1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণের সমকামী বিয়ে ও ‘ইনভিজিবল মাইনরিটি'

যুক্তরাজ্যে সমলিঙ্গের সঙ্গীর সঙ্গে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক মুসলিম তরুণের বিয়ে হয়েছে৷ বিভিন্ন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জানায়, ব্রিটিশ মুসলিম জনগোষ্ঠীতে এটিই প্রথম সমকামী বিয়ের ঘটনা৷ এই বিয়ের ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশেও আলোচনা হচ্ছে৷

Australien Symbolbild Homoehe (Getty Images/AFP/T. Blackwood)

প্রতীকী ছবি

দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের ওয়ালসালে শহরের বিবাহ নিবন্ধন কার্যালয়ে বন্ধু-স্বজনদের উপস্থিতিতে বিয়ে করেন জাহেদ চৌধুরী ও সেয়ান রোগান৷ জাহেদ চৌধুরীর বয়স ২৪ বছর৷ রোগান ১৯ বছরের তরুণ৷

বাংলাদেশি বাবা-মা আর তিন ভাই-বোনের সঙ্গে ইসলাম বিশ্বাসী পরিবারে বেড়ে ওঠা জাহেদ চৌধুরী জানান, পারিবারিকভাবে ‘কুলাঙ্গার' হিসেবে বেড়ে উঠেছেন তিনি৷ সমকামী হওয়ার কারণে বেড়ে উঠতে হয়েছে অনেকটা একঘরে হয়ে৷ দৈহিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনের চেষ্টায় পরিবার থেকে হজসহ বিভিন্ন ধর্মীয় জমায়েতেও পাঠানো হয় তাকে৷

নানা তিরস্কার, অপমান আর নির্যাতন সইতে না পেরে দুই বছর আগে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন জাহেদ৷ আর তখনই দেখা মেলে রোগানের৷ জাহেদ জানান, তাকে বেঞ্চে বসে কাঁদতে দেখে এগিয়ে আসেন রোগান৷ আত্মহত্যা থেকে তাকে রক্ষা করেন৷ এরপর শুরু হয় দু'জনের একসঙ্গে বসবাস৷

অডিও শুনুন 03:07

‘পুলিশ অনেক সময় সমকামী বা ভিন্নভাবে জীবনযাপনকারীদের সাংবিধানিক অধিকারে আঘাত হানছে’

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ওই তরুণ আরও জানান, ১৫ বছর ধরে যে মসজিদে যেতেন সেখানে তার প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, অন্য মুসলিম বালকরা তাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করতো৷ এমন অবস্থায় পড়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি৷ এরপরই রোগানের সঙ্গে দেখা হয়৷ আর গত জুনে রোগানের জন্মদিনে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন জাহেদ৷

জাহেদ বলেন, ‘‘আমার পরিবারের কেউ কেউ মনে করে এটি একটি রোগ এবং এর থেকে আরোগ্য লাভ সম্ভব৷ কেউ কেউ এখনও মনে করেন এটি গ্রহের দশা৷ আমি মানুষকে বলতে চাই যে, আমি এ সব পরোয়া করি না৷''

তিনি বলেন, ‘‘স্কুলে লোকজন আমার ওপর থুথু দিতো, আবর্জনার বাক্স ছুড়ে মারতো, শূকর বলে গালাগালি দিতো এবং মুসলিম লোকজন ‘হারাম' বলে চিৎকার করতো – যা ছিল খুবই অপমানজনক৷''

এদিকে বাংলাদেশেও এলজিবিটি কমিউনির লোক থাকলেও তারা এখনও ‘ইনভিজিবল মাইনরিটি'৷ বিশেষ করে গত বছরের ২৫ এপ্রিল ঢাকার কলাবাগান এলাকায় সমকামীদের অধিকার বিষয়ক ম্যাগাজিন ‘রূপবান'-এর সম্পাদক জুলহাজ মান্নান ও তাঁর বন্ধু মাহবুব তনয়কে হত্যার পর পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে৷ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি৷ উলটে সমকামীদের বিরুদ্ধে পুলিশ আরো কঠোর অবস্থানে গেছে৷

জুলাহাজ মান্নানসহ দু'জনের হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন আগে গত বছরের ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ, অর্থাৎ বাংলা নববর্ষের দিন ‘রংধনু' র‌্যালি বের করার চেষ্টার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা এলাকা থেকে চারজন সমকমীকে আটক করে পুলিশ৷ তাঁদের র‌্যালিও করতে দেওয়া হয়নি৷

চলতি বছরের ১৯ মে ভোররাতে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জের আটিবাজার ছায়ানীড় কমিউনিটি সেন্টার থেকে ২৭ জন সমকামীকে আটক করে৷ তাঁরা ওই কমিউনিটি সেন্টারে একত্রিত হয়েছিলেন৷ পরে তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দিয়ে তাদের পুলিশ রিমান্ডেও নেয়া হয়৷

জুলহাজ মান্নানসহ দু'জনকে হত্যার আগে বাংলাদেশে এলজিবিটি কমিউনিটির কিছু কার্যক্রমের খবর পাওয়া যেত৷ ২০১৫ সালের জুন মাসে তাঁরা ঢাকায় ঘরোয়াভাবে ‘ধী-এর গল্প' নামে সমকামীদের একটি কমিক স্ট্রিপ প্রদর্শন করেন৷ এর আগেও সমকামীরা ‘রূপবান' নামে একটি ম্যাগাজিন প্রকাশ করেন৷ প্রকাশ করা হয় সমপ্রেমী কবিতার বই ‘রুপঙতি'৷

