1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তার বড় বাধা ‘দুর্নীতি’

দুর্নীতির কারণে স্বাধীনতার পর গত ৪২ বছরেও বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়নি৷ প্রায় সকল ছোট-বড় খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মান বহির্ভূত নিম্নমানের খাদ্যপণ্য তৈরি করলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায়নি৷

Lebensmittel in Markt in Bangladesch

ফাইল ফটো

‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ, সুশাসনের জন্য চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক টিআইবি পরিচালিত এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সুলতানা কামাল এ সব কথা বলেন৷ প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার নবম জাতীয় সংসদের উপর টিআইবি-র পার্লামেন্ট ওয়াচ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়৷ সংসদ অধিবেশনের বিভিন্ন নেতিবাচক দিকের সমালোচনার পাশাপাশি সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দশম সংসদে জাতীয় পার্টি আক্ষরিক অর্থে বিরোধী দল৷ তাদের ভূমিকা বাস্তবে অনুধাবন করতে পারি না৷ এই ব্যতিক্রমী সংসদ সাময়িক ও দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলেও টিআইবি মনে করে৷

টিআইবি-র এই মন্তব্যের একদিন পর বুধবার জাতীয় সংসদের সদস্যরা কড়া ভাষায় টিআইবি-র সমালোচনা করেন৷ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম পয়েন্ট অফ অর্ডারে টিআইবি-র আর্থিক উত্স, সংসদ নিয়ে মন্তব্য করার এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং তাদের রাজনীতিতে আসার পরামর্শ দেন৷

Bangladesch Tagung Hannover 2008

সুলতানা কামাল

এ বিষয়ে টিআইবি-র অবস্থান জানতে চাইলে ড. ইফতেখারুজ্জামান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা সরকারের অনুমতি নিয়েই কাজ করি৷ যে পার্লামেন্ট ওয়াচ করেছি, সেখানেও আমাদের সরকারের অনুমতি নিয়ে ঢুকতে হয়েছে৷ টিআইবি একটি অরাজনৈতিক সংগঠন৷ কখনোই রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট নই৷ যখন সংসদ নিয়ে কথা বলি, তখন আমাদের রাজনীতি নিয়েও কথা বলতে হয়৷’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘সরকার ও সংবিধান আমাদের কাজ অনুমোদন করে৷ আমাদের কাজ সংবিধানসম্মত৷’’ তিনি বলেন, টিআইবি সরকারের একটি নিবন্ধিত সংস্থা৷ টিআইবি-র অর্থের উত্স সম্পর্কেও সরকার অবহিত৷ তাই টিআইবি-কে চ্যালেঞ্জ করার এক্তিয়ার কারো নেই৷

টিআইবি-র আর্থিক উৎসের বিষয়ে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, টিআইবি সরকারের অনুমোদিত সংস্থা হওয়ায় সরকারের অনুমতি ছাড়া একটি পয়সাও অ্যাকাউন্টে আসে না৷ সরকারের নির্ধারিত খাতের বাইরে একটি পয়সাও আমরা খরচ করতে পারি না৷ তাই সংসদে দাঁড়িয়ে দায়িত্বশীল লোকজনের টিআইবি-কে নিয়ে কথা বলা যৌক্তিক বলেও মনে করি না৷ রাজনীতিতে যোগ দেয়ার পরামর্শের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘‘রাজনীতিতে যোগ দেবো কিনা সেটা আমার ব্যক্তিগত এক্তিয়ার৷ তবে টিআইবি ও আমরা মনে করি, আমাদের এ ধরনের ইচ্ছা কখনোই হবে না৷’’

এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে বলেছেন, ‘‘খালেদা জিয়া ও বিএনপির নেতারা যে ভাষায় কথা বলছেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এবং সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) বক্তব্যের সঙ্গে তার কোনো পার্থক্য নেই৷ অর্থমন্ত্রীকে বলবো তাদের অর্থের উত্স কোথায় খতিয়ে দেখতে৷’’ মোহাম্মদ নাসিম অভিযোগ করে বলেন, ‘‘নিজেদের অস্তিত্ব জানানোর জন্য তারা এ সব বক্তব্য দিচ্ছেন৷ অনির্বাচিত সরকার ও নৈরাজ্য ফিরিয়ে আনতেই মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি করছে টিআইবি, সুজনসহ কিছু কিছু মহল৷’’

এদিকে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণের বিষয়ে টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ সত্ত্বেও একটি সার্বিক নিরাপদ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগের অভাব রয়েছে৷ নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ পাশ হলেও গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আজও তা কার্যকর করা হয়নি৷ প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের ক্ষেত্রে নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ বলবৎ না করা, ভোক্তার সরাসরি মামলা করার বিধান না থাকা ও ভোক্তার অভিযোগ নিরসনে প্রক্রিয়াগত জটিলতা এবং ভোক্তা বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষার ব্যয়ভার বহনের বাধ্যবাধকতাসহ বিভিন্ন বাধা রয়ে গেছে৷ খাদ্য তদারকি ও পরিবীক্ষণের ক্ষেত্রে জনবলের স্বল্পতাও একটি অন্যতম সীমাবদ্ধতা৷

গবেষণায় নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট উদাহরণ দিয়ে বলা হয়, স্যানিটারি ইন্সপেক্টররা খাদ্যপ্রস্তুতকারী রেস্তোরাঁ বা বেকারি ও খুচরা বিক্রেতা পরিদর্শনে ঘুস গ্রহণ, বিএসটিআই-র ফিল্ড অফিসার খাদ্য কারখানা পরিদর্শনে খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহে ঘুসের বিনিময়ে শৈথিল্য প্রদর্শন, আমদানিকৃত খাদ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষায় ঘুষের বিনিময়ে পরীক্ষাগার হতে সনদ গ্রহণ ইত্যাদি ঘটনা এখনো ঘটছে৷ নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে আইনি কাঠামো বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক ও তদারকি ব্যবস্থাপনায় সুশাসন নিশ্চিত করতে ১৬ দফা সুপারিশ করা হয়েছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়