1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ হারানোর শঙ্কা

ঈদের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি চরম সংঘাতময় আকার ধারণ করতে পারে৷ অক্টোবরের পর পরিস্থিতি চলে যেতে পারে রাজনৈতিক দলগুলোর নিয়ন্ত্রণের বাইরে৷ কারণ, অক্টোবরে সংসদ ভেঙে দেয়া হলে সংবিধান সংশোধনের আর সুযোগ থাকবে না৷

সরকার নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সংলাপের কথা এখন আর বলছে না৷ তারা জানিয়ে দিয়েছে যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর ফিরে আসবে না৷ নির্বাচন হবে সংবিধানের অধীনে৷ আর এই নির্বাচনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অক্টোবর মাসে সংসদ ভেঙে দেয়ার কথাও বলেছেন৷ এছাড়া, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ঢাকায় জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন ইতিমধ্যেই৷ বলেছেন দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন যাতে হয়, তার প্রস্তুতি নিতে৷

ওদিকে, প্রধান বিরোধী দল নির্বাচনের জন্য নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে অনড় আছে৷ তাদের কথা, দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না৷ তবে এখন খালেদা জিয়া এগিয়ে গেছেন সংলাপের জন্য৷ তিনি সরকারকে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থার জন্য সংলাপ আয়োজনের অনুরোধ করেছেন৷ তা না হলে ঈদের পর তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবেন বলে জানিয়েছেন তিনি৷

সুশাসনের জন্য নাগরিক বা সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার ডয়চে ভেলেকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেহেতু অক্টোবরে সংসদ ভেঙে দেয়ার কথা বলেছেন, তাই ধরে নেয়া যায় যে এ বছরেই নির্বাচন হচ্ছে৷ নির্বাচনের আর তেমন দেরি নেই৷ কিন্তু নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে যে সংকট চলছে তার সামাধান এর আগেই করতে হবে৷ আর তা করতে হবে অক্টোবর, মানে সংসদ ভেঙে দেয়ার আগেই৷ কারণ সংকট নিরসনে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন পড়লে সংসদ ভেঙে দেয়ার পর তার আর কোনো সুযোগ থাকবে না৷ তখন হয়ত বিরোধী দল রাজপথেই সমাধান খুঁজতে চাইবে৷ বলা বাহুল্য, রাজপথের সমাধানে রক্তপাত হতে পারে৷ তাই তিনি মনে করেন, এরকম অবস্থার সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে৷

অপরদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, খালেদা জিয়া সংলাপের কথা বলছেন সম্ভবত সংঘাত এড়াতে৷ তাছাড়া সরকার হয়ত দেখতে চাইছে বিরোধী দল কতটা চাপ সৃষ্টি করতে পারে৷ ফলে এখনো বলা যায় না নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে শেষ পর্যন্ত কি হবে৷ যে যার মতো হিসেব করছে৷ আর এই হিসেব করতে গিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার রূপরেখা প্রকাশ যত দেরি হবে, রজনৈতিক সংঘাত তত বাড়বে৷

ইমতিয়াজ আহমেদের কথায়, ঈদের পর স্বাভাবিক কারণেই বিরোধী দল কঠোর আন্দোলনে যাবে৷ আর সরকারি দল চাইবে তা মোকাবেলা করতে৷ সেই সময়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কী ভূমিকা নেয় – তাও খুব গুরুত্বপূর্ণ৷ তাঁর মতে, সামনের জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনীতির ক্রান্তিকাল শুরু হচ্ছে কয়েক সপ্তাহ পরেই৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন