1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

আলাপ

বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থা ভয়ংকরভাবে নারী বিদ্বেষী

আমাদের সমাজব্যবস্থা ভয়ংকরভাবে নারী বিদ্বেষী৷ এখানে প্রতিটা নিয়মরীতি সংস্কার প্রথা সবই নারীর বিপক্ষে যায়, লিখেছেন অনন্য আজাদ৷

যেহেতু আমাদের সমাজের যাবতীয় সকল রীতিনীতির উপর ধর্মের প্রভাব মাত্রাতিরিক্ত, তাই এখানে সকল প্রথা বানানো হয়েছে ধর্মে নারীকে নিয়ে কী বলা হয়েছে, তার উপর ভিত্তি করে৷ সমাজে নারীর অধিকার নিশ্চিত করার জন্য যত আন্দোলন হয়, তার চেয়ে দ্বিগুণ বেগে ধর্ম আর সমাজ তেড়ে এসে নারীকে রাখতে চায় অবরুদ্ধ৷ সমাজের আলেমদাররা বড় গলায় বলে বেড়ায় বাংলাদেশে যেহেতু ইসলাম ধর্মাবলম্বী সংখ্যাগরিষ্ঠ, সেহেতু এখানে নারীদের চলতে হবে ইসলামের নিয়ম মেনে৷ কিন্তু পুরুষদের বেলায় কোনো বাঁধা নেই৷ কোনো নিয়ম নেই৷ আরও হাস্যকর লাগে, যখন তাঁরা বলেন ইসলাম অনুযায়ী চললে নারী থাকবে সর্বোচ্চ মর্যাদা নিয়ে৷ অথচ সর্বোচ্চ মর্যাদা বলতে ধর্ম বোঝায় নারী থাকবে পুরুষের নীচে৷ ধর্মগ্রন্থে এমন অনেক উদাহরণ পাওয়া যায় যেখানে স্পষ্ট চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে যে, ‘নারী তুমি পুরুষের অধীন'৷

ধর্মগ্রন্থের কোথাও আমরা এমন কোনো বর্ণনা পাই না যেখানে নারীকে পুরুষের সমান মর্যাদা বা অধিকার দেওয়া হয়েছে৷ কোথাও বলা হয়নি, নারীও চারটি বিয়ে করতে পারবে, রাখতে পারবে অসংখ্য দাস, বেহেস্তে নারীদের জন্য থাকবে সকল ধরনের প্রমোদের ব্যবস্থা – যা একজন পুরুষের জন্য বরাদ্দ৷ নারী দেখলে পুরুষ উত্তেজিতবোধ করে৷ সেজন্য নারীকে থাকতে হবে পর্দার আড়ালে৷ অথচ যার সমস্যা, যার উত্তেজনা জাগে, তাকেই তো অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত৷ তাই না?

ভিডিও দেখুন 02:35

সর্বোচ্চ মর্যাদা আসলেই দেয়া হতো যদি নারীকেও দেয়া হতো স্বামীকে শাসন করার অধিকার, প্রয়োজনে স্বামীকে মারধোর করার অধিকার৷ ঠিক যেভাবে স্বামীদের স্ত্রীকে প্রহার করার অধিকার দিয়েছে ধর্মগ্রন্থ৷ একজন পুরুষ সম্পত্তিতে যতটুক লাভ করবে, ঠিক ততটাই একজন নারীও পাবে৷ অর্থাৎ সমানভাবে৷ অথবা যদি বলা হতো একজন নারীর সাক্ষ্য ঠিক ততটুকু গুরুত্ব, যতটুকু একজন পুরুষের সাক্ষ্য৷ কিন্তু এমন সমতার উদাহরণ কোনো ধর্মগ্রন্থে নেই৷ সব গ্রন্থেই একইভাবে নারীকে বঞ্চিত করা হয়েছে তার প্রাপ্য সকল অধিকার থেকে, রাখা হয়েছে পর্দা এবং ঘরের কোণে৷

সমাজে নারীরা পিছিয়ে৷ কারণ সমাজব্যবস্থা আমাদের মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছে যে, নারী মাত্রই দুর্বল, শোষণযোগ্য, নীচ৷ আবদুল্লাহ বিন ওমরের বর্ণনামতে নবী বলেছেন, ‘‘তিনটি জিনিস অশুভ – নারী, বাড়ি এবং ঘোড়া৷'' লোক দেখানো মর্যাদা দিয়ে নারীকে তুলনা করা হয়েছে সকল অশুভ শক্তির সাথে৷ ধর্মের এমন বিপরীতমুখী ব্যাখ্যা মানুষকে ভাবতে শিখিয়েছে যে, নারী মাত্রই ভোগের বস্তু৷ নারী মাত্রই পুরুষের সম্পত্তি৷ পুরুষ তাকে যেমন খুশি তেমন ব্যবহার করবে৷ আর এত সব অন্তরায়ের মধ্যে নারী দিন দিন ভীত হচ্ছে৷ সে পড়ালেখা করে ঘরে বসে থাকছে বা স্বামীর রান্নাঘরে উনুন ঠেলছে৷ কিন্তু বাইরে বের হয়ে কাজ করতে এদের মধ্যে কেউ কেউ ভয় পাচ্ছে৷ কারণ বাইরে তার জন্য অপেক্ষা করছে ভয়ংকর পরিস্থিতি৷ সে যে কাজ শেষে নিরাপদে বাসায় ফিরে আসবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই৷ যে কোনো সময় তার উপর হামলে পড়তে পারে পুরুষ নামক নরখাদক৷

বর্তমান সময়ে সমাজ নারীকে বলছে বাইরে কাজ করতে, কিন্তু বাইরে যে আজও অসংখ্য বিপদ রয়েছে নারীর জন্য – সেই বিপদের কোনো সুরাহা সমাজ করছে না৷ কারণ সমাজ জানে, এই বিপদের ভয়ে নারী অন্তরমহলে ঢুকতে বাধ্য হবে৷ আর এতে নারীকে নিয়ন্ত্রণ করার বাসনা পূর্ণ হবে সমাজের৷

সমাজ বলে, নারীকে নাকি তারা স্বাধীনতা দিচ্ছে৷ নারীকে স্বাধীনতা দেয়ার সমাজ কে? পুরুষ কে? স্বাধীনতা মানুষের জন্মগত অধিকার৷ জন্ম থেকে যে স্বাধীনতা একজন পুরুষ ভোগ করে, সেই স্বাধীনতা একজন নারীও ভোগ করবে৷ কিন্তু সমাজ তার থেকে এই স্বাধীনতা জোর করে কেড়ে নিয়েছে এক রাশ রীতিনীতি, প্রথা আর সংস্কার চাপিয়ে৷

সমাজ ঘোষণা দিয়েছে নারীকে করতে হবে স্বামীর সেবা, লালন করতে হবে সন্তান৷ উদারতা দেখিয়ে আবার বলা হয়েছে যে, নারী চাইলে পড়ালেখা করে চাকরিও করতে পারে৷ কিন্তু বাস্তবে নারী চাইলেই তা পারে না৷ তাকে অনুমতি নিতে হয়৷ বিয়ের আগে পিতামাতার অনুমতি, বিয়ের পর স্বামী এবং শ্বশুর বাড়ির অনুমতি নিয়ে তবেই নারী বাইরে পা রাখতে পারে৷ তাছাড়া সে যদি বাইরে পা রাখেও, তাকে মেনে চলতে হয় হাজার নিয়ম৷

পুরুষতান্ত্রিক সমাজ বড্ড ধুরন্ধর৷ সে খুব চমৎকারভাবে সমাজে প্রচার করে যে, নারীকে তারা স্বাধীনতা দিয়েছে৷ কিন্তু নারীর জন্য তারা যে চিরাচরিত দায়িত্ব নির্ধারণ করে রেখেছে, সেই দায়িত্ব থেকে রেহাই দেয়নি৷ কোনো নারী যদি সমাজের সকল বাধাকে অতিক্রম করে উন্মুক্ত স্বাধীনতা উপভোগ করতে চায়, তবে আশেপাশের মানুষের কাছ থেকে আসে নানা অপবাদ, গঞ্জনা, অসম্মান৷ যে নারী চাকরির ক্ষেত্রে উচ্চপদে আসীন হয়, তাকে নিয়ে অত্যন্ত মুখরোচক গল্পের অবতারণা হয়৷ আড়ালে বলতে থাকে নিশ্চয়ই বসকে খুশি করে সে এই চাকরি পেয়েছে৷ খুশি অবশ্যই করতে পেরেছে, কিন্তু সেটি তার কাজ যোগ্যতা ও পরিশ্রম দিয়ে৷ কিন্তু সমাজ এই সোজা কথা বিশ্বাস করতে চায় না৷ বরং সেই সাহসী নারীকে কলঙ্কিত করতে পারলে সমাজের সাধ মেটে৷

Nur für Life Links - Selfie auf dem Dach

অনন্য আজাদ, লেখক

এই একবিংশ শতাব্দীতেও নারীকে অবরুদ্ধ করার জন্য হেফাজতে ইসলামের মতো কট্টর ধর্মীয় সংগঠন দাবি তোলে নারীদের ক্লাস ফাইভের বেশি পড়তে না দিতে৷ নারীদের তুলনা করা হয় তেঁতুলের সাথে৷ এই সমাজে নারী স্বাধীনতা অত্যন্ত তীব্র সংগ্রামের ব্যাপার৷ এর জন্য প্রথমে নারীদের নিজেদের ভাবতে হবে যে, তাদের স্বাধীনতা একজন পুরুষের সমানুপাতিক৷ সে স্বাধীন আর এই স্বাধীনতা সে মানুষ হিসেবে জন্ম নেওয়ার সময়ই অর্জন করেছে৷ এবং সে স্বাধীনতা পুরুষতান্ত্রিক সমাজ তার থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে৷ তাকে সে স্বাধীনতা পুনরদ্ধার করতে হবে, পুরুষ থেকে ভিক্ষে হিসেবে নয়৷

তারপরও নারী সাহস করে গুঁটি গুঁটি পায়ে সামনে এগোচ্ছে৷ কিছুদিন আগে এক নারী রিকশাচালক খুব দৃঢ়তা সাথে বলেছিলেন, ‘‘মানুষের কথায় কান দেই না, সমাজ কি খাওয়ায় নাকি?'' সত্যি তাই৷ তাই সমাজের নষ্ট শৃঙ্খল ভেঙে সামনে এগোতে হবে নারীদের৷

আপনি কি অনন্য আজাদের সঙ্গে একমত পোষণ করেন? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন