1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে কি পরিবর্তন আসছে?

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম মনে করেন, রাশিয়ার সঙ্গে ক্রাইমিয়ার একীভূত হওয়ার বিরোধিতা করে সাধারণ পরিষদের প্রস্তাবে ভোট না দিয়ে বাংলাদেশ যথার্থ কাজ করেছে৷ যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য এর তীব্র সমালোচনা করেছে৷

Russland Krim Ukraine Truppen Militärlager in Gvardeiskoye Panzer

অশান্ত ক্রাইমিয়া...

রাশিয়ার সঙ্গে ক্রাইমিয়ার একীভূত হওয়াকে স্বীকৃতি না দিতে গত শুক্রবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব আনা হয়৷ প্রস্তাবের পক্ষে ১০০টি এবং বিপক্ষে ১১টি দেশ ভোট পড়ে৷ চীন, ভারত ও বাংলাদেশ সহ ৫৮টি দেশ এই ভোটদানে বিরত থাকে৷ ভোটাভুটিতে ভোটদানে বিরত থেকে বিশ্বের সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ যোগ না দেওয়ায় সোমবার দুঃখ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র৷ ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মোজেনা প্রকাশ্যেই বাংলাদেশের ভূমিকার সমালোচনা করেন৷ অন্যদিকে ভোটদানে বিরত থাকায় এর এক দিন আগে, অর্থাৎ রবিবার, বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানায় রাশিয়া৷ ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভূমিকা কোন দিকে যাচ্ছে, এর ফল কী হতে পারে – তা নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে আলোচনা হচ্ছে৷

এই অবস্থায় মঙ্গলবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বাংলাদেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন৷ তিনি তাঁর দপ্তরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘‘রাশিয়ার সঙ্গে ক্রাইমিয়ার একীভূত হওয়ার বিরোধিতা করে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রস্তাবে ভোট না দিয়ে বাংলাদেশ যথার্থ ভূমিকা নিয়েছে৷ এ অবস্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশ পররাষ্ট্রনীতি থেকে বিচ্যুত হয়নি৷'' তিনি বলেন, ‘‘জি-৭৭ ও জোট নিরপেক্ষ দেশের সদস্য হিসেবে কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমরা কারও পক্ষে অবস্থান নেই না৷ কাজেই এ নীতি থেকে আমরা সরে আসিনি৷ তাই আমরা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভোটদানে বিরত থেকেছি৷''

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার অবস্থানের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘‘বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে কোন দেশ খুশি হলো, কিংবা কোন দেশ নাখোশ হলো তা নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই৷''

ওদিকে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্ট্যাডিজ-এর প্রধান মেজর জেনরেল (অব.) এম মুনীরুজ্জামান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ক্রাইমিয়া ইস্যু নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে একটি মেরুকরণ স্পষ্ট হচ্ছে৷ আর বাংলাদেশ রাশিয়া এবং ভারতের দিকে ঝুঁকছে৷ কিন্তু বাংলাদেশের প্রচলিত পররাষ্ট্রনীতি অ্যামেরিকা ও ইউরোপমূখী৷ বাংলাদেশ একটি ছোট দেশ হয়েও আরেকটি ছোট রাষ্ট্রের অখণ্ডতার পক্ষে অবস্থান নেয়নি, যা নতুন করে ভাববার বিষয়৷''

তিনি বলেন, ‘‘অ্যামেরিকা এরই মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখালেও বাংলাদেশের এই অবস্থানকে ইউরোপ এবং অ্যামেরিকা কিভাবে নেবে তা বুঝতে আরো কিছুটা সময় লাগবে৷'' তাঁর মতে, ‘‘এর ফলে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক এবং সমন্বিত সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে৷ বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রধাণত ইউরোপ-অ্যামেরিকার সঙ্গে৷ তাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে৷ বিশেষ করে, জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে ক্রাইমিয়া নিয়ে বাংলাদেশের ভূমিকা নেতিবাচক অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করেন তিনি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়