1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘বাংলাদেশে আইএস আছে, তারাই হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে'

বাংলাদেশে সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন৷ একই দাবি জার্মানি ও ফ্রান্সেরও৷ মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ‘‘বাংলাদেশে আইএস আছে আর তারাই ঘটাচ্ছে এ সব হত্যাকাণ্ড৷''

২৫শে এপ্রিল ঢাকায় ইউএসএআইডি-র কর্মী ও সমকামী ম্যাগাজিন ‘রূপবান'-এর সম্পাদক জুলহাস মান্নান ও তাঁর বন্ধু মাহবুব তনয়ের খুনের ঘটনার পর ঐ আহ্বান জানায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ৷

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘হত্যাকাণ্ডের যারা শিকার, সেইসব ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতিগভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি আমরা৷ দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি আহতদের৷ এ সব ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করতে এর তদন্তের প্রয়োজন আছে৷'

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রত্যাশা, বাংলাদেশ সরকার মৌলিক অধিকার হিসেবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে৷ সব নাগরিকের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিতের জন্য এটা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷'

এদিকে জুলহাস মান্নান হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে ঢাকাস্থ জার্মান দূতাবাস৷ এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত টোমাস প্রিনৎস বলেন, ‘‘জুলহাস মান্নান ও মাহবুব তনয়ের লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডে আমি গভীরভাবে মনঃক্ষুণ্ণ ও মর্মাহত৷ আমি এ দুই স্পষ্টভাষী উদারমনা অধিকারকর্মীর হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি৷ এটা শুধু দুই সাহসী ব্যক্তির ওপরই হামলা নয়, বরং এটা বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতার ওপর হামলা৷ এ ঘটনার দ্রুত ও যথাযথ তদন্তে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আমি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি৷ বিগত মাসগুলোতেও আমরা এ ধরনের বহু ঘটনা ঘটতে দেখেছি৷ এখন সময় এসেছে পুরো সমাজকে একসঙ্গে এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতো মৌলিক অধিকারকে রক্ষা করার৷''

শুধু জার্মানিও নয়, ফ্রান্সও জুলহাস মান্নান, মাহবুব তনয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকী এবং হিন্দু সাধু পরমানন্দ রায়সহ সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলোকে নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে৷

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য ঘটনার পরপরই নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানায়৷ বুধবার মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিকাট সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকও করেছেন৷ বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘বার্নিকাট আমাদেক বলেছেন, বাংলাদেশে যে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট বা আইএস আছে, সেটা আমরা বিশ্বাস করছি না৷ অথচ এগুলো তো তারাই ঘটাচ্ছে৷''

অডিও শুনুন 02:00

‘নিহতরা মূলত মুক্তচিন্তার মানুষ, অন্য ধর্মের অথবা ভিন্নমতের’

ওদিকে রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘অপরাধীরা অপরাধ করে পালিয়ে যেতে পারে এমন পরিবেশ তৈরি হয়েছে এ দেশে৷''

এ সব প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও অপরাধ বিজ্ঞানের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বিদেশিদের উদ্বেগের যথেষ্ঠ কারণ আছে৷ গত ১৪ মাসে ৩৫ জনকে হত্যা করা হয়েছে বাংলাদেশে৷ এরা টার্গেট কিলিং-এর শিকার হয়েছেন৷ নিহতরা মূলত মুক্তচিন্তার মানুষ, অন্য ধর্মের অথবা ভিন্নমতের৷ আর এতেই স্পষ্ট যে জঙ্গিরা তাদের নিশানা আরো তীব্র করছে, যা খুবই আতঙ্কের৷ সরকার এ সব ঘটনায় বিদেশি ষড়যন্ত্র বা বিরোধী দলকে দায়ী করে দায় এড়াতে চাইছে৷ এটা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়৷''

তাঁর কথায়, ‘‘নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং অপরাধীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা সরকারের দায়িত্ব৷ সেটাই তো সরকারের কাজ৷''

বন্ধুরা, সরকার কি সেই দায়িত্ব পালন করছে বলে মনে হয়? জানান নীচে, মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়