1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

বাংলাদেশকে এখনই সতর্ক হতে হবে

আল কায়েদার নতুন পরিকল্পনায় বাংলাদেশও আছে৷ ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমারে নতুন করে ডানা মেলতে চায় তারা৷ নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন,

নতুন এই জঙ্গি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সতর্কতা ছাড়াও আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজন৷

আল-কায়েদার প্রধান আয়মান আল জাওয়াহিরির ৫৫ মিনিটের এক ভিডিওতে তাদের সংগঠন বিস্তারের যে পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে, তার লক্ষ্য হল ভারত, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারসহ গোটা উপমহাদেশে ৷

জাওয়াহিরি বলেছেন, ভারতীয় উপমহাদেশে জিহাদের পতাকা তুলে আল-কায়েদা ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠা করবে৷ এই অঞ্চলের মুসলিম জনতাকে এক করতে যাবতীয় কাল্পনিক সীমানা তারা মুছে দেবে৷

বৃহস্পতিবার এই ভিডিও প্রচারের পর পরই ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন৷ দেশের গোয়েন্দা প্রধানকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে দু-তিন দিনের মধ্যেই আল-কায়েদার পরিকল্পনা-সংক্রান্ত আরও তথ্য সংগ্রহ করতে৷ দেশের সব রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের সরকারকে সজাগ করে দিয়ে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রয়োজনীয় সব কিছু যেন করা হয়৷

কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের এখনো দৃশ্যমান কোনো প্রতিক্রিয়া বা তৎপরতা নেই৷ নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন, আল-কায়েদার প্রধান আয়মান আল জাওয়াহিরির ভিডিও বার্তাকে হালকাভাবে নেয়ার কোন সুযোগ নেই৷ এটাকে আমলে নিয়ে বাংলাদেশকে জঙ্গি বিরোধী কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে৷

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুর রশীদ (অব.) ডয়চে ভেলেকে বলেন, আল-কায়েদার শক্তি কমে যাওয়ায় তারা নতুন করে অনুসারী বাড়াতে চাইছে৷ বিশেষ করে ইরাকের আইসিস জঙ্গিরা যেভাবে আকর্ষণ সৃষ্টিতে সক্ষম হয়েছে, আল-কায়েদা সে ক্ষেত্রে ব্যর্থ৷ তাই তারা নতুন করে কাজ শুরু করছে৷

তিনি বলেন, তারা জঙ্গি অনুসারী বাড়ানোর পাশাপাশি ভারত, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারসহ উপমহাদেশের সীমানা মুছে দিতে চাইছে৷ এটি তাদের বক্তব্যে একটি নতুন দিক৷ যা তারা মুসলমান তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতে ব্যবহার করতে চাইছে৷

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুর রশীদ বলেন, ‘‘গত ১০ বছরে বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতা তেমন বড় আকারে দেখা না গেলেও আল-কয়েদার অনুসারী ছোট ছোট অনেক জঙ্গি সংগঠন আছে৷ তাদের এক ছাতার নীচে আনার তৎপরতা চালান হতে পারে৷ আর তারা যদি একটি নেটওয়ার্কের অধীনে আসে, তাহলে তা বড় ধরনের হুমকির কারণ হতে পারে৷''

তিনি আরও বলেন, ‘‘বাংলাদেশে মসজিদ, মাদ্রাসা এবং ইসলামি জলসার আড়ালে জঙ্গিরা সক্রিয় আছে৷ একটি গোষ্ঠী এ সবের মাধ্যমে জঙ্গি মতাদর্শ ছড়ায়৷ এ ব্যাপারে সরকারকে সতর্ক হতে হবে৷ বিশেষ করেন ধর্মীয় আলোচনার নামে কেউ যাতে উগ্র-জঙ্গি মতবাদ ছড়াতে না পারে, তার জন্য সুনির্দিষ্ট আইন থাকা প্রয়োজন৷ আর নজরদারির মাধ্যমে এ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে৷'' এর বাইরে জঙ্গি বিরোধী সচেতনতামূলক কর্মসূচি সব সময় সচল রাখার কথা বলেন তিনি৷

তিনি বলেন, এই উপমহাদেশই এখন আল-কায়েদার টার্গেট৷ আর তাদের অনুসারীরাই পুরো উপ মহাদেশেই আছে ৷ তাই জঙ্গি বিরোধী আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রয়োজন৷ এ জন্য তথ্য বিনিময় ছাড়াও কৌশল নির্ধারণে এক দেশ আরেক দেশকে সহায়তা করতে পারে৷ আর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে তথ্য এবং কৌশল জানা উচিত বলে মনে করেন ব্রিগেডিয়ার রশীদ৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়