1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বিদ্যুৎ কূটনীতি

ভারত-বাংলাদেশ যৌথ বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ ভারতের বহরমপুর ও বাংলাদেশের ভেড়ামারায় আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে সম্পূর্ণ হয়ে যাবে৷ বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে ভারত যেনতেনভাবে তা শেষ করতে কৃতসংকল্প৷

ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যৌথ বিদ্যুৎ প্রকল্পের যে কাজটা আটকে আছে ভারতের বহরমপুর ও বাংলাদেশের ভেড়ামারার মধ্যে তা সম্পূর্ণ হয়ে যাবে আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে৷ বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে ভারত যেনতেন প্রকারেণ তা শেষ করতে কৃতসংকল্প৷

তিস্তা চুক্তি, স্থলসীমা চুক্তি, ছিটমহল হস্তান্তর রূপায়নে ভারতের তরফে ব্যর্থতার খেসারত দিতে হতে পারে আগামী ডিসেম্বর মাসের সাধারণ নির্বাচনে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারকে৷ সেটা চিন্তা করে ভারত তৎপর হয়ে উঠেছে দু'দেশের সীমান্ত বরাবর যৌথ বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শেষ করতে৷ চূড়ান্ত তারিখ স্থির হয়েছে অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহ৷ বাংলাদেশে নির্বাচনি তারিখ ঘোষণা এবং নির্বাচনি আচরণবিধি বলবৎ হবার আগেই৷ তাতে অন্তত মুখরক্ষা হবে কিছুটা৷

বিলম্ব হবার কারণ হলো, ভারতের মুর্শিদাবাদ এবং বাংলাদেশের ভেড়ামারার মধ্যে ৭১ কিলোমিটার আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ ট্রান্সমিশন লাইন সময়মত বসানো যায়নি৷ সেই কাজ আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে সম্পূর্ণ করতে ভারতের পাওয়ার গ্রিড কর্পোরেশন কৃতসংকল্প৷

প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং ভেড়ামারায় ঐ সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করবেন৷ পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ পাবে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ৷ এর মধ্যে ২৫০ মেগাওয়াট দেবে কেন্দ্রীয় সরকার বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক কমিশনের নির্ধারিত দামে৷ বাকি ২৫০ মেগাওয়াট বাংলাদেশকে কিনতে হবে ভারতের ইলেকট্রিসিটি মার্কেট থেকে বাজার দামে৷ বিপণনের ব্যবস্থা করবে ভারতের একটি সংস্থা৷ সীমান্তের উভয়দিকে ৪০০ কেভি লাইন ইতিমধ্যেই বিদ্যুতায়িত করা হয়েছে৷

Symbolbild- Proteste in Pakistan Elektrizitätsknappheit

তিস্তা চুক্তি, স্থলসীমা চুক্তি, ছিটমহল হস্তান্তর রূপায়নে ভারতের ব্যর্থতার খেসারত দিতে হতে পারে আওয়ামী লীগ সরকারকে

ভেড়ামারা-বহরমপুর অংশে ট্রান্সমিশন টাওয়ার বসানোর কাজটা আটকে থাকার দরুণ হাই ভোল্টেজ বিদ্যুৎ চালু করার কাজটা গত আগস্টে করা সম্ভব হয়নি৷ আসলে টাওয়ার বসানোর জায়গাটা ছিল ব্যক্তিগত মালিকানাধীন৷ পাওয়ার গ্রিড কর্পোরেশন বিদ্যুৎ আইনবিধির ১৬৪ ধারা বলে সেই জমি অধিগ্রহণ করতে পারতো৷ কিন্তু তার জন্য রাজ্য সরকাকের অনুমোদন দরকার৷ পঞ্চায়েত ভোটের সময় মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তৃণমূল সরকার বলা বাহুল্য তাতে বাদ সাধতো৷ সেটা যাতে কোনো রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে না দাঁড়ায়, তার জন্য যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করা হয়৷ খোদ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বন্দোপাধ্যায়কে ব্যক্তিগতভাবে যাতে জড়ানো না হয় সেদিকেও দৃষ্টি রাখা হয়৷ আপোষ-মীমাংসার পথ নেয়া হয়৷

ট্রান্সমিশন টাওয়ার বসানোর জায়গার মালিককে প্রথমে ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব দেয়া হয়৷ কিন্তু জায়গার মালিক এক কোটি টাকা চেয়ে বসে৷ সেটা দেয়া সম্ভব নয় বলে পঞ্চায়েত ভোট শেষ হওয়া অবধি অপেক্ষা করা হয়৷ তারপর ভারতের পাওয়ার গ্রিড কর্পোরেশন আইন বলে সেই জায়গা অধিগ্রহণ করে নেয়৷ রাজ্য সরকার তাতে সহযোগিতা করে৷

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের আর্থিক প্রবৃদ্ধির হার গত পাঁচ বছরে গড়ে ৬ শতাংশ৷ আগামী দিনেও তা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করা হয়৷ কিন্তু বড় বাধা বাংলাদেশে বিদ্যুতের অভাব৷ জনসংখ্যার ৫০ শতাংশের কাছে বিদ্যুত পৌঁছায়নি৷ বিদ্যুতের অভাব পূরণে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে, বিশেষ করে অরুণাচলপ্রদেশের রূপায়নযোগ্য জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অংশীদার হবার প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ৷ যৌথ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের এক তালিকাও পাঠিয়েছে তারা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়