1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

বাংলাদেশের জন্য বৃষ্টির পানিই যে ‘আইসবার্গ’

‘আইসবার্গ’, অর্থাৎ হিমশৈল থেকে এক ধরণের ‘বিয়ার’ তৈরি হচ্ছে ক্যানাডার উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের নিউফাউন্ডল্যান্ডে৷ সেখানে বরফের কমতি নেই৷ তাই সমস্যা নেই সেই বরফ গলা বিশুদ্ধ জল ভিন্নভাবে ব্যবহার করা নিয়ে৷ কিন্তু বাংলাদেশে?

বাংলাদেশের মতো বিশুদ্ধ পানীয় জল বিশ্বের অনেক দেশেই দুষ্প্রাপ্য৷ এই যেমন দূষণের কারণে সেখানকার নলকূপগুলোর পানিতে রয়েছে আর্সেনিকের সমস্যা৷ সত্তরের দশকে প্রায় ৪০ লাখ কূপ বসানো হয়েছিল বাংলাদেশে৷ কিন্তু ১৯৯৩ সালে তার মধ্যে বহু কূপের পানিতে আর্সেনিক ধরা পড়ে৷ অর্থাৎ সেই জল পরিণত হয় ‘অপেয়' পানিতে৷

কিন্তু বাংলাদেশে তো বরফ নেই৷ সুতরাং বঙ্গোপসাগরের ‘আইসবার্গ' ধরে পানি সংগ্রহ করার প্রশ্নও ওঠে না৷ তাই তখন ‘গ্রাউন্ডওয়াটার', মানে ভূগর্ভস্থ পানি ছেড়ে ‘সার্ফেস ওয়াটার' বা ভূপৃষ্ঠের পানিতে ফিরতে হয় মানুষকে৷

এরপর ২০০৪ সালে একবার বলা হয়েছিল যে, বাংলাদেশের ৯৮ শতাংশ মানুষ ‘উন্নততর' পানির উৎসের সঙ্গে যুক্ত৷ একটি নিম্ন আয়ের দেশের পক্ষে এহেন একটা পরিসংখ্যান সত্যিই চমকপ্রদ৷ কিন্তু তারপর আবারো সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে সেই ‘আর্সেনিক' সমস্যা৷

ঢাকার পানি সরবরাহের ৮২ শতাংশ অবশ্য আসে গ্রাউন্ডওয়াটার থেকে; সেই ভূগর্ভস্থ পানি আর্সেনিক মুক্ত৷ কিন্তু এক্ষেত্রে সমস্যা রাজধানীর জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শহরের সম্প্রসারণ এবং পানির ব্যবহার৷ বিশেষজ্ঞরা জানান, ঢাকার নীচে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বছরে দুই থেকে তিন মিটার নেমে যাচ্ছে৷ বলতে কি, শহরটির ভূগর্ভস্থ পানির উচ্চতা গত চার দশকে ৫০ মিটার নেমে গেছে৷ অর্থাৎ, আজ পানি পেতে হলে অন্তত ৬০ মিটার মাটি খুঁড়তে হবে৷

প্রশ্ন হলো, তাহলে ঢাকা তথা বাংলাদেশে বিশুদ্ধ পানীয় জলের সন্ধান কি একেবারেই মিলবে না?

বাংলাদেশে ডিপ টিউবওয়েল বসিয়ে ইলেকট্রিক পাম্প দিয়ে সেচের জল তোলাটা সাধারণ ব্যাপার৷ সরকার একবার পরিকল্পনা করছিল, সেই পানি পানীয় জল হিসেবে বিক্রি করা যায় কিনা৷

আবার ছোটখাটো কারখানার জন্যও সেই পানি বিক্রি করা যেতে পারে৷ আসলে পানি ব্যাপারটা সার্বজনীন: পানি সকলের প্রয়োজন; পানির উৎস আছে, তেমন ব্যবহারও আছে; আর আছে ময়লা পানি এবং পানির দূষণ৷ সর্বক্ষেত্রেই প্রয়োজন পরিবর্তন ও সচেতনতার৷

যেমন বাংলাদেশের জন্য বৃষ্টির পানিই কিন্তু ‘আইসবার্গ' হয়ে উঠতে পারে৷ অঞ্চলভেদে এখানে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের হার ২০০-২৫০ বিলিয়ন কিউবিক মিটার৷ এর মধ্যে উপকূল ও পাহাড়ি অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি৷ এ সব অঞ্চলে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করলে সুফল দেবে বৈকি!

এই পানি ধরে রাখা বা সংরক্ষণ করা গেলে, তা থেকেই সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা যেতে পারে৷ পানি বিশেষজ্ঞ ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘‘বাংলাদেশে বছরে সুপেয় পানির চাহিদা ১৬০ বিলিয়ন কিউবিক মিটার৷ তাই বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করলে বেশির ভাগ পানির কাজই আমরা সেই পানি দিয়ে করতে পারি৷ মোকাবিলা করতে পারি আর্সেনিক সমস্যারও৷''

বলা বাহুল্য, এক্ষেত্রে বরফ গলানোরও প্রয়োজন নেই৷ কারণ আকাশ থেকে সেটা তো গলেই পড়ছে!

বেসরকারি সংগঠন ‘ওয়াটার এইড বাংলাদেশ' বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েট-এর সহযোগিতায় সেরকমই একটা কাজ শুরু করেছে৷ তবে এর জন্য যে আরো সচেতনতা, পানির আরো সদ্ব্যবহার প্রয়োজন৷

অরুণ শঙ্কর চৌধুরী/ডিজি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়