1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

আলাপ

বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতার উপর নগ্ন হস্তক্ষেপ

গত কিছুদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে একটি গুজব ঘুরপাক খাচ্ছিল৷ বাংলাদেশের সর্বাধিক প্রচারিত বাংলা এবং ইংরেজি দৈনিক দু’টিতে চাপে পড়ে বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দিয়েছে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো৷ সে গুজবের সত্যতা মিলেছে৷

বাংলাদেশে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে গণমাধ্যমে এক ধরনের ভীতি কাজ করছে৷ সরকারের বিপক্ষে যেতে পারে বা বেকায়দায় পড়তে পারে, এমন প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষেত্রে ভালো রকমের রাখঢাক দেখা যাচ্ছে৷ অনেক পত্রিকাই নিজেদের উপর এক ধরনের ‘স্বআরোপিত' সেন্সরশিপ বজায় রাখছে৷ তবে দৈনিক ‘প্রথম আলো' এবং ‘দ্য ডেইলি স্টার' এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম৷ আগস্টের শেষের দিকে ফেসবুকে অনেকে লিখতে শুরু করলেন, পত্রিকা দু'টিতে বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দিয়েছে বহুজাতিক বিভিন্ন সংস্থা৷ এটা সত্য নাকি গুজব তা নিয়ে ঢাকার কোনো পত্রিকা প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি৷ খোদ আলোচিত পত্রিকা দু'টোও চুপ থেকেছে৷

গুজবের শুরুতে বলা হয়েছিল, সরকারের চাপের কারণে মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো পত্রিকা দু'টিতে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে না৷ কেননা বিজ্ঞাপন দিলে তাদেরকে বিভিন্ন সমস্যায় ফেলবে ক্ষমতাসীনরা৷ তবে এখন দেখা যাচ্ছে, ঠিক সরকার নয়, চাপটা সৃষ্টি করেছে সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই৷ কেননা, পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন তাদের মনঃপুত হয়নি৷ তাই এই অলিখিত নিষেধাজ্ঞা, যা আরোপ করায় রাতারাতি প্রায় ৩৫ শতাংশ বিজ্ঞাপন হারিয়েছে প্রথম আলো৷

ডিজিএফআই নিজেদের কাজের পরিধি নিজেরাই ঠিক করে থাকে৷ আর এটা নিয়ে কাউকে কখনো প্রশ্ন তুলতে দেখা যায়নি৷ অতীতে বহুবার সংস্থাটি রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছে৷ বিশেষ করে ২০০৭ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সময়ে সাংবাদিকদের নির্যাতন এবং গণমাধ্যমকে কড়া নিয়ন্ত্রণে রাখার অভিযোগও রয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাটির বিরুদ্ধে৷ সেসময় বাংলাদেশে কার্যত সামরিক শাসন চলছিল৷

বর্তমান নির্বাচিত সরকারের সময়েও গোয়েন্দা সংস্থাটি যে গণমাধ্যমের উপর নিজেদের কর্তৃত্ব জাহিরের চেষ্টা করবে না, তা বলা যায় না৷ আর সামরিক বাহিনীকে ক্ষমতাসীনরা সবসময়ই সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করে৷ বর্তমান সরকার এক্ষেত্রে অতীতের সকল সরকার এবং রাজনৈতিক দলকে ছাড়িয়ে গেছে, সেকথা কিছুদিন আগেই লিখেছিল লন্ডনের ফাইনেন্সিয়াল টাইমস

ডয়চে ভেলের সাংবাদিক আরাফাতুল ইসলাম

আরাফাতুল ইসলাম, ডয়চে ভেলে

যাহোক, গণমাধ্যমে গোয়েন্দা সংস্থার হস্তক্ষেপের বিষয়টি খোলসা করে দিয়েছে গ্রামীণ ফোন৷ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বহুজাতিক সংস্থাটি স্বীকার করেছে, চাপে পড়েই বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় দু'টি পত্রিকাতে বিজ্ঞাপন দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে তারা৷ শুধু তারা নয়, আরো অনেকে এমন চাপে পড়েছে, সেকথাও জানিয়েছে সংস্থাটি৷ আর এর মাধ্যমে বাংলাদেশে গণমাধ্যমের উপর সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থার ন্যাক্কারজনক হস্তক্ষেপের বিষয়টি পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে৷ যদিও তারা সেটা স্বীকার করে না৷

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, বাংলাদেশের মূলধারার সংবাদপত্রগুলো কিন্তু এখনো এই বিষয়টি নিয়ে চুপ আছে৷ সাংবাদিকরা আনুষ্ঠানিকভাবে এই নিয়ে কথা বলতে চান না, পুরোপুরি এড়িয়ে যেতে চান৷ ডিজিএফআই কতটা ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে, এটাও তার এক প্রমাণ৷

প্রিয় পাঠক, গণমাধ্যমের উপর কি গোয়েন্দা সংস্থার নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত? আপনার মতামত জানান নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়