1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

বাংলাদেশে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে শুক্রবার দু'দফায় মোট ৩৬ জনকে আটক করা হয়েছে৷ জালিয়াতির অভিযোগে আটকদের মধ্যে ছাত্রলীগের একজন নেতাও রয়েছেন৷ শিক্ষাবিদরা বলছেন, এতে উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে আবারো প্রশ্ন উঠলো৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক আমজাদ হোসেন জানান, ‘‘শুক্রবার ‘ঘ' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও বাইরের মোট ৯৭টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৫ হাজার ৫১৬ জন শিক্ষার্থী নেয়, যাদের মধ্যে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন ১ হাজার ৪১৬ জন৷ পরীক্ষা চলাকালে মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ‘গ্যাজেট' ব্যবহার করে অসুদপায় অবলম্বনের দায়ে অন্তত ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে৷''

অন্যদিকে ব়্যাব পরীক্ষা হলের বাইরে থেকে আরো ১৯ জনকে আটক করে, যাদের মধ্যে ১২ ভর্তি জালিয়াত চক্রের সদস্য বলে তারা নিশ্চিত হয়েছে৷ এদের মধ্যে আটক মোজাম্মেল হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক৷ ব়্যাবের মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান জানিয়েছেন, ‘‘এই চক্রের সদস্যরা মোবাইল ফোনে প্রশ্নের উত্তর সরবরাহ করত এবং প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত৷ এই জালিয়াতি করে তারা বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে৷ ওই চক্রের কাছ থেকে আটক সাত পরীক্ষার্থীর সহযোগিতা পাওয়ার কথা ছিল৷''

Student protest in BUET

নানা কারণেই শিক্ষাজগত উত্তাল হয়ে ওঠে

এর আগে গত কয়েক সপ্তাহে ‘ক', ‘খ' ও ‘গ' – এই তিন ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে ২৫ শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির প্রবণতা বাড়ছে৷ আমরা চেষ্টা করছি এটা বন্ধ করতে৷ এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যেমন সতর্ক রয়েছে, তেমনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও সক্রিয় আছেন৷ জালিয়াতি বিরোধী সতর্কতার কারণেই জালিয়াত চক্রের সদস্যরা ধরা পড়ছে৷''

তিনি বলেন, ‘‘জালিয়াতি রোধে পরীক্ষা পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে৷ এরই মধ্যে সর্বশেষ ‘ঘ' ইউনিটের পরীক্ষায় কিছু কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে৷ ফলে জালিয়াতি করেও সুবিধা হয়নি৷ তবে ভবিষ্যতে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নে এমন পরিবর্তন আনা হবে যে জালিয়াতি করা সম্ভব হবে না৷''

তিনি বলেন, ‘‘আমরা আশা করি যে জালিয়াতি যারা করেছে তারা সবাই ধরা পড়েছে৷ তবে জালিয়াতি করে কেউ যদি ভর্তির সুযোগ পায় তাহলে তা হবে দুঃখজনক৷''

অন্যদিকে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক রাশেদা কে চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘যে কোনো উপয়েই হোক ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি বন্ধ করতে হবে৷ এটা যে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ে হচ্ছে তা নয়, আরো অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনা ঘটছে৷ তাই এটা প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন৷''

তিনি বলেন, ‘‘পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত৷ শিক্ষার মান এমনিতেই নানা কারণে নেমে যাচ্ছে৷ আর এই ফাঁস জালিয়াতি প্রতিরোধ করা না গেলে মাসের আরো অবনতি ঘটবে৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়