1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নারীর ভূমিকা

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ৪০ বছরে পা রাখছে৷ নয় মাসের মুক্তি ও স্বাধীনতার এই সংগ্রামে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছেন৷ কিন্তু কতোটাই বা আমরা জানি স্বাধীনতা সংগ্রামে নারীর অংশ গ্রহণের কথা?

Bangladeshi, schoolgirls, wave, national, flag, victory, day, Dhaka, Bangladesh, anniversary, independence, bloody, civil, war, Pakistan, বাংলাদেশ, স্বাধীনতা, সংগ্রাম, নারী, ভূমিকা,

এই লাল-সবুজের পতাকার জন্য যুদ্ধ করেছেন বাংলার অগণিত নারী-পুরুষ

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, নয় মাসের ভয়ঙ্কর যুদ্ধে নারীর কথা উঠলেই, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চোখের সামনে ভেসে উঠে ধর্ষিতা, নির্যাতিতা নারীর ছবি৷ কিন্তু নারী শুধু নির্যাতিতাই হননি, পুরুষের পাশাপাশি ঝাঁপিয়েও পড়েছিলেন স্বাধীনতা যুদ্ধে, অস্ত্র তুলে নিয়েছিলেন হাতে৷ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছেন পুরুষের সাথে৷ মুক্তি যোদ্ধা বীর প্রতীক তারামন বিবির কথা তো সবারই জানা৷ ক'জন তারামন বিবির কথাই বা আমরা জানি? বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের নেপথ্যে এইরকম অসংখ্য তারামন বিবির অবদান লুকিয়ে আছে৷ বীর প্রতীক তারামন বিবি পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন কুড়িগ্রামের শঙ্কর মাধবপুর গ্রাম থেকে৷ তিনি ছিলেন ১১ নম্বর সেক্টরে৷ যুদ্ধ করেছেন, সেক্টর কমান্ডার আবু তাহের বীর উত্তমের নেতৃত্বে৷ ক্যাম্পে যখন যোগ দেন তারামন তখন তার বয়স ছিল ১৩/১৪ বছর৷

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এই রকম আরেকজনের নাম শিরীন বানু মিতিল৷ তিনি যখন হাতে অস্ত্র তুলে নেন, তখন তাঁর বয়স ২১৷ জিজ্ঞেস করেছিলাম কীভাবে তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধে জড়িত হলেন? শিরীন জানান, ‘‘আমি মুক্তিযুদ্ধে জড়িত হলাম শুরু থেকেই৷ ২৫ শে মার্চ আমি তখন পাবনায় ছিলাম৷ পাক আর্মিরা পাবনা শহরে ঢোকে এবং কারফিউ জারি করে৷ তারা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং লোকজনের ওপরে অত্যাচার শুরু করে৷ এবং পুলিশ লাইনে তারা অস্ত্র সারেন্ডার করার জন্যে বলে, ঐ সময়ে জনপ্রতিরোধ তৈরি হয় পাবনায়৷ এবং আমি তখন জনগণের সাথে৷ টেলিফোন ভবনে যে যুদ্ধটা হয় আমি সেখানে যুদ্ধে যোগ দেই৷ আমার সাথে আমার দুই কাজিনও ছিল এবং আমি ছেলেদের মতো পোশাক পরেই ওখানে চলে গিয়েছিলাম, কারণ বাংলাদেশে মেয়েদের জন্যে সবসময় দৌড়াদোড়ির জায়গায় যাওয়াটা ঐ সময়ে একটু সমস্যা ছিল৷ ঐ যুদ্ধের পরে যেটা হয় যে, পাবনা ১০ দিন স্বাধীন ছিল৷ এবং পরবর্তী সময়ে আমাদের যুদ্ধ হয় নগরবাড়ি ঘাটে৷ এবং সেখান থেকে আমরা যখন পিছু হটতে বাধ্য হই, কুষ্টিয়াতে আসি৷ কুষ্টিয়াতে পাকশির যুদ্ধে ওখানেও আমরা ছিলাম৷ তারপরে আমরা চুয়াডাঙ্গাতে চলে আসি৷''

নয় মাসের স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলাদেশের নারীর অবদান রয়েছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে৷ যারা হাতে অস্ত্র তুলে নেননি, তারা করেছেন সেবা৷ ক্যাম্পে ক্যাম্পে ঘুরে মানুষের সেবা করেছেন৷ সেবা করেছেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের৷ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কথা তো সবার জানা৷ তৎকালীন শিল্পীরা ক্যাম্পে ঘুরে ঘুরে গান গেয়ে মুক্তিযোদ্ধা এবং সাধারণ মানুষকে উজ্জীবিত করেছেন৷

Bangladesch völkerrechtlich unabhängig von Pakistan

নারী-পুরুষ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংগ্রামের ফসল পাকিস্তানি বাহিনীর এই আত্মসমর্পণ

শিরীন বানু মিতিলকে অন্যান্য নারী মুক্তিযোদ্ধাদের কথা জিজ্ঞেস করাতে তিনি বললেন, ‘‘পাবনার এক নারীর কথাই বলতে পারি৷ উনি আমার আত্মীয় হন, রাকিবা বানু৷ তবে উনি এখন আর বেঁচে নেই৷ উনি নিজের দুই সন্তানকে বলেছিলেন যে, আমি কী তোমাদেরকে পেটে ধরেছি ঘরে বসে থাকার জন্যে? তোমরা যুদ্ধে যাও৷ এবং মনে রেখ তোমাদের পিঠে যেন গুলি না লাগে৷ এটা একটা উদাহরণ মাত্র৷ ঠিক তেমনি বংলার ঘরে ঘরে মায়েরা ছেলে সন্তানদেরকে যেমন সাহস যুগিয়েছেন, তেমনি নিজেরাও কিন্তু প্রতিরোধে অংশ নিয়েছেন এবং যুদ্ধের সময়ে, গেরিলাদের আশ্রয় দেওয়া, খাবার তৈরি করে দেওয়ার কাজ করেছেন৷ এমনকি পাবনার আতাইকুলায় এক মহিলার কথা আমরা জানি, উনি যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে খাবার মাথায় করে নিয়ে, ছদ্মবেশে তাদের কাছে খাবার পৌঁছে দিয়েছেন৷ বর্ডার এলাকায় দেখেছি, প্রচুর মেয়েরা, কিশোর-কিশোরীরা, তারা মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার জন্যে ক্যাম্পে সারিবদ্ধভাবে নাম লিখিয়েছে এবং আগরতলার বিশ্রামনগর হাসপাতালে সেখানে এক বিশাল গ্রুপে মেয়েরা অস্ত্র হাতে প্রশিক্ষণ নিয়েছে এবং নার্সিং ট্রেনিংও নিচ্ছে৷ অর্থাৎ, নার্সিং-এ বলেন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বলেন, সেবামূলক কর্মকাণ্ডে বলেন, সব জায়গায় সর্বক্ষেত্রেই নারীর অংশগ্রহণ ছিল ব্যাপক৷''

প্রতিবেদন: ফাহমিদা সুলতানা

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

নির্বাচিত প্রতিবেদন