1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

‘বহিরাগত-বিদ্বেষ হিংসার পথ খুলে দেয়’

জাতিসংঘের মানবাধিকার হাই কমিশনার নাভি পিল্লাই ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাজনীতিকদের ক্রমবর্ধমান প্ররোচনামূলক বাচনভঙ্গির সমালোচনা করে বলেছেন, এর ফলে সহিংসতা ও মানবাধিকার ভঙ্গের পথ প্রশস্ত হচ্ছে৷ বাড়ছে বহিরাগত-বিদ্বেষ৷

default

জাতিসংঘের মানবাধিকার হাই কমিশনার নাভি পিল্লাই

জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের গ্রীষ্মকালীন অধিবেশনের উদ্বোধন উপলক্ষ্যে পিল্লাই বলেন, বহিরাগত-বিদ্বেষী, জাতিবাদী ও ধর্মীয় অসহিষ্ণুতামূলক বাগাড়ম্বরের কারণে ইউরোপে বৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম ব্যাহত হতে পারে৷ পিল্লাই এই ধরনের ‘হেট স্পিচ' বা আক্রোশমূলক বক্তব্যের উদাহরণ দিতেও ভোলেননি৷

পিল্লাই জার্মানির ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি বা এনপিডি দলের সাবেক প্রধান উডো ফয়েগ্ট-এর ইউরোপীয় সংসদে নির্বাচিত হওয়ার কথা বলেন এবং স্মরণ করিয়ে দেন যে, এই ফয়েগ্ট-ই মন্তব্য করেছেন: ‘‘ইউরোপ শ্বেতাঙ্গদের মহাদেশ এবং তার সেটাই থাকা উচিত৷''

NPD Udo Voigt

‘‘ইউরোপ শ্বেতাঙ্গদের মহাদেশ এবং সেটাই থাকা উচিত’’

তার পরই পিল্লাই উল্লেখ করেন ফ্রান্সের ফ্রঁ নাসিনাল বা ন্যাশনাল ফ্রন্ট দলের প্রধান মারিন ল্য পেন-এর কথা, যাঁর দল সাম্প্রতিক ইউরোপীয় নির্বাচনে ২৫ শতাংশ ভোট পেয়ে ফ্রান্স থেকে সর্বাধিক আসন সংগ্রহ করেছে৷ মারিন ল্য পেন মুক্ত প্রাঙ্গণে প্রার্থনারত মুসলিমদের জার্মানির হাতে ফ্রান্সের জবরদখল হওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন৷

অপরদিকে ন্যাশনাল ফ্রন্টের ৮৫-বছর-বয়সি প্রতিষ্ঠাতা – এবং মারিন ল্য পেনের পিতা – জঁ-মারি ল্য পেন সম্প্রতি তাঁর সমালোচকদের ‘‘চুল্লিতে পোরার'' কথা বলে নিজের কন্যার রোষের পাত্র হয়েছেন – কেননা পিতার উক্তির ফলে কন্যার ইউরোপীয় সংসদে উগ্র দক্ষিণপন্থিদের একটি নিজস্ব গোষ্ঠী গঠনের চেষ্টা বিপন্ন হতে পারে৷

তবে পিল্লাই-এর সব মন্তব্যের পটভূমিতে রয়েছে সম্প্রতি ব্রাসেলসের ইহুদি সংগ্রহশালার উপর যে প্রাণঘাতি আক্রমণ চালানো হয়, সেই বিভীষিকা৷ সেখানে গুলি চালায় ২৯ বছর বয়সি মেহদি নেমুশ, যে সিরিয়ায় জিহাদীদের কাছ থেকে সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ পেয়েছিল বলে পুলিশের ধারণা৷ ধ্বনি-প্রতিধ্বনির মতো এভাবেই দু'পক্ষে ঘৃণা ও বিদ্বেষ বেড়ে চলেছে৷

সন্ত্রাসের জবাব যদি অসহিষ্ণুতা হয়, তাহলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচনে ফ্রান্স, ব্রিটেন ও ডেনমার্কে দক্ষিণপন্থি দলগুলির জয় এবং অস্ট্রিয়া, ফিনল্যান্ড ও সুইডেনে দক্ষিণপন্থি দলগুলির বর্ধিত সাফল্যের একটা ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া যায় বৈকি৷ তবে উত্তরটা স্বভাবতই অতটা সহজ নয়৷ স্বদেশে অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে যদি বিদেশ থেকে – এমনকি অপরাপর, দরিদ্রতর ইইউ দেশ থেকে অভিবাসন যুক্ত হয়, তাহলে শুধু কোনো দক্ষিণপন্থি রাজনীতিকের এই অশুভ সংমিশ্রণের সুযোগ নেওয়ার অপেক্ষা৷ সঙ্গে-সঙ্গে জ্বলে ওঠে বহিরাগত-বিদ্বেষ – ও সেই বিদ্বেষে সাধারণ মানুষদের নীরব সমর্থনের আগুন৷ যেমন ইটালির নর্দার্ন লিগ দলের মারিও বোরঘেজি স্বয়ং অভিবাসীদের রাস্তায় পাতা বিছানায় আগুন দিয়েছেন – কিন্তু তা সত্ত্বেও এবার ইউরোপীয় সংসদে নির্বাচিত হয়েছেন৷

ইউরোপীয় কমিশনের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জোসে মানুয়েল বারোসোর মতে, চরমপন্থি মনোভাবগুলি যে পরস্পরের সঙ্গে বিরোধ বাঁধাতে চাইছে, যা শেষমেষ ইউরোপীয় মূল্যবোধের মূলেই কুঠারাঘাত করবে, সেই প্রক্রিয়াটাকে সর্বাগ্রে রোখা প্রয়োজন৷

এসি/ডিজি (ডিপিএ, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন