1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

বাংলাদেশে ধর্ষণ বাড়ছে

ধর্ষণ বাড়ছে বাংলাদেশে৷ বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিবেদন এবং পুলিশের তথ্যে তার প্রমাণ মিলছে৷ বিশ্লেষকরা বলছেন এর জন্য আইনের প্রয়োগে ঢিলেমি এবং সামাজিক অবস্থা কাজ করছে৷

Symbolbild Missbrauch Opfer

প্রতীকী ছবি

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) সারা দেশ থেকে গড়ে প্রতিদিনই গড়ে চার-পাঁচজন নারী ধর্ষণের শিকার হয়ে চিকিত্‍সা নিতে আসছেন৷ আর প্রতিমাসে দেড় থেকে দুই শতাধিক ধর্ষিতাকে চিকিত্‍সা দিচ্ছেন তারা৷ এই হিসাব হচ্ছে যারা ওসিসিতে চিকিত্‍সা নিতে আসেন তাদের৷ এছাড়া দেশের অন্যান্য হাসপাতাল এবং চিকিত্‍সা কেন্দ্রে যারা চিকিত্‍সা নেন তাদের হিসাব নেই ওসিসি'র কাছে৷ চিকিত্‍সার বাইরে যারা থাকেন, ‘সামাজিক লজ্জায়' যারা ঘটনা প্রকাশ করেন না তাদের হিসাব পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই৷ ওসিসি'র মতে সাধারণত এর শিকার ১৮-১৯ বছর বয়সি মেয়েরা৷

আর খোদ রাজধানী ঢাকার চিত্রটি কিছুটা হলেও পাওয়া যায় পুলিশের হিসাব থেকে৷ ঢাকা মহানগর পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনায় রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ৫৫৪টি মামলা হয়েছে৷ এর মধ্যে রাস্তা থেকে অপহরণ করে গাড়ির মধ্যে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের মামলা রয়েছে অন্তত ৫০ ভাগ৷

জাতীয় মহিলা পরিষদ সম্প্রতি একটি হিসাব প্রকাশ করেছে৷ তাদের হিসাব অনুযায়ী চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত ছ'মাসে সারাদেশে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৪৩১টি এবং এর মধ্যে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৮২ জন৷ এ সময়কালে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৪৫ জনকে৷ এছাড়া ধর্ষণের চেষ্টার শিকার হয়েছেন আরও ৫১ জন৷

আর জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির হিসাব অনুযায়ী ২০১১ সালে সারা দেশে ৬২০ জন, ২০১২ সালে ৮৩৬ জন, ২০১৩ সালে ৭১৯ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়৷ তবে অপহরণ করে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা সামপ্রতিক সময়ে অনেক বেড়েছে৷

সমিতির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, রাজধানীসহ সারা দেশেই নারী নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে৷ অপহরণের পর নারীদের ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে৷ তিনি বলেন, ‘‘আইন প্রয়োগ যেমন ঠিকমত হচ্ছে না তেমনি সামাজিকভাবেও ধর্ষকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রতিরোধ গড়ে উঠছে না৷ আর মামলা হলেও শেষ পর্যন্ত বিচার হয় না অনেক মামলারই৷ কারণ শেষ পর্যন্ত নানা উপায়ে ভিকটিমকে বিরত রাখা হয়৷ সাক্ষীদের সাক্ষ্য দিতে দেয়া হয় না ৷ আর এজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘ভিকটিম অ্যান্ড উইটনেস প্রটেকশন অ্যাক্ট' নামে নতুন একটি আইন করার কথা বললেও তা এখনো হয়নি৷

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৬ জানুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি ইমান আলী ও বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের এক রায়ে, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ দেশের প্রতিটি থানায় আলাদা সেল গঠন করার নির্দেশ দেয়৷ কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি৷

আর জাতীয় মহিলা সমিতির সভানেত্রী আয়েশা খানম মনে করেন, প্রথম কাজ হল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সক্রিয় করা৷ তাঁর মতে, ধর্ষণ বিষয়ে আইনও সংশোধন করা প্রয়োজন৷ কারন ডিএনএ পরীক্ষা এবং অপরাধ প্রমাণের বোঝা এখনো ধর্ষণের শিকার নারীর ওপরই রয়ে গেছে৷

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার মাসুদুর রহমান এই বিষয়ে বলেন, ‘‘তারা অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিতে দেরি করেন না৷ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়ায় যা করতে হয় তা তারা দ্রুততার সঙ্গেই করেন৷ তাদের জন্য ঢাকা মহানগর এলাকায় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারও আছে৷ এই সেন্টারটি পুলিশের নারী সদস্যদের দিয়েই পরিচালিত হয়৷ তদন্ত কর্মকর্তারাও নারী৷ আর থানাগুলোতে নারী ও শিশু বিষয়ক মামলা দেখার জন্য আলাদা নারী পুলিশ কর্মকর্তা আছেন৷''

তিনি বলেন, ‘‘তবে নারীদের আরো সাহসী হয়ে এগিয়ে আসতে হবে৷ অভিযোগ করতে হবে৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়