1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

বাংলাদেশে উন্মুক্ত হচ্ছে থ্রিজি পরিষেবা

নিলামের মাধ্যমে কাল রবিবার উন্মুক্ত হচ্ছে বহু প্রত্যাশিত তৃতীয় প্রজন্মের (থ্রিজি) মোবাইল ফোন সার্ভিস৷ যদিও গত বছরের অক্টোবর থেকে পরীক্ষামূলক থ্রিজি সেবা দিচ্ছে একমাত্র রাষ্ট্রীয় মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটক৷

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই নিলাম অনুষ্ঠিত হবে রবিবার৷ এই নিলামে অন্তত ৫ হাজার কোটি টাকার স্পেকট্রাম বরাদ্দ দেয়া হবে চারটি মোবাইল ফোন অপারেটরকে৷ তবে অপারেটররা বেশি স্পেকট্রাম নিলে টাকার অঙ্ক ৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে৷ আর টেলিটককে ইতিমধ্যে যে স্পেকট্রাম দেয়া হয়েছে, তার দাম ভ্যাটসহ প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা৷ টেলিটক এই নিলামে অংশ না নিলেও নিলামে ওঠা দাম তাদের পরিশোধ করতে হবে৷ হোটেল রূপসী বাংলায় অনুষ্ঠিত হবে উন্মুক্ত এই নিলাম৷ এতে অংশ নেবে গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি ও এয়ারটেল৷

গত ৫ বছর ধরে থ্রিজি-র নিলাম করার চেষ্টা করে আসছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)৷ ২০০৮ সালে গাইডলাইন তৈরির পর ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে এই নিলাম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল৷ কিন্তু তা পেছাতে পেছাতে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে এসে ঠেকেছে৷ তারপরও থ্রিজি উন্মুক্ত হওয়ায় খুশি মোবাইল ফোন অপারেটর ও গ্রাহকরা৷ থ্রিজিতে সবচেয়ে বেশি সুবিধা মিলবে ইন্টারনেট সেবায়৷ গতি বাড়বে কয়েকগুন৷ আশপাশের দেশ ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় ইতিমধ্যে থ্রিজি সার্ভিস শুরু হয়েছে৷

epa03664016 A local woman worker uses her mobile phone after she was evacuated along with hundreds of other workers in Karachi, Pakistan 16 April 2013 -- a city nearest the border with Iran where a 7.8 magnitude earthquake struck. Early reports suggest that 40 have so far died but there is no information on damage. EPA/REHAN KHAN +++(c) dpa - Bildfunk+++

এতে অংশ নেবে গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি ও এয়ারটেল

নীতিমালা অনুযায়ী থ্রিজির সঙ্গে ফোরজি ও এলটিই সার্ভিস দিতে পারবে মোবাইল ফোন অপারেটররা৷ তার জন্য এখনই তাদের স্পেকট্রাম নিতে হবে৷ কারণ ফোরজি ও এলটিই-র জন্য নতুন করে স্পেকট্রাম বরাদ্দ দেবে না বিটিআরসি৷ একটি বিদেশী প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় অপারেটর টেলিটকসহ ৫টি প্রতিষ্ঠানকে থ্রিজির লাইসেন্স দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিটিআরসি৷ কিন্তু কোন বিদেশি প্রতিষ্ঠান আসতে আগ্রহ না দেখানোয় গাইডলাইন সংশোধন করে সেই জায়গায় বর্তমানে বাংলাদেশে সেবা দেয়া অপর একটি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়৷ বাংলাদেশে বর্তমানে রাষ্ট্রীয় অপারেটর টেলিটকসহ ৬টি অপারেটর সেবা দিচ্ছে৷ এরমধ্যে এখন লাইসেন্স পাচ্ছে ৫টি প্রতিষ্ঠান৷ শুধুমাত্র সিটিসেল থ্রিজির লাইসেন্স পাচ্ছে না৷ তারা নিলামে অংশ নিতে আগ্রহ দেখালেও শেষ পর্যন্ত জামানতের টাকা জমা দেয়নি৷ ফলে নিলামে তারা অংশ নিতে পারছে না৷

