1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

বাংলাদেশে ধর্ষণ কি অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে?

বগুড়ায় কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় যখন ফুঁসছে বাংলাদেশ, তার মধ্যেই দেশে একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটে চলেছে৷ ঢাকায় চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা, ট্রাকে কিশোরী ধর্ষণ, কলেজছাত্রীকে সাত মাস আটকে রেখে ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটেছে৷

কলেজছাত্রীকে আটকে রেখে ধর্ষণ:

টাঙ্গাইলের সখীপুরে এক কলেজছাত্রীকে প্রায় সাত মাস আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে৷ ধর্ষণ ঘটনার মূলহোতা ও প্রধান আসামি বাদল মিয়া ওরফে বাদল বাবুকে মামলা হওয়ার চারদিন পর শুক্রবার গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ৷ রবিবার বিকেলে ৬ মাস ১৭ দিন পর বাদল মিয়ার পরিত্যক্ত ঘর থেকে ওই ছাত্রীকে আশংকাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে এলাকাবাসী৷ আটক রাখা অবস্থায় ওই ছাত্রীকে ঘুমের ওষুধ ও যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট সেবন করিয়ে ধর্ষণ করে আসছিলেন বাদল মিয়া৷ শনিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি৷ 

গর্ভবতী নারীকে ধর্ষণ:

ঢাকায় শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে ধর্ষকদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন এক গর্ভবতী নারী ও তার পরিবার৷ সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়েছে, যশোরের অভয়নগরে যুবলীগ নেতা জনি সরদারসহ চারজন ওই গর্ভবতী নারীকে ধর্ষণ করার পর থানা মামলা নেয়নি৷ জনি সরদার অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন৷

বগুড়ায় কিশোরীকে ধর্ষণের আলামত:

এদিকে, বগুড়ায় কিশোরীকে ধর্ষণ এবং পরে ওই কিশোরী ও তার মায়ের মাথা ন্যাড়া করে দেয়ার ঘটনায় শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকার, তার স্ত্রী এবং নারী ওয়ার্ড কমিশারসহ ১১ জনকে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ তবে তুফানের বড় ভাই যুগলীগ নেতা মতিনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ৷ বগুড়ার সাংবাদিক নাজমুল হুদা নাসিম অবশ্য ডয়চে ভেলেকে জানান সাধারণ মানুষ এখনো আতংকের মধ্যে রয়েছে৷ তবে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক নেতারা, যেমন বগুড়া আওয়ামী লীগের সভাপতি নিজেদের দায় এড়াতে ধর্ষণ মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে কথা বলছেন বলে জানান তিনি৷

অডিও শুনুন 02:47

‘তুফানদের অবৈধ অর্থের ভাগ পেয়েছেন অনেক রাজনৈতিক নেতা’

নাজমুল হুদা জানান, তুফানরা সাত ভাই৷ তারা ২০০৯ সাল থেকে মাদক, চাঁদাবাজী, সন্ত্রাসী তৎপরতাসহ নানা অপরাধের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে৷ আর তাদের এই অবৈধ অর্থের ভাগ পেয়েছেন অনেক রাজনৈতিক নেতা৷ তাই তাদের নাম প্রকাশ হওয়ার আশঙ্কায় এখন ঐ নেতারা তুফানদের বিরুদ্ধে কথা বলছেন৷

এদিকে, ডাক্তারি পরীক্ষায় ঐ কিশোরীকে ধর্ষণ এবং নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে৷ বর্তমানে পুলিশ কিশোরী এবং তার মাকে নিরাপত্তা দিচ্ছে৷ কিন্তু নির্যাতিতরা বলছেন, সাংবাদিক ও পুলিশ সক্রিয় থাকায় এখন কিছুটা ভালো আছেন, কিন্তু পরবর্তীতে কতটা ভালো থাকবেন এ নিয়ে শঙ্কা রয়ে গেছে৷

গত ৬ মাসের পরিসংখ্যান:

মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী ,চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ২৮০টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে৷ ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১৬ জনকে৷ আর আত্মহত্যা করেছেন পাঁচ জন৷ ২০১৬ সাল ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭২৪ জন নারী৷ ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৩৭ জনকে৷ আত্মহত্যা করেছেন ১৬ জন৷ ২০১৫ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৮৪৬ জন নারী৷ আর ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৬০ জনকে৷ এই হিসাব পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী৷ তবে বাস্তব সংখ্যা যে আরো অনেক বেশি তা বলঅর অপেক্ষা রাখে না৷

অডিও শুনুন 02:12

‘সমাজ ও রাষ্ট্রে বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে’

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ২রা  আগস্ট এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গত সাত মাসে সারাদেশে কেবল শিশুই ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ২২৯টি৷ এরমধ্যে মারা গেছে আটটি শিশু৷ ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে আরো ২২টি শিশুকে৷

মহিলা পরিষদের একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৮ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত আট বছরে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন চার হাজার ৩০৪ জন৷ তাদের মধ্যে ৭৪০ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে৷ এসব ধর্ষণের ঘটনায় বিচার হয়েছে হাতে গোনা কিছু মামলার৷

ধর্ষণের ঘটনা বাড়ায় উদ্বেগ:

গত সপ্তাহে পুলিশ সদর দপ্তর সারাদেশ ধর্ষণের অপরাধ বেড়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছে৷ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন৷ তিনি এক বিবৃততে বলেন, ‘‘সামাজিক অস্থিরতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি ছাড়াও কিছু দুর্বৃত্ত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ছত্রছায়ায় এ ধরনের অপরাধ করছে৷''

যথাসময়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়ায় দুর্বৃত্তরা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে বলে মনে করেন তিনি৷  বগুড়ায় ছাত্রী ধর্ষণ, রাজধানীতে চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা, ধর্ষণের কারণে অন্তঃস্বত্তা হয়ে পরায় শরীয়তপুরে দশম শ্রেণির ছাত্রীর আত্মহত্যা, আপন ফুফার হাতে বাকপ্রতিবন্ধী তরুণী ধর্ষণসহ একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা মেনে নেয়া যায় না৷''

কাজী রিয়াজুল হক আরো বলেন, ‘‘কমিশন মনে করে, এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এসব ঘটনা দ্রুত আমলে নিয়ে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক৷ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত ও সঠিকভাবে তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করে আদালতে সোপর্দ এবং মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন৷''

মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী এবং মানবাধিকার নেত্রী অ্যাডভোকেট এলিনা খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সমাজ ও রাষ্ট্রে বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে৷ এরসঙ্গে মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় যুক্ত হয়েছে৷'' পর্নোগ্রাফির ব্যাপক বিস্তারও এতে ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন তিনি৷ আর তাই সমাজে নারীকে সম্মান করা এবং শিশুর অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, এগুলো নিশ্চিত করা না গেলে এই পরিস্থিতি মহামারী আকার ধারণ করবে৷

ধর্ষণ রোধে আপনি কী ভূমিকা রাখতে পারেন? মন্তব্য লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়