বাংলাদেশে সমকামীদের সবচেয়ে বড় গ্রুপ ‘বয়েজ অফ বাংলাদেশ' (বিওবি)৷ বাংলাদেশে ‘গে বাংলাদেশ' নামে আরো একটি সমকামী গ্রুপের নাম জানা যায়৷ এই গ্রুপ দু'টি অনলাইন ভিত্তিক৷ তবে তাঁদের এখন আর সক্রিয় দেখা যায়না গ্রুপগুলোতে৷

বাংলাদেশে সমকামীদের নিয়ে গবেষণা হয়েছে৷ এই গবেষণার শিরোনাম ‘ইনভিজিবল মাইনরিটি'৷ এই গবেষণা করেছে নেদারল্যান্ডস ভিত্তিক একটি মানবাধিকার সংগঠন গ্লোবাল হিউম্যান রাইটস ডিফেন্স (জিএইচআরডি)৷ ২০১৫ সালের ১৭ই জুন প্রকাশিত ওই গবেষণাটি করা হয় বাংলাদেশের ৫০ জন সমকামী এবং সমকামী নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে৷ সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে সমকামীদের ব্যাপারে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচক৷ আইনে সমকামিতাকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়৷

প্রতিবেদনে সমকামীরা তাঁদের প্রতি নির্যাতন এবং হুমকির কথাও বলেন৷ বলেন আইনি বৈষম্য এবং মানবাধিকার লংঘনের কথা৷ এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশে সমকামীর সংখ্যা কত, তা বলা হয়নি৷ এছাড়া এ নিয়ে কোনো জরিপের খোঁজও পাওয়া যায়নি৷ তবে জানা গেছে ‘বয়েজ অফ বাংলাদেশ' গ্রপের নিবন্ধিত সদস্য সংখ্যা দুই হাজারেরও বেশি৷ এই গ্রুপের সদস্যরা শিক্ষিত, এমনকি এঁদের মধ্যে পিএইজডি ডিগ্রিধারীও আছেন৷

নানা পর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে, জুলহাজ-তনয় হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশে এলজিবিটি অধিকার সংক্রান্ত তৎপরতা থমকে গেছে৷ তাঁদের ওপর পুলিশের নজরদারি এবং চাপও বেড়েছে৷ যাঁরা সক্রিয় ছিলেন, তাঁদের একাংশ দেশের বাইরে চলে গেছেন৷ আর যাঁরা আছেন, তাঁরা এখন আর প্রকাশ্য কোনো তৎপরতা চালাচ্ছেন না৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বুধবার এলজিবিটি কমিউনিটির একজনকে সাক্ষাৎকারের প্রস্তাব দেয়া হলেও, তিনি বা তাঁর মাধ্যমে কেউ রাজি হননি সাক্ষাৎকার দিতে৷ এ বিষয়ে কথা বলতে তাঁরা যে চাপ এবং ভয়ের মধ্যে আছেন, তা স্পষ্ট৷ তাছাড়া এঁদের সংখ্যাও জানা কঠিন৷ তাঁদের কথা হলো, ‘ইনভিজিবল আইডেনটিটি'-র সংখ্যা নির্ণয় করা যাবে কীভাবে?'

 

তবে ১৯ মে কেরানীগঞ্জে ২৭ জন সমকামীকে আটকের কয়েকদিন পর, এলজিবিটি কমিউনিটির নামে ডয়চে ভেলে বাংলা বিভাগকে পাঠানো এক বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, ‘বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ও রাষ্ট্রযন্ত্র সমকামীদের কলঙ্কিত করছে এবং  নিপীড়ন চালাচ্ছে৷'

বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধরায় সমকামিতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়৷ তবে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও মানবাধিকার কর্মী নূর খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আইনে কী আছে, তা নতুন করে ভেবে দেখার সময় এসেছে৷ আমাদের সামাজিক বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে৷ তবে এটাও মনে রাখতে হবে যে, যৌন জীবনের অধিকার থেকে কাউকে বঞ্চিত করা যায় না৷ আর সেটা আমাদের সমাজে প্রচলিত যৌন জীবন থেকে আলাদাও হতে পারে৷ বিশ্বে এখন পরিবর্তিত চিন্তার দিকে যাচ্ছে৷''

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘আমরা দেখতে পাচ্ছি পুলিশ সমকামীদের সমবেত হতে দিচ্ছে না৷ তাঁদের মত প্রকাশ করতে দিচ্ছে না৷ এটা গ্রহণযোগ্য নয়৷ আইন প্রয়োগের নামে তাঁদের মৌলিক অধিকারগুলোকে বাধাগ্রস্থ করা হচ্ছে৷ যে কোনোভাবেই আইন প্রয়োগ করা হোক না কেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং মত প্রকাশ করতে দিতে হবে সকলকে৷ ব্যভিচার বা অসুস্থতা বলে তাঁদের অধিকার থেকে দূরে রাখার কাজ পৃথিবীতে এখন ক্রমান্বয়ে কমে আসছে৷''

নূর খানের কথায়, ‘‘জুলহাস মান্নানসহ দু'জনকে হত্যার মধ্য দিয়ে জঙ্গিরা বাংলাদেশে তাদের অবস্থান জানান দিয়েছে৷ অন্যদিকে পুলিশ সমকামী বা ভিন্নভাবে জীবনযাপনকারীদের ওপর কোনো কোনো সময় এমন আচরণ করছে, এমন সব পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা একটি গণতান্ত্রিক সমাজে তাঁদের সাংবিধানিক অধিকারের ওপর আঘাত করছে৷

এ বিষয়ে আপনার কোনো মন্তব্য থাকলে লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়