1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

বাংলাদেশে যা ঘটছে তা ‘রাজনীতি', নাকি ‘জঙ্গি তৎপরতা'?

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শিয়াদের মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটলো শুক্রবার গভীর রাতে৷ তার আগে খুন হয়েছেন দুই বিদেশি, চার ব্লগার৷ সবই চলতি বছরের ঘটনা৷ প্রশ্ন হচ্ছে, কী ঘটছে দেশে?

ব্লগার হত্যার মধ্য দিয়ে চলতি বছর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনায় আসে বাংলাদেশ৷ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক অভিজিৎ রায় খুন হন ফেব্রুয়ারিতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে৷ এরপর একে একে চারজন ব্লগার খুন হলেন যাদের অবস্থান ছিল মৌলবাদের বিরুদ্ধে৷ তাঁরা নাস্তিক এটাও সত্য৷ তবে নাস্তিকদের ‘জবাই’ করতে হবে এমন কোনো ঘোষিত নিয়ম সংবিধান অনুযায়ী ‘সেক্যুলার’ বাংলাদেশে নেই৷

ব্লগারদের হত্যাকাণ্ডের পরে পীরের মুরিদদের জবাই করার ঘটনাও ঘটেছে একাধিকবার৷ ব্লগার হত্যার মতো তা ব্যাপক আলোচনায় আসেনি বটে, তবে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের মোটিভ কিছুটা পরিষ্কার করে দিয়েছে৷ হিন্দুদের উপর হামলাও চলছে বিরতিহীনভাবে৷ এরইমধ্যে খুন হয়েছেন দুই বিদেশি নাগরিক৷

সর্বশেষ গত শুক্রবার পুরোনো ঢাকার হোসেনি দালানে তাজিয়া মিছিলে বোমা হামলা চালানো হয়৷ এতে প্রাণ হারায় এক কিশোর, আহত বেশ কয়েকজন৷ বাংলাদেশে শিয়াদের মিছিলে এই হামলা গত চারশ’ বছরের মধ্যে এই প্রথম, জানিয়েছে বিবিসি৷

গত সপ্তাহে কথা হচ্ছিল এক ব্লগারের সঙ্গে৷ তিনি আমাকে বুঝিয়েছিলেন, গোড়া ইসলাম, অর্থাৎ যা ‘ওহাবিজম’ বলে পরিচিত, বাংলাদেশে তা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে মৌলবাদীরা৷ এরা কার্যত আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠী ‘ইসলামিক স্টেট’-এর মতাদর্শে বিশ্বাসী৷

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা কিছু দেশ ইতোমধ্যে বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে৷ দুই বিদেশি হত্যাকাণ্ডসহ শিয়াদের উপর হামলার দায় স্বীকার করেছে ‘ইসলামিক স্টেট’, এমন দাবি করেছে জিহাদিদের অনলাইন কার্যক্রমের উপর নজর রাখা একাধিক সংস্থা৷

বাংলাদেশ সরকার এবং পুলিশ অবশ্য বাংলাদেশে ‘ইসলামিক স্টেট’-এর উপস্থিতি অস্বীকার করছে৷ যদিও এই পুলিশই অতীতে জঙ্গি গোষ্ঠীটির সমর্থকদের ধরার খবর ফলাও করে জানিয়েছিল৷ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর ছেলে ও অন্যতম উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদও বিদেশি পত্রিকায় বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতা নিয়ে কথা বলেছেন৷ ইংল্যান্ডকে সতর্ক করেছেন৷

বাংলাদেশে জঙ্গি কার্যক্রম কতটা বিদেশিদের ছত্রছায়ায় হচ্ছে তা এখনি বলা মুশকিল৷ তবে এটির রাজনৈতিক ব্যবহার বেশ পরিষ্কার৷ বিদেশি হত্যাকাণ্ডের দায় সরাসরি বাংলাদেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি এবং তার মিত্র জামায়াতের উপর চাপিয়েছে সরকার৷ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্রুতই তাদের কথা বলেছেন৷ যদিও এক্ষেত্রে তিনি কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি, কিংবা এত দ্রুত কিভাবে তাঁর গোয়েন্দা বাহিনী বিএনপি-জামায়াতের সম্পৃক্ততা খুঁজে পেল তারও ব্যখ্যা দেননি৷

DW Bengali Arafatul Islam

আরাফাতুল ইসলাম, ডয়চে ভেলে

সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর রাজনৈতিক বিশ্লেষণ তিন রকম হতে পারে৷ প্রথমত, সরকারকে বেকায়দায় ফেলা৷ বিএনপি এই মুহূর্তে বেশ নিরব আছে৷ দলটির প্রধান খালেদা জিয়া এখন ইংল্যান্ডে৷ তিনি যখন চিকিৎসা নিচ্ছেন, সন্তানের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন সেসময় একের পর এক ঘটনা ঘটে যাচ্ছে বাংলাদেশে৷ এতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছে সরকার, যা পরোক্ষভাবে বিরোধী দল হিসেবে বিএনপির জন্য লাভজনক৷ বিএনপি এর সঙ্গে সম্পৃক্ত না ধরে নিলেও কিছুটা লাভ তাদের হচ্ছে৷

দ্বিতীয়ত, এসব ঘটনার অযুহাতে আরো বেশি বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের সুযোগ পাচ্ছে পুলিশ৷ সরকার তাদের উপর দায় চাপাচ্ছে, ফলে পুলিশ দেদারছে গ্রেপ্তার করছে বিরোধী দলের সাবেক এমপি, কর্মীদের৷ এই দিকটা চিন্তা করলে লাভ হচ্ছে সরকারের৷ ঘটনা যারাই ঘটাক, বিরোধী দলকে দমনে তা বেশ কাজে আসছে৷

তৃতীয়ত, রাজনীতির এই খেলায় তৃতীয় কোনো পক্ষ লাভবান হচ্ছে কিনা সেটাও দেখার বিষয়৷ বাংলাদেশে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট৷ ফলে কার্যত একতরফা নির্বাচন জয় করে বর্তমানে ক্ষমতায় আছে আওয়ামী লীগ৷ এরকম এক নির্বাচন জয়ের পর ক্ষমতায় টিকে থাকতে অনেকক্ষেত্রেই ছাড় দিচ্ছে দলটি৷ বিশেষ করে উগ্র ইসলামপন্থি গোষ্ঠী হেফাজতে ইসলাম, যারা নাস্তিক ব্লগারদের ফাঁসি দাবি করেছে ২০১৩ সালে এবং ‘ইসলামিক স্টেট’-এর কর্মকাণ্ডে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছে, তাদেরকে রেলের জমি বরাদ্দ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে৷ এমন সমর্থনের সুযোগে বাংলাদেশে ‘ওহাবিজম’ ডানা মেলছে কিনা ভাববার বিষয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়