1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

বাংলাদেশে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পরিবেশবাদীদের সংশয়

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ চাহিদা মোকাবিলার জন্য পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে বেশ এগিয়ে গিয়েছে সরকার৷ তবে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে বরাবরই পরিবেশবাদীদের কিছুটা সংশয় থেকে যায়৷

Worker, Russia, first, new, nuclear, plant, Soviet, era, Atomic, Energy, Station, Bangladesh, Power, Plant, বাংলাদেশ, পরমাণু, বিদ্যুৎ, কেন্দ্র, পরিবেশবাদীদের, সংশয়

বাংলাদেশে এমন পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে সহযোগিতা দেবে রাশিয়া

পরমাণু কেন্দ্র নিয়ে বাড়তি সতর্কতা

পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তেজস্ক্রিয়তা ছাড়া এর বর্জ্যও পরিবেশবাদীদের একটি মাথাব্যথার কারণ৷ সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের চেরনোবিল দুর্ঘটনার কথা বিশ্ববাসী এখনও মনে করে৷ পরমাণু তেজস্ক্রিয়তার ফলে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল বিস্তর এলাকা৷ কিছুদিন আগে জার্মানিতে পরমাণু কেন্দ্রের বর্জ্য ফেলা নিয়ে বেশ বড় একটা গোলমাল হয়ে গেছে দেশজুড়ে৷ তাই পরিবেশবাদীরা বরাবরই পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যাপারে সন্দিহান থাকেন৷

পরমাণু কেন্দ্র নির্মাণকালে যেমন খুবই সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়, তেমনি এর কাঁচামাল আনা নেওয়া এবং পরিবহনও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ৷ উল্লেখ্য, পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে যে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ঘটে সেটা খুবই ক্ষতিকর৷ এই ধরণের বিকিরণের সংস্পর্শে মানুষ কিংবা প্রকৃতি ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়তে পারে৷ তাই এই ধরণের পরমাণু কেন্দ্র জনবসতি থেকে দূরে এমন জায়গায় তৈরি করা হয়৷

চাহিদাই সবার আগে নয়

পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয় মূলত বিদ্যুৎ চাহিদা মোকাবিলার কথা চিন্তা করে৷ পশ্চিমা বিশ্বের বহু দেশে এই ধরণের বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে৷ কিন্তু পরিবেশ ইস্যু নিয়ে বরাবরই এই প্রসঙ্গে পরিবেশবাদীদের সঙ্গে সরকারের টানাপোড়েন লক্ষ্য করা যায়৷ কারণ পরিবেশবাদীরা মনে করেন, দৈনন্দিন চাহিদা মেটানোর কথা বলে পরিবেশ ধ্বংস করা কোনভাবেই উচিত নয়৷ এজন্য তারা সবসময় বিকল্প জ্বালানী উৎস খোঁজার দিকে জোর দেন৷ পশ্চিমা বিশ্বের অনেক দেশ তাই বিকল্প জ্বালানির দিকে এখন ঝুঁকে পড়েছে৷ তবে সেটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় উন্নয়নশীল দেশগুলো এখনও পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওপরই নির্ভরশীল৷

Flash Galerie 25 Jahre Tschernobyl 8

‘চেরনোবিল দুর্ঘটনার কথা বিশ্ববাসী এখনও মনে করে’

পরিবেশের দিকেও লক্ষ্য রাখুন

সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে৷ জানা গেছে, রুপগঞ্জে এই কেন্দ্র নির্মাণের কথা রয়েছে৷ তবে বাংলাদেশের পরিবেশবাদীরা এই ক্ষেত্রে পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিকে উপেক্ষা না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন৷ বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা'র সাধারণ সম্পাদক ডা. মতিন আহমেদ তেমনটাই জানালেন৷ এই প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমরা জানি যে সরকার এই মুহূর্তে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর জন্য প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রয়েছে৷ ইতিমধ্যে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে এক দফা চুক্তি হয়ে গেছে৷ আমরাও উন্নয়ন কিংবা বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিরুদ্ধে নই৷ তবে আমাদের আশা, যে সরকার এই কেন্দ্রের পরিবেশগত প্রভাব ভালোভাবে খতিয়ে দেখবে৷ যে কোন মূল্যে উন্নয়ন কিংবা বিদ্যুৎ উৎপাদনের পক্ষে আমরা নই৷''

ডা. মতিন জানিয়েছেন তারা সামাজিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত এই ইস্যুটিকে তুলে ধরেননি কেবল দেশের বর্তমান সার্বিক অবস্থার কথা চিন্তা করে৷ তবে সরকার যাতে পরমাণু কেন্দ্র নির্মাণের বেলায় পরিবেশ ইস্যুটিকে একেবারে হেলাফেলা না করে সেজন্য তারা এই বিষয়টি নিয়ে আলাপ আলোচনা করার পক্ষে৷ এই ক্ষেত্রে নতুন করে যে পরিবেশ নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে তাতেও তারা বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চাপ দেবেন বলে জানিয়েছেন ডা. আবদুল মতিন৷ তিনি বলেন, ‘‘আমরা শিগগিরই এই বিষয়টিকে তুলবো, যাতে করে সরকার সব দিক বিবেচনা করে কাজটি সম্পন্ন করেন৷ কারণ আমরা জানি যে পরমাণু শক্তিধর দেশগুলোতেও এই ধরণের পরমাণু কেন্দ্র তৈরি এবং তার বর্জ্য অপসারণের কাজটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং জটিল৷ এবং এটার প্রভাব মাটিতে, পানিতে এবং মানুষের স্বাস্থ্যেও অত্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী এবং স্থায়ী৷''

বর্জ্য সরাবে রাশিয়া

জানা গেছে, যে প্রস্তাবিত পরমাণু কেন্দ্রের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশন কাজ করছে৷ বাংলাদেশের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে প্রথম দফার চুক্তি অনুযায়ী পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য অপসারণের কাজটি তারাই করবে৷ ফলে বাংলাদেশে বর্জ্য ফেলা এবং এখানে তার পরিবেশগত প্রভাব পড়ারও তেমন কোন আশংকা নেই৷ ইতিমধ্যে এই সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির বৈঠকেও এই নিয়ে বিস্তারিত আলাপ আলোচনা হয়েছে বলে পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে৷

প্রতিবেদন: রিয়াজুল ইসলাম

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

নির্বাচিত প্রতিবেদন