1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

আলাপ

বাংলাদেশে জঙ্গি তত্‍পরতার নতুন অধ্যায়, টার্গেট কী?

বাংলাদেশে জঙ্গি তত্‍পরতার এক নতুন অধ্যায় হয়ত শুরু হয়েছে৷ তাদের হামলার টার্গেট যেমন বিস্তৃত হয়েছে, তেমনি ধরনেও এসেছে পরিবর্তন৷ তথাকথিত ‘ইসলামিক স্টেট’ বা আইএস আছে কি নেই – এই বিতর্কের মাঝেও হামলা চলছে৷

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেও জঙ্গি তৎপরতা থামানো যাচ্ছে না৷ তার ওপর হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে আছে বিতর্ক৷ সরকার বলছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতেই এই পরিকল্পিত হামলা৷

বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হয় ২২ নভেম্বর রাত ১২টার পর৷ আর এই দণ্ড কার্যকরের আগে পরে বাংলাদেশে নাশকতার আশঙ্কা করা হয়েছিল৷ সেই নাশকতা রোধে ব্যাপক নিরাপত্তাসহ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও আরোপ করা হয় নিয়ন্ত্রণ৷ কিন্তু তারপরও জঙ্গিদের তত্‍পরতা থেমে নেই৷

সর্বশেষ ২৬ নভেম্বর বগুড়ায় শিয়া মসজিদে নামাজের সময় হামলা চালিয়ে মুয়াজ্জিনকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা৷ এরইমধ্যে সেই হামলার দায় শিকার করেছে ‘ইসলামিক স্টেট' বা আইএস৷ এর আগে পুরনো ঢাকার হোসেনি দালান এলাকায় শিয়াদের আশুরার মিছিলে বোমা হামলা চালানো হয়৷ আর সেই হামলায় এ পর্যন্ত দু'জন নিহত হন৷

গত ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার গুলশানে ইটালির নাগরিক তাবেলা সিজারকে হত্যার মধ্য দিয়ে বিদেশি নাগরিক হত্যায় নতুন ধরনের জঙ্গি তত্‍পরতা লক্ষ্য করে বাংলাদেশ৷ এই হত্যারও দায় স্বীকার করে আইএস৷ তাবেলা হত্যার পাঁচ দিনের মাথায় ৩ অক্টোবর একই ‘স্টাইল'-এ রংপুরে জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও হত্যা করে দায় স্বীকার করে আইএস৷ তবে আইএস-এর এই দায় স্বীকারকে অস্বীকার করে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল৷ তিনি তখন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বাংলাদেশে কোনো আইএস নেই৷ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্ত করতেই এ সব হত্যাকাণ্ড ঘটানো হচ্ছে৷''

ইটালির নাগরিক তাবেলা সিজারকে হত্যায় জড়িত বলে বিএনপির একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাইয়ুমের নামও প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷ রংপুরে জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও হত্যার সঙ্গেও জড়িত সন্দেহে স্থানীয় একজন বিএনপি নেতাকে আটক করা হয়েছে৷ তবে আশুরার মিছিলে বোমা হামলা, দিনাজপুরে ইটালীয় ধর্মযাজককে হত্যার চেষ্টাসহ চেকপোষ্টে হামলা চালিয়ে দুই পুলিশ সদস্যকে হত্যার সঙ্গে ‘জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ' বা জেএমবি জড়িত বলে দাবি করছে পুলিশ৷

প্রসঙ্গত, ২৫ নভেম্বর রাতে পুলিশ পাঁচ জেএমবি কর্মীকে আটক করে৷ পুলিশের দাবি তারা হোসেনি দালান এলাকায় আশুরার মিছিলে বোমা হামলাসহ আরো অনেক নাশকতার কাজে জড়িত৷ ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম তখন জানান, ‘‘আশুলিয়ার ব্যাংক ডাকাতি, ত্রিশালে জঙ্গি ছিনতাই, রাজধানীতে হোসনি দালানে বোমা হামলা, গাবতলীতে পুলিশ হত্যা, আশুলিয়ায় চেক পোস্টে পুলিশ হত্যা এবং পিডিবির সাবেক চেয়ারম্যান খিজির খান হত্যার সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি জেএমবি এই গ্রুপটি জড়িত৷''

তিনি জানান, ‘‘এমনকি মোহাম্মদপুরের বিহারি ক্যাম্পে হামলারও পরিকল্পনা ছিল জেএমবির৷''

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রশিদ গত সপ্তাহে ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বাংলাদেশের স্থানীয় জঙ্গিরা আইএস-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে নানা ধরনের সন্ত্রাসী হামলা চালাচ্ছে৷ আর এই জঙ্গিরা কখনো জেএমবি, কখনো আনসারুল্লাহ বাংলা টিম অথবা অন্য কোনো নামে কাজ করছে৷ তবে এই সব হামলার পিছনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করার একটি প্রয়াস আছে এবং তাদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামের সংশ্লিষ্টতা আছে৷''

অন্যদিকে লক্ষ্যণীয় যে, বাংলাদেশে ব্লগার এবং প্রকাশক হত্যায় আনসারুল্লাহ বাংলা টিম জড়িত বলে দাবি করছে পুলিশ৷

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ পিস অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) এম মুনিরুজ্জামান ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদের নতুন মাত্রা এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি৷ এর আগে সাম্প্রদায়িক এবং সেক্টরিয়াল জঙ্গি হামলা আমরা দেখিনি৷ শিয়াদের ওপর হামলা৷ খ্রিষ্টান ধর্মযাজকদের ওপর হামলা এখানে নতুন৷ এছাড়া বিদেশিদের ওপর হামলার ঘটনাও জঙ্গিবাদের নতুন রূপকেই প্রকাশ করে৷''

অডিও শুনুন 02:43

বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদের নতুন নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে: মেজর জেনারেল (অব.) এম মুনিরুজ্জামান

এর উদ্দেশ্য কী হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘আমরা বিদেশি হত্যাসহ সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার পর টুইট বার্তায় আইএস-এর দায় স্বীকারের ঘটনা দেখেছি৷ আইএস-এর নিজস্ব সাময়িকী দাবিক-এর সর্বশেষ সংস্করণে বাংলাদেশে আইএস-এর বাংলাদেশে অনুসারীদের কথা বলা হয়েছে৷ আমার মনে হয়, আইএস নতুন কোনো বিনিয়োগ না করে এখানকার জঙ্গিদের দিয়ে তাদের ‘ফ্রন্ট' খুলতে চায় বাংলাদেশে৷''

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে হরকাতুল জিহাদ প্রথম জঙ্গি সংগঠন৷ তারা পহেলা বৈশাখ রমনা বটমুল, ২১ আগস্টে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে গ্রেনেড হামলাসহ আরো অনেক হামলার সঙ্গে জড়িত৷ এরপর ২০০৫ সালে দেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে বোমা হামলা চালিয়ে আলোচনায় আসে জেএমবি৷ এরপর ব্লগার হত্যার ঘটনায় জানা যায় ‘আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের' নাম৷ আর এখন বাংলাদেশি জঙ্গিদের আইএস ঝোক ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে৷

আপনার কী কিছু বলার আছে? লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়