1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

বাংলাদেশেও পরিবেশবান্ধব হাইব্রিড গাড়ি

গাড়ি তৈরির প্রযুক্তি এখন দু’টি বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে৷ প্রথমত, কত কম জ্বালানি খরচ করবে, দ্বিতীয়ত, এ গাড়ি কতটা পরিবেশবান্ধব৷ পরিবেশ দূষণের দিক থেকে ভয়ংকর অবস্থায় থাকা ঢাকায় নামানো হচ্ছে হাইব্রিড গাড়ি৷

বাংলাদেশের রাজধানী শহরের পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ গাড়ির কালো ধোঁয়া৷ তাই পরিবেশ রক্ষার বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে চালু হয়েছে সিএনজি জ্বালানি৷ কালো ধোঁয়া ছাড়ে এমন পুরোনো বাহন খুব বেশি না হলেও কিছুটা কমেছে৷ তবে গাড়ির সংখ্যা বেড়েই চলেছে৷ তাতে দূষণ কমানোর উদ্যোগ কাঙ্খিত লক্ষ্যের দিকে প্রত্যাশা অনুযায়ী এগোতে পারছে না৷ তাই যানবাহনের ধোঁয়া থেকে ঢাকাকে মুক্ত করতে সবার আগে দরকার পরিবেশবান্ধব গাড়ি৷ হাইব্রিড গাড়ি পরিবেশবান্ধব৷

হাইব্রিড প্রযুক্তি

হাইব্রিড প্রযুক্তি মানেই হলো, একাধিক বিকল্প পদ্ধতির সুসমন্বয়৷ হাইব্রিড গাড়িতে বিকল্প একাধিক প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হয় জ্বালানি ব্যবহারের কাজে৷ এ ধরনের গাড়ি একাধিক জ্বালানিতে চালানো যায়৷

Toyota Produktion in Japan

তৈরি হচ্ছে হাইব্রিড গাড়ি

হাইব্রিড গাড়িতে পেট্রোল বা ডিজেল ইঞ্জিন তো থাকেই, সঙ্গে আরো থাকে এক বা একাধিক ইলেকট্রিক মোটর এবং ব্যাটারির সংযোগ৷ জ্বালানি দিয়ে গাড়ি চলতে শুরু করলে আপনাআপনি ব্যাটারি চার্জ হয়৷ উচ্চ টর্ক সম্পন্ন বৈদ্যুতিক মোটর ইঞ্জিনে গাড়ি চলতে থাকে৷ সুবাদে জ্বালানির সাশ্রয় হয়, জ্বালানি শেষ হলে গাড়ি ব্যাটারিতেই চলতে পারে৷ হাইব্রিড গাড়িতে পেট্রোল ইঞ্জিনের সঙ্গে থাকে একটি ইলেকট্রিক মোটর৷ উচ্চ টর্কের জন্য এ ধরনের মোটরের সুখ্যাতি রয়েছে৷ দ্রুত গতিতে চালাতে চাইলে গাড়িতে এই মোটর থাকা ভালো৷

ঢাকার রাস্তায় হাইব্রিড গাড়ি

বাংলাদেশেও এসে গেছে পরিবেশবান্ধব হাইব্রিড গাড়ি৷ এসেছে হন্ডা কোম্পানির তৈরি করা হাইব্রিড গাড়ি৷ বাংলাদেশে এ গাড়ির পরিবেশক ডিএইচএস মোটরস৷ তারা জানিয়েছে, বাংলাদেশে আমদানি করা হন্ডা সিভিক হাইব্রিড গাড়িতে রয়েছে ১.৩ লিটারের ৩ স্তরের আই-ভিটিইসি ইঞ্জিন৷ ইঞ্জিনটি ইন্টিগ্রেটেড মোটর অ্যাসিস্ট (আইএমএ) সিস্টেমের সমন্বয়ে তৈরি বলে চালু হবার সময় এটি পেট্রোল ইঞ্জিনেই চলবে৷ গাড়ি থামালে বা ব্রেক কষলে পেট্রোল ইঞ্জিন বন্ধ হবে৷ ফলে তেল খরচ কমবে৷ প্রতি একশ' কিলোমিটারে খরচ হবে মাত্র ৪.৬ লিটার তেল৷

হন্ডা সিভিকের হাইব্রিড পাওয়ার প্ল্যান্ট

এতে রয়েছে ১.৩ লিটার পর্যায়ের চার সিলিন্ডারের ইঞ্জিন৷ সঙ্গে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড মোটর অ্যাসিস্ট (আইএমএ) সিস্টেম যা কিনা গাড়ি চলতে শুরু করার সময় পেট্রোল ইঞ্জিনকে কাজে লাগায়৷ হন্ডা সিভিকের ইলেকট্রিক মোটর বাড়তি শক্তি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম৷ বৈদ্যুতিক মোটরের জন্য শক্তি ধরে রাখার কাজ করে নিকেল-মেটাল হাইড্রাইড ব্যাটারি প্যাক, যা ১৮০০ সিসি ইঞ্জিনের সমান ক্ষমতাসম্পন্ন৷

হন্ডা সিভিকের হাইব্রিডে রয়েছে একটি ডুয়াল স্ক্রল হাইব্রিড এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম, যা শক্তি সরবরাহের পাশাপাশি দু'টি এয়ার কন্ডিশনিং কমপ্রেসারও পরিচালনা করে৷ এর ফলে পেট্রোল ইঞ্জিনের ওপর চাপ কম পড়ে৷ স্বাভাবিক আবহাওয়ায় ইঞ্জিনচালিত কমপ্রেসারটি শীততাপ নিয়ন্ত্রকের কাজ করে৷

আইএমএ ব্যাটারি

হোন্ডা সিভিকের হাইব্রিড গাড়ির ব্যাটারি স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিচার্জ হয়৷ গাড়ির আয়ুর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে এই আইএমএ ব্যাটারি৷ সুতরাং গাড়ির মেয়াদ ফুরানোর আগে ব্যাটারি বিকল হয়না৷ তবে এই গাড়ি চালাতে পেট্রোল দরকার, কারণ অল্প গতিতে চলার সময়ই শুধু গাড়িটি বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যবহার করে৷ দ্রুত চালালে পেট্রোল লাগে৷

কম জ্বালানিতে অনেক দূর

হোন্ডা সিভিকের এই হাইব্রিড গাড়ি এক লিটার জ্বালানিতে ২১.৭৪ কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে পারে৷ সারা বিশ্বে হন্ডা সিভিক হাইব্রিড গাড়িই সবচেয়ে কম গ্যাস নিঃসরণ করে৷

এসিবি/ এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন