1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ইউরোপ

বাংলাদেশি বহিষ্কারের মামলায় হেরে এক ধনাঢ্যের ওপর নাখোশ তিনি

তিনি হচ্ছেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অর্বান৷ আর ধনী ব্যক্তিটি হচ্ছেন বিশ্বের ২৯তম শীর্ষ ধনী জর্জ সরস৷ হাঙ্গেরিতে জন্ম নেওয়া সরস দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পরিবারের সঙ্গে পালিয়ে ব্রিটেন হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান৷

Ungarn Grenze Migranten 15.09.2015 (Reuters/L. Balogh)

২০১৫ সালে হাঙ্গেরি-সার্বিয়া সীমান্ত থেকে তোলা ছবি

ডানপন্থি ও পপুলিস্ট নেতা অর্বানের সরকার গত সপ্তাহে ‘ইউরোপিয়ান কোর্ট অফ হিউম্যান রাইটস’-এ একটি মামলায় হেরে যায়৷ হাঙ্গেরি সরকারের বিরুদ্ধে মামলাটি করেছিল ‘হাঙ্গেরিয়ান হেলসিংকি কমিটি’ নামের একটি মানবাধিকার সংগঠন৷ তাদের অভিযোগ ছিল, হাঙ্গেরির সরকার অবৈধভাবে দুই বাংলাদেশিকে আটকে রেখে পরে বহিষ্কার করেছে৷

এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী অর্বান এক রেডিও সাক্ষাৎকারে এর জন্য সরাসরি জর্জ সরসকে দায়ী করেন৷ কারণ অভিযোগকারী ‘হেলসিংকি কমিটি’ সরসের দাতব্য সংস্থা ‘ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন’ বা ওএসএফ-এর কাছ থেকে তহবিল গ্রহণ করে৷ রেডিও সাক্ষাৎকারে অর্বান বলেন, ‘‘এটি (রায়) মানব পাচারকারী, ব্রাসেলসের কর্মকর্তা আর হাঙ্গেরিতে কাজ করা বিদেশি অর্থে পরিচালিত একটি সংস্থার কারসাজি৷'' তবে পরের কথায় সরাসরি সরসের নামই উল্লেখ করেন তিনি৷ ‘‘স্পষ্ট করে বললে জর্জ সরস এই তহবিল দিয়েছেন৷’’

কে এই সরস?

Bulgarien George Soros, Gründer der Organisation Open Society (BGNES)

জর্জ সরস

১৯৩০ সালে হাঙ্গেরিতে এক ইহুদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি৷ নকল নথিপত্রের সহায়তা নিয়ে জার্মানির নাৎসি সরকারের হাত থেকে রেহাই পেয়েছিল তাঁর পরিবার৷ এরপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটেনে চলে যান তাঁরা৷ সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্র৷ ফোর্বস বলছে, সরসের বর্তমান সম্পদের পরিমাণ ২৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার৷ ওএসএফ-এর ওয়েবসাইট বলছে, দাতব্য খাতে সরস এখন পর্যন্ত ১২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি খরচ করেছেন৷ একশটিরও বেশি দেশে কাজ করা ছোট এনজিও ও দাতব্য সংস্থাকে অর্থ সহায়তা দিয়ে থাকে ওএসএফ৷ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মুক্তচিন্তা, মানবাধিকার, আইনের শাসন নিয়ে কাজ করা এনজিওদের তহবিল দেয় সরসের প্রতিষ্ঠান৷

নাখোশ পূর্ব ও মধ্য ইউরোপের দেশ

সরসের কাজে সন্তুষ্ট নয় হাঙ্গেরি সহ ম্যাসেডোনিয়া, রোমানিয়া ও পোল্যান্ডের সরকার৷ ম্যাসেডোনিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী নিকোলা গ্রুয়েভস্কি তাঁর পরিণতির জন্য সরসকে দায়ী করেন৷ গত জানুয়ারিতে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘‘সরস ম্যাসেডোনিয়ার এনজিওগুলোকে আধুনিক সামরিক বাহিনীতে পরিণত করেন৷ এই কাজ তিনি শুধু ম্যাসেডোনিয়ায় নয়, অন্যান্য দেশেও করছেন৷’’

রোমানিয়ার শাসক দল সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটের এক নেতা লিভিয়ু ড্রাগনি বলেন, সরসের ফাউন্ডেশন ১৯৯০ সাল থেকে রোমানিয়ার শত্রুদের অর্থ সহায়তা দিয়ে আসছে৷

তবে সরসের প্রতিষ্ঠান ওএসএফ-এর প্রেসিডেন্ট ক্রিস স্টোন রয়টার্সকে বলেন, ‘‘আপনি গণতন্ত্র রপ্তানি করতে পারেন না৷ এটা শুধু আমদানি করা যায়, এবং তারপর স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে সেটাকে খাপ খাইয়ে নিতে হয়৷’’

শরণার্থীদের সহায়তা

২০১৫ সালে ইউরোপে যখন শরণার্থীদের ঢল নেমেছিল সেই সময় এক বিবৃতিতে শরণার্থীদের কল্যাণে কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছিল ওএসএফ৷ বিবৃতিতে শরণার্থীদের নিয়ে হাঙ্গেরির সরকারের পদক্ষেপের সমালোচনা করা হয়েছিল৷ ‘‘হাঙ্গেরিতে যে সংকট দেখা দিয়েছে তা ইউরোপের মূল্যবোধ রক্ষায় ব়্যাডিক্যাল পপুলিস্ট সরকার থাকার বিপদের কথা মনে করিয়ে দেয়,’’ সেই সময় বিবৃতিতে বলেছিল ওএসএফ৷ উল্লেখ্য, শরণার্থীরা যেন ইউরোপে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য হাঙ্গেরি সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করেছিল

বাংলাদেশি বহিষ্কারের ঘটনায় ইউরোপীয় কোর্টে হারার পর হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী অর্বান সরসের উপর নাখোশ হওয়ার পাশাপাশি একটি নতুন আইনের প্রস্তাব করেছেন৷ বিদেশি সহায়তা নিয়ে হাঙ্গেরিতে কাজ করা সব এনজিও-র নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি৷ পূর্ব ইউরোপের মধ্যে হাঙ্গেরিই প্রথম দেশ হিসেবে এনজিওদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার উদ্যোগ নিল৷

ঠিক এইরকম আইন বছর দুয়েক আগে রাশিয়াতে পাস হয়েছে৷ এছাড়া এনজিওদের বিরুদ্ধে পুটিন সরকারের নেয়া কঠোর পদক্ষেপের কারণে সেই সময় রাশিয়া থেকে সরসের প্রতিষ্ঠানকে বের হয়ে যেতে হয়েছিল৷

জেডএইচ/ডিজি (রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন