1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ব্লগ

বাংলাদেশের ‘ডাবলসেঞ্চুরি' অবাক হয়ে দেখবে সবাই

প্রথম আর শততম টেস্টের মাঝে বাংলাদেশ এমন একটা কাজ করে ফেলেছে, যা আর কেউ পেরেছে বলে মনে হয় না৷ তখন দেশের বাইরে নিয়মিতই শুনতে হতো সমালোচনা আর তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য৷ এখন সব সমালোচক যেন দেশেই৷

প্রথম টেস্টের পর থেকেই কোনো দেশকে নিয়ে ‘ধন্য ধন্য' পড়ে গেছে, এমন অবশ্য কখনো হয়নি, সম্ভবত হবেও না৷ এখন যাঁরা ক্রিকেট দুনিয়ার কেউকেটা, তাদের নিয়ে কত কাহিনি ইতিহাসে লেখা৷ প্রথম দিকে তাদেরও কত তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য সইতে হয়েছে৷ এই মুহূর্তে ভারতের সর্বনিম্ন টেস্ট স্কোর নিয়ে মজার একটা গল্প মনে পড়ছে৷ গল্পটি যদিও ৪৩ বছর আগের, কিন্তু সে এত হাস্যকর যে মনে পড়লে এখনো ভীষণ হাসি পায়৷

১৯৭৪ সাল৷ ইংল্যান্ড সফরে গেছে ভারত৷ ওল্ড ট্রাফোর্ডে প্রথম টেস্টটা ১১৩ রানে জিতল ইংল্যান্ড৷ লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্ট জিতে সিরিজে ফিরবে কি, উল্টো মহালজ্জায় ডুবল ভারত৷ ইংল্যান্ডের ৬২৯ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে টেনেটুনে ৩০২ রান৷ ফলো অন করায় তৃতীয় দিনেই শুরু দ্বিতীয় ইনিংস৷ দিন শেষে ভারতের স্কোর বিনা উইকেটে ২৷ তখন আবার টেস্ট ম্যাচে একদিনের বিশ্রাম থাকতো৷ তো বিশ্রাম নিয়ে-টিয়ে একদিন পরে আবার শুরু হলো সুনীল গাভাস্কার, ফারুক ইঞ্জিনিয়ার, অজিত ওয়াড়েকর, গুন্ডাপ্পা বিশ্বনাথের মতো তারকাসমৃদ্ধ ভারতীয় দলের ব্যাটিং৷

শুরু হতে-না-হতেই মাত্র ৪২ রানে তারা অল আউট৷ পরেরদিন একতরফা ওই ম্যাচ নিয়ে ব্রিটেনের এক দৈনিকে একটা কার্টুন ছাপা হলো৷ এক দর্শক ভারতের উদ্বোধনী জুটিকে মাঠে নামতে দেখে ভেবেছিলেন, ‘‘প্রশ্রাব করে একটু হালকা হয়ে এসে মজা করে ব্যাট-বলের লড়াই দেখি...৷'' কিন্তু প্রশ্রাব সেরে এসে দেখেন ভারত অল আউট! খেলা শেষ! কার্টুনে তো আর সব ঠিকঠাক থাকে না৷ তবে এটা ঠিক, ম্যাচ শেষে সেদিন অনেক দর্শক টিকেটের টাকা ফেরত চেয়েছিলেন৷

১৯৭৪ সালের ওই ম্যাচ অবশ্য সেটা ভারতের প্রথম বা প্রথম দিকের টেস্টও নয়৷ তবু ওই ম্যাচের কথা বললাম, কারণ, এখন যেমন টেস্ট ম্যাচে সাকিব-তামিমদের ব্যাটিংযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, সেই ম্যাচের পরে সুনীল গাভাস্কার, ফারুক ইঞ্জিনিয়ার, অজিত ওয়াড়েকরদের নিয়েও একই প্রশ্ন উঠেছিল৷ তাঁরাও বাজে শট খেলেই উইকেট দিয়ে এসেছিলেন৷ অবাক হয়ে অনেকেই ভেবেছিলেন – টেস্ট ব্যাটিংয়ের অ, আ, ক, খ-ও ভুলে গেলেন ভারতের তারকা ব্যাটসম্যানরা?

ভারত তখনো ওয়ানডে খেলা সে অর্থে শেখেইনি৷ তাই বলার উপায় ছিল না যে, সুনীল গাভাস্কাররা অতিরিক্ত ওয়ানডে খেলার কারণে টেস্ট ম্যাচের উপযোগী ব্যাটিং ভুলে গেছেন৷

সাকিব, তামিমরা ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি – দু'টিই খেলছেন সারা বছর৷ টেস্ট খেলছেন ফাঁকফোকরে৷ বল ছাড়তে ভুলে যাওয়া, অফ স্টাম্পের দু'হাত বাইরের বলও তাড়া করতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেয়া – এ সব তো হবেই৷ হতো না, যদি ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত চার দিনের ম্যাচ খেলার বাধ্যবাধ্যকতা থাকতো৷ দেশে চারদিনের ক্রিকেট বলতে গেলে হয়ই না, বর্তমান বা আগামীর সাকিব, তামিম, সৌম্যরা টেস্ট ম্যাচের জন্য তৈরি হবেন কী করে?

কিন্তু এখনো হয় না বলে ভবিষ্যতেও হবে না? হবে হয়তে৷ চলুন স্বপ্নের ভেলায় চড়ে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ডাবল সেঞ্চুরি, অর্থাৎ দু'শ'তম টেস্ট পর্যন্ত এগিয়ে যাই৷

আশীষ চক্রবর্ত্তী

আশীষ চক্রবর্ত্তী, ডয়চে ভেলে

ধরুন, ততদিনে ক্রীড়া সাংবাদিকরা এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, আর শুধু বোর্ডের সমালোচনা নয়, নিজেদের দায়-দায়িত্বও স্মরণে রেখে প্রতি দিনের আয়োজনে বড় পরিসরের ক্রিকেটকেও টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে-র মতো গুরুত্ব দেয়া হবে৷

ধরা যাক, তখনকার বিসিবি সভাপতি একেবারেই বাচাল বা প্রচারকাঙাল নন৷ ধরা যাক, ততদিনে বিসিবি ভাষণ-তোষণ ছেড়েছে আর স্বল্প পরিসরের ম্যাচের সাফল্যে তৃপ্তির ঢেঁকুড় তুলে তুলে ক্লান্তও হয়েছে৷ ক্লান্তি ভুলতে ঘরোয়া ক্রিকেটকে ঢেলে সাজিয়ে ত্রিমাত্রিকতা দিয়েছে৷ সব বিভাগীয় শহর তো বটেই, অজপাড়াগাঁয়েও লিগ হচ্ছে৷ বিসিবির পাশাপাশি কয়েকজন সাবেক ক্রিকেটারও খালেদ মাসুদ পাইলটের মতো অ্যাকাডেমি গড়েছেন৷ অ্যাকাডেমিগুলো থেকে নিয়মিত বেরিয়ে আসছে নতুন নতুন ক্রিকেটার৷ পাইপলাইনে ক্রিকেটারের অভাব নেই৷ ফলে টি-টোয়েন্টি আর ওয়ানডে দল গড়েও ৭-৮ জন অন্তত এমন থাকেই যারা প্রকৃত অর্থেই লঙ্গার ভার্সন ক্রিকেট স্পেশালিস্ট৷

এবং ধরা যাক, ২০৩৪ সালের এমন সময়েই টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের ডাবল সেঞ্চুরির ম্যাচ খেলছে বাংলাদেশ৷ কাকতালীয়ভাবে অভিষেক টেস্টের মতো সেই ম্যাচেও বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত৷ ৩৪ বছরে টেস্ট ম্যাচে বেশ হাত পাকানো বাংলাদেশ ম্যাচটা জিতে গেল! তখন সুকান্তের ওই কবিতাটা মনে পড়বেই, ‘‘সাবাস বাংলাদেশ, এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়...৷''

আশীষ চক্রবর্ত্তীর লেখা আপনাদের কেমন লাগলো? জানান আমাদের, লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়