থ্রিজির এই নিলামে অংশ নিচ্ছে চারটি মোবাইল ফোন অপারেটর৷ প্রত্যেকেই লাইসেন্স পাবে৷ তাহলে নিলাম কার্যত আনুষ্ঠানিকতা কি না – এমন প্রশ্নের জবাবে বিটিআরসি চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস ডয়চে ভেলেকে বলেন, নিলামে প্রতিযোগিতা হবে৷ কারণ অপারেটরদের ফোরজি ও এলটিই-র জন্য এখনই স্পেকট্রাম নিতে হবে৷ হাতে আছে মাত্র ৪০ মেগাহার্টস স্পেকট্রাম৷ এখন না নিলে নতুন করে আর তাদের স্পেকট্রাম দেয়া হবে না৷ তাছাড়া নিলামে অপারেটরদের অন্তত একটি ডাক দিতেই হবে৷ তাতে প্রতি মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম ২০ মিলিয়ন ডলারের সঙ্গে অন্তত এক মিলিয়ন ডলার যোগ হবে৷ কারণ এক মিলিয়নের কম ডাকার কোন সুযোগ নেই৷ বিটিআরসি চেয়ারম্যানের মতে, গাইডলাইন অনুযায়ী সর্বনিম্ন দাম প্রতি মেগাহার্টজ ২০ মিলিয়ন বা ২ কোটি ডলার ধরা হয়েছে তা একেবারে কম নয়৷ তাই নিলাম সফল হবে বলেই মনে করেন তিনি৷

Bengalische Banknoten von 2 bis 1000 BDT. Datum: 25.10.2011. Eigentumsrecht: A H M Abdul Hai, Bengali Redaktion, DW, Bonn

৭ থেকে ৮ হাজার কোটি টাকার নিলাম অনুষ্ঠিত হবে

থ্রিজির নীতিমালা অনুযায়ী নিলামে অংশ নিতে প্রতি মেগাহার্টজ স্পেকট্রামের (তরঙ্গ) ফ্লোর প্রাইস (সর্বনিম্ন মূল্য) নির্ধারণ করা হয়েছে ২ কোটি মার্কিন ডলার৷ আবেদনপত্র ফি ৫ লাখ টাকা৷ লাইসেন্স নিতে ১০ কোটি টাকা, আর বার্ষিক লাইসেন্স ফি ৫ কোটি টাকা৷ নিলামে বিজয়ী প্রতিষ্ঠানকে মোট তরঙ্গ ফি-র ৬০ শতাংশ ৩০ কার্যদিবস ও ৪০ শতাংশ পরবর্তী ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জমা দিতে হবে৷ ১৫ বছরের জন্য দেয়া হবে এই লাইসেন্স৷ পরবর্তী সময়ে প্রতি পাঁচ বছরের জন্য নবায়নের সুযোগ থাকবে৷ আয়ের ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বিটিআরসিকে জমা দিতে হবে৷ সোশাল অবলিগেশন ফি ধরা হয়েছে প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষিত মোট আয়ের এক শতাংশ৷

জানা গেছে, থ্রিজি সার্ভিসের জন্য প্রত্যেক অপারেটরকে কমপক্ষে ৫ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম নিতে হবে৷ কেউ চাইলে বেশিও নিতে পারেন৷ ইতিমধ্যে টেলিটককে থ্রিজির জন্য ১০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম বরাদ্দ দেয়া হয়েছে৷ এখনও বিটিআরসির হাতে রয়েছে ৪০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম৷ এক ডাকেও যদি অপারেটররা স্পেকট্রাম পান, তাহলে প্রতি মেগাহার্টজের দাম হবে ২১ মিলিয়ন বা ২ কোটি ১০ লাখ ডলার৷ বাংলাদেশি টাকায় ১৬৮ কোটি (এক ডলার ৮০ টাকা হিসেবে) টাকা৷ ৪০ মেগাহার্টস স্পেকট্রামই যদি অপারেটররা নিয়ে নেয় তাহলে এই হিসেবে বিটিআরসি পাবে ৬ হাজার ৭২০ কোটি টাকা৷ এর সঙ্গে ৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে৷ এই দামে টেলিটককেও দিতে হবে ভ্যাট ছাড়া এক হাজার ৬৮০ কোটি টাকা৷ এর আগে গত ২৯শে আগস্ট জামানত হিসেবে চারটি মোবাইল ফোন অপারেটর ৬২২ কোটি টাকা জমা দিয়েছে৷ সব মিলিয়ে আগামীকাল ৭ থেকে ৮ হাজার কোটি টাকার নিলাম অনুষ্ঠিত হবে৷ যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নিলাম৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন