতন্ত্র এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনব্যবস্থা চালু রাখায় ততটা আন্তরিক কখনোই ছিল বলে মনে হয় না৷ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তারা যদি গণতন্ত্রের প্রতি খুব আস্থাশীল হতো, তাহলে আজ এই সংকট তৈরি হতো না৷ বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করত না, আওয়ামী লীগও তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে বিলুপ্ত করত না৷

আওয়ামী লীগ আর বিএনপি যদি প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্রের প্রতি, জনগণের প্রতি আস্থাশীল না হয়, তাহলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকলেই কী আর না থাকলেই কী! যাহা বাহান্ন, তাহাই তেপ্পান্ন৷

জনগণের ওপর আস্থা থাকলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার না থাকলেও কিন্তু গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতায় ফেরার পথ চলা যায় এবং ক্ষমতায় ফেরাও যায়৷ ১৯৭৫-এর ১৫ই আগস্টে পরিবারের প্রায় সবাইকে হারানোর ৩১ বছর পরও সে কারণেই কিন্তু শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পেরেছিলেন৷

আশীষ চক্রবর্ত্তী

আশীষ চক্রবর্ত্তী, ডয়চে ভেলে

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর খালেদা জিয়ার রাজনীতির মাঠে আগমন৷ জনগণের বড় একটা অংশ চেয়েছিল বলেই কিন্তু তিনিও দু-দু'বার (মতান্তরে তিনবার) প্রধানমন্ত্রী হতে পেরেছেন৷

বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন শুধু আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি প্রকৃত অর্থে ‘জনগণের শক্তির' প্রতি আস্থাশীল হলেই সম্ভব৷ বিএনপির সেই আস্থা থাকলে আওয়ামী লীগ যত কারসাজিই করুক, যত ‘মামলা-হামলাই' করুক, সময় হয়ত একটু বেশি লাগবে, কিন্তু তারা ক্ষমতায় ফিরবেই৷ সেটা আওয়ামী লীগেরই সবচেয়ে ভালো জানার কথা, কেননা, '৭৫ এবং '৭৫ পরবর্তী সময়ে বিএনপি, জাতীয় পার্টির সব রকমের মামলা-হামলা মোকাবিলা করেই তারা ক্ষমতায় ফিরেছিল৷ জনসমর্থনের জোরেই ফিরেছিল৷

আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা তার চেয়েও ‘দল নিরপেক্ষ' (যদি থাকে) কোনো সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়েও কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার শঙ্কার (যদি থেকে থাকে) চেয়ে জনসমর্থনের জোরেই আবার ক্ষমতায় ফেরার আশাবাদকেই বেশি গুরুত্ব দিতে পারে৷ সময় হয়ত বেশি লাগবে, বিএনপিও ক্ষমতায় এসে হয়ত ক্ষমতায় পাকাপোক্ত হয়ে বসার সব চেষ্টাই করবে; তারপরও ভুল রাজনীতি না করলে আওয়ামী লীগও নিশ্চয়ই ক্ষমতায় ফিরবে৷

কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, আওয়ামী লীগ আর বিএনপি একটা ‘ভুল' প্রায় সমানভাবে, বারবার করে৷ দল দু'টি কখনোই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় বলে মনে হয় না৷ তারা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিলেই বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব৷

বন্ধু, আপনি কি আশীষ চক্রবর্ত্তীর সঙ্গে একমত? জানান আমাদের, লